টার্গেট যখন রেল, যাত্রীদের মনে আতঙ্ক ছড়াতে কি পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র চলছে?
.jpeg.webp?w=1077&resize=1077,675&ssl=1)
দেশের বিভিন্ন প্রান্তে একের পর এক ট্রেনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে রেল মন্ত্রক। সম্প্রতি হাওড়া থেকে কোটা— একাধিক রুটের ট্রেনে আগুন লাগার ঘটনায় কোনো সাধারণ দুর্ঘটনা নয়, বরং বড়সড় নাশকতার আশঙ্কা করছে কেন্দ্র। প্রাথমিক তদন্তের পর বুধবার রেল মন্ত্রকের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, এই ঘটনাগুলোর পেছনে কোনো সমাজবিরোধী শক্তির পরিকল্পিত যোগসূত্র রয়েছে। মূলত সাধারণ রেলযাত্রীদের মনে আতঙ্ক তৈরি করা এবং রেল পরিষেবাকে বিঘ্নিত করার উদ্দেশ্যেই এই ছক কষা হয়ে থাকতে পারে।
নাশকতার সূত্র ও একের পর এক ঘটনা
সাম্প্রতিক সময়ে দেশের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ রুটে ট্রেনে আগুন লাগার খবর সামনে এসেছে। গত ১৭ মে তিরুবনন্তপুরম-হজরত নিজামুদ্দিন রাজধানী এক্সপ্রেসে চলন্ত অবস্থায় আগুন লাগার ঘটনাটি ঘটে। মধ্যপ্রদেশের রতলাম জেলার লুনি রিছা ও বিক্রমগড় আলোট স্টেশনের মাঝে ট্রেনের বি-১ কামরার শৌচাগারে প্রথম আগুন দেখা যায়। অন্যদিকে, রাজস্থানের অমরপুরা স্টেশনের কাছে ট্রেনের বিছানাপত্রে আগুন লাগিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বিহারের সাসারামে আবার ট্রেনের ফাঁকা কামরার ভেতরে জ্বলন্ত বস্তু ছুড়ে মারার মতো ঘটনাও ঘটেছে। পর পর ঘটা এই ঘটনাগুলোর ধরণ খতিয়ে দেখে রেল সুরক্ষা বাহিনী (আরপিএফ) ও উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা তদন্তে নেমেছেন।
মিথিলা এক্সপ্রেসে পেট্রল-বোমা ও আশঙ্কার কারণ
তদন্তকারীদের মতে, সবকটি ঘটনার মধ্যে একটি সুনির্দিষ্ট মিল বা প্যাটার্ন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বিশেষ করে মঙ্গলবার হাওড়া-রক্সৌল মিথিলা এক্সপ্রেসে আগুন লাগার ঘটনাটি তদন্ত করতে গিয়ে রেলের হাতে চাঞ্চল্যকর তথ্য এসেছে। হাওড়া স্টেশনে দাঁড়িয়ে থাকা ওই ট্রেনের শৌচাগার থেকে একটি আধপোড়া কাপড় উদ্ধার করা হয়, যা পেট্রলে ভেজানো ছিল। রেলের দাবি, কর্মরত কর্মীদের তৎপরতায় দ্রুত আগুন নেভানো সম্ভব হয়েছিল বলেই এক বড়সড় বিপর্যয় এড়ানো গেছে। এই ঘটনা প্রমাণ করে যে, রেলের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে ভেতরে ভয় ও বিশৃঙ্খলা তৈরি করার চেষ্টা চালাচ্ছে কিছু অসাধু চক্র।
প্রভাব ও রেলের সতর্কবার্তা
একের পর এক দূরপাল্লার ট্রেনে এই ধরণের নাশকতামূলক চেষ্টার ফলে সাধারণ যাত্রীদের নিরাপত্তা বড়সড় প্রশ্নের মুখে পড়েছে। যাতায়াতের ক্ষেত্রে আমজনতার মনে তৈরি হয়েছে তীব্র আতঙ্ক। উদ্ভূত পরিস্থিতির জেরে রেলের পক্ষ থেকে দেশজুড়ে বাড়তি সতর্কতা জারি করা হয়েছে। সমস্ত ঘটনার তদন্ত অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে করা হচ্ছে বলে আশ্বস্ত করেছে মন্ত্রক। পাশাপাশি, সুরক্ষার স্বার্থে যাত্রীদেরও সতর্ক থাকার আবেদন জানানো হয়েছে। ট্রেনে ভ্রমণের সময় কোনো ব্যক্তি বা বস্তুকে সন্দেহজনক মনে হলে অবিলম্বে রেলের হেল্পলাইন নম্বর ১৩৯-এ যোগাযোগ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।