আতঙ্কহীন জীবনের অধিকার! হিংস্র ও পাগল পথকুকুর নিধন নিয়ে বড় সিদ্ধান্ত সুপ্রিম কোর্টের

পথকুকুর অত্যন্ত হিংস্র বা ‘পাগল’ হয়ে গেলে তাকে মেরে ফেলা যেতে পারে বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে দেশের সর্বোচ্চ আদালত। একই সঙ্গে রাস্তাঘাট, পার্ক, হাসপাতাল এবং রেলস্টেশনের মতো জনবহুল জায়গা থেকে পথকুকুরদের সরিয়ে ফেলার আগের নির্দেশও বহাল রেখেছে সুপ্রিম কোর্ট। পূর্ববর্তী এই নির্দেশ সংশোধনের আর্জি জানিয়ে জমা পড়া একগুচ্ছ আবেদন খারিজ করে বিচারপতি বিক্রম নাথ, বিচারপতি সন্দীপ মেহতা এবং বিচারপতি এনভি অঞ্জরিয়ার বেঞ্চ এই ঐতিহাসিক রায় দেয়।
আদালতের এই সিদ্ধান্তের পেছনে মূল কারণ হিসেবে উঠে এসেছে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা ও মর্যাদার সঙ্গে বেঁচে থাকার অধিকার। সুপ্রিম কোর্টের তিন বিচারপতির বেঞ্চ পর্যবেক্ষণ করেছে যে, কুকুরের কামড় খাওয়ার ভয় ছাড়া বেঁচে থাকার অধিকারও সংবিধানে উল্লিখিত মর্যাদার সঙ্গে জীবনযাপনের অধিকারের অন্তর্ভুক্ত। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে প্রতিনিয়ত পথচারী, শিশু এবং প্রবীণ ব্যক্তিরা যেভাবে পথকুকুরের আক্রমণের শিকার হচ্ছেন, সেই কঠোর বাস্তব পরিস্থিতি আদালত কোনোভাবেই উপেক্ষা করতে পারে না। রাস্তাঘাটে বা সর্বসাধারণের ব্যবহারের জায়গায় কুকুর ঘুরে বেড়ানোর ঘটনাকে ‘উদ্বেজনক’ বলে আখ্যা দিয়েছে শীর্ষ আদালত।
আইনি পরিকাঠামো ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ
আইনি খবর পরিবেশনকারী ওয়েবসাইট ‘বার অ্যান্ড বেঞ্চ’ অনুযায়ী, সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট করেছে যে সব এলাকায় পথকুকুরের সংখ্যা উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে, সেখানে স্থানীয় প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলোচনা করে পশুদের উপর নিষ্ঠুরতা দমন আইন এবং পশুদের জন্ম নিয়ন্ত্রণ বিধি মেনে পদক্ষেপ করার কথা বলা হয়েছে। এর মধ্যে পাগল হয়ে যাওয়া, দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত বা অতিরিক্ত হিংস্র হয়ে যাওয়া কুকুরকে নিষ্কৃতিমৃত্যু বা মেরে ফেলার বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
প্রশাসন ও জনজীবনে সম্ভাব্য প্রভাব
এই রায়ের ফলে দেশের সব রাজ্য এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলোকে পথকুকুরের উপদ্রব মোকাবিলার জন্য প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো গড়ে তোলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর আগে পাঞ্জাব, রাজস্থান, উত্তরপ্রদেশ এবং তামিলনাড়ুর মতো রাজ্যগুলোর ভূমিকা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছিল আদালত। এই রায়ের পর দেশজুড়ে পথকুকুরদের টিকাকরণ, বন্ধ্যাকরণ এবং পুনর্বাসনের প্রক্রিয়া আরও গতি পাবে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে এই সিদ্ধান্তের ফলে একদিকে যেমন সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত হওয়ার পথ সুগম হলো, অন্যদিকে পশুপ্রেমী সংগঠনগুলোর সঙ্গে স্থানীয় প্রশাসনের আইনি ও নীতিগত দ্বন্দ্বের সম্ভাবনাও তৈরি হতে পারে।