তেহরানের মসনদে এবার আহমাদিনেজাদ? ট্রাম্পের গোপন পরিকল্পনায় তোলপাড় বিশ্ব!

তেহরানের মসনদে এবার আহমাদিনেজাদ? ট্রাম্পের গোপন পরিকল্পনায় তোলপাড় বিশ্ব!

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনেই নিহত হওয়ার পর তেহরানে ক্ষমতার পালাবদল ঘটাতে এক চমকপ্রদ পরিকল্পনা সাজিয়েছিল আমেরিকা ও ইজরায়েল। ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের সেই গোপন ছকে ইরানের নতুন নেতৃত্বের মুখ হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছিল দেশটিরই প্রাক্তন কট্টরপন্থী প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমাদিনেজাদকে। নিউ ইয়র্ক টাইমসের একটি সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে আসার পর আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক শোরগোল শুরু হয়েছে। ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রথম পছন্দ হিসেবে কেন একসময়ের এই কট্টর মার্কিন-বিরোধী নেতাকে বেছে নেওয়া হলো, তা নিয়ে শুরু হয়েছে চুলচেরা বিশ্লেষণ।

শত্রু থেকে তাসের তাস

২০০৫ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত ইরানের প্রেসিডেন্ট থাকাকালীন মাহমুদ আহমাদিনেজাদ ছিলেন আমেরিকা ও ইজরায়েলের সবচেয়ে বড় শত্রু। তাঁর আমলেই তেহরান পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে চরম আগ্রাসী অবস্থান নেয়। হলোকস্ট নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করা কিংবা ইজরায়েলকে ‘মানচিত্র থেকে মুছে ফেলার’ হুমকি দিয়ে তিনি বারবার আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কট্টরপন্থার প্রতীক হয়ে উঠেছিলেন। তবে প্রেসিডেন্ট পদ ছাড়ার পর গত এক দশকে ইরানের বর্তমান শাসকগোষ্ঠীর কড়া সমালোচক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন তিনি। এই অভ্যন্তরীণ বিরোধকে কাজে লাগিয়েই ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের ভেতর থেকে একটি নতুন নেতৃত্ব দাঁড় করাতে চেয়েছিল, যার শীর্ষে ভাবা হয়েছিল আহমাদিনেজাদকে।

পরিকল্পনার ধাক্কা ও অনিশ্চয়তা

ইরানের ধর্মতান্ত্রিক সরকারকে সরানোর এই বহুস্তরীয় পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই আহমাদিনেজাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছিল। এমনকি তাঁকে নজরদারি ও গৃহবন্দি দশা থেকে মুক্ত করতে ফেব্রুয়ারি মাসের হামলার প্রথম দিনেই তাঁর বাড়িতে অভিযান চালায় ইজরায়েল। এই হামলায় তিনি আহত হলেও বেঁচে যান। তবে মার্কিন সূত্রের দাবি, ওই ঘটনার পর থেকেই ক্ষমতা পরিবর্তনের এই বিপজ্জনক পরিকল্পনা নিয়ে নিজের আগ্রহ হারিয়ে ফেলেন আহমাদিনেজাদ। বর্তমানে তিনি কোথায় এবং কী অবস্থায় আছেন, তা নিয়ে তীব্র ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। হোয়াইট হাউসের একাংশ এই পরিকল্পনা নিয়ে প্রথম থেকেই সন্দিহান ছিল। মার্কিন মুখপাত্র আনা কেলির মতে, ট্রাম্পের মূল লক্ষ্য ইরানের সামরিক ও পরমাণু পরিকাঠামো দুর্বল করা হলেও, তেহরানে দ্রুত সরকার বদলের এই জটিল হিসেবটি শেষ পর্যন্ত ট্রাম্প ও নেতানিয়াহু মেলাতে পারেননি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *