‘সব দোষ চাপানো হচ্ছে?’ অভিষেক প্রসঙ্গে কুণালের মন্তব্যে নতুন জল্পনা রাজনৈতিক মহলে

সাংসদ ও তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সম্পত্তির খতিয়ান এবং তাঁর বাড়ি ভাঙার নোটিশ সংক্রান্ত বিতর্ক নিয়ে অবশেষে মুখ খুলল শাসক দল। বুধবার এক সাংবাদিক বৈঠকে দলের পক্ষে কুণাল ঘোষ তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সহ দলের কয়েকজন শীর্ষ নেতার ভাবমূর্তি কালিমালিপ্ত করতে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এই সমস্ত ভিত্তিহীন তথ্য ছড়ানো হচ্ছে। তবে এই ইস্যুতে দলের পক্ষ থেকে কড়া অবস্থান জানালেও, সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত বিষয়ের ক্ষেত্রে একটি সূক্ষ্ম দূরত্ব বজায় রেখেছেন তৃণমূল মুখপাত্র। তিনি স্পষ্ট করে দেন, এটি দল কিংবা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্য, তাঁর নিজস্ব কোনো ব্যক্তিগত মতামত এখানে নেই।
অপপ্রচার ও রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের অভিযোগ
সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ি এবং তাঁর পরিবারের সংস্থা ‘লিপস অ্যান্ড বাউন্স’-এর নামে কলকাতা পুরসভার ১৭টি নোটিশের একটি অনুলিপি ভাইরাল হয়, যেখানে অবৈধ অংশ সাত দিনের মধ্যে ভেঙে ফেলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। একইসঙ্গে বিজেপি নেতার হরিশ মুখার্জি রোড, কালীঘাট রোডসহ বিভিন্ন এলাকায় মোট ৪৩টি সম্পত্তির একটি তালিকাও প্রকাশ করেছে। এই ঘটনাকে সম্পূর্ণ বিভ্রান্তিকর ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে আখ্যা দিয়েছে তৃণমূল। কুণাল ঘোষের দাবি, বিরোধীরা রাজনৈতিকভাবে পেরে না উঠে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম জড়িয়ে এই ভুয়ো নোটিশ ও কাল্পনিক সম্পত্তির তালিকা ছড়াচ্ছে। দলের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, এই ধরনের কোনো নোটিশের সত্যতা নেই এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এই ধরণের অপপ্রচারের সামনে কোনো অবস্থাতেই মাথা নত করবেন না।
তদন্তের আর্জি ও আইনি অবস্থান
এই বিতর্কের জল কতদূর গড়ায় তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা তুঙ্গে। তৃণমূল মুখপাত্র এই সমস্ত নোটিশকে ভুয়ো বলে দাবি করার পাশাপাশি পুরো ঘটনার একটি নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তাঁর মতে, কারা এই ভিত্তিহীন বিষয়গুলি রটাচ্ছে, তা তদন্তের মাধ্যমে সামনে আসা দরকার। তবে একই সাথে পুরসভার নোটিশ বা সুনির্দিষ্ট সম্পত্তির প্রসঙ্গে কিছুটা কৌশলগত দূরত্ব বজায় রেখে কুণাল জানান, কার বাড়িতে কী নোটিশ যাচ্ছে তা সংশ্লিষ্ট বিভাগের কাজ, দলের পক্ষে সব জানা সম্ভব নয়। তবে যদি কোনো অভিযোগের সত্যতা থাকে, তবে আইন সর্বদা নিজের পথেই চলবে। এই চাঞ্চল্যকর অভিযোগ ও পাল্টা বিবৃতির জেরে রাজ্যের রাজনৈতিক পরিবেশ যে আগামী দিনে আরও উত্তপ্ত হতে চলেছে, সেই ইঙ্গিতই স্পষ্ট হচ্ছে।