“৩১ ডিসেম্বরের পর বাংলায় ঢুকলেই গ্রেফতার?” সীমান্ত-CAA ইস্যুতে হুঁশিয়ারি মুখ্যমন্ত্রীর!

“৩১ ডিসেম্বরের পর বাংলায় ঢুকলেই গ্রেফতার?” সীমান্ত-CAA ইস্যুতে হুঁশিয়ারি মুখ্যমন্ত্রীর!

ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার জন্য বিএসএফ-এর হাতে জমি হস্তান্তরের ঐতিহাসিক মুহূর্তেই অনুপ্রবেশ রুখতে একগুচ্ছ বিস্ফোরক ও কড়া পদক্ষেপের কথা ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। নবান্ন সভাঘরে রাজ্য প্রশাসন ও বিএসএফ-এর শীর্ষ কর্তাদের উপস্থিতিতে আয়োজিত এক হাইপ্রোফাইল বৈঠকে তিনি স্পষ্ট জানান, নির্ধারিত সময়সীমার পর অবৈধভাবে এ দেশে এলেই সরাসরি গ্রেফতার করা হবে। একই সাথে সীমান্ত জেলাগুলির নিরাপত্তা ও সমন্বয়ের অভাব নিয়ে পূর্বতন সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ উগরে দেন তিনি।

সমন্বয় বৈঠকে বিগত সরকারের উদাসীনতার সমালোচনা

সীমান্তবর্তী এলাকাগুলির নিরাপত্তা রক্ষায় বিএসএফ ও রাজ্য প্রশাসনের যৌথ সমন্বয়ের ওপর বিশেষ জোর দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। বৈঠকে ক্ষোভপ্রকাশ করে তিনি বলেন, স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর (এসওপি) মেনে বর্ডার এলাকার জেলাগুলোর সঙ্গে রাজ্য প্রশাসনের যে সমন্বয় বৈঠক করার কথা ছিল, বিগত সরকারের আমলে তেমন একটাও বৈঠক করা হয়নি। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর এই জট কেটেছে এবং একাধিক বৈঠক করা হয়েছে। প্রশাসনের এই সক্রিয়তা বজায় রাখতে আগামীদিনে শুধু জেলা স্তরেই নয়, একদম তৃণমূল স্তরে অর্থাৎ স্থানীয় থানা স্তরেও এই ধরনের সমন্বয় বৈঠক প্রতিনিয়ত করা হবে বলে তিনি নিশ্চিত করেন।

অনুপ্রবেশ রুখতে হাতিয়ার সিএএ এবং কড়া আইনি পদক্ষেপ

অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিতকরণ এবং তাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানো নিয়ে এবার অত্যন্ত কঠোর অবস্থান নিচ্ছে রাজ্য সরকার। মুখ্যমন্ত্রী জানান, ২০২৪ সালের ৩১শে ডিসেম্বর পর্যন্ত সিএএ-র নিয়ম অনুযায়ী একটি সুরক্ষাকবচ থাকবে। অর্থাৎ, ওই নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে যারা ভারতে এসেছেন, তাদের কোথাও কোনোভাবেই কোনও হেনস্থা করা হবে না। তবে ৩১ ডিসেম্বর, ২০২৪ পার হওয়ার পর যারা অবৈধভাবে সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে এসেছেন বা আসবেন, তাদের বিরুদ্ধে রাজ্য পুলিশ সরাসরি আইনি পদক্ষেপ করবে। পুলিশ তাদের গ্রেফতার করে সরাসরি বিএসএফ-এর হাতে তুলে দেবে, যাতে বিএসএফ বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সাথে কথা বলে দ্রুত তাদের নিজেদের দেশে ফেরত পাঠাতে পারে।

কেন্দ্রীয় নির্দেশিকাকে কাজে লাগিয়ে অনুপ্রবেশের বিরুদ্ধে রাজ্য পুলিশ ও বিএসএফ-কে একযোগে কাজ করার এই রূপরেখা সীমান্ত সুরক্ষায় এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করল। এর ফলে একদিকে যেমন অনুপ্রবেশের প্রবণতা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আসবে, তেমনই কেন্দ্র-রাজ্য সমন্বয়ের মাধ্যমে সীমান্ত জেলাগুলির নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার হবে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *