তেলেঙ্গানার আগামী ‘শুভেন্দু অধিকারী’ হবেন রেবন্ত রেড্ডি! কংগ্রেসের ভরাডুবির ভবিষ্যদ্বাণী বিজেপি সাংসদের

পশ্চিমবঙ্গে ছাব্বিশের মেগা রাজনৈতিক পটপরিবর্তন এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে হারিয়ে শুভেন্দু অধিকারীর মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার ঐতিহাসিক রেশ এবার আছড়ে পড়ল সুদূর দক্ষিণ ভারতের রাজনীতিতে। তেলেঙ্গানার বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী তথা কংগ্রেস নেতা রেবন্ত রেড্ডিকে নিয়ে এক মারাত্মক বিস্ফোরক ‘ভবিষ্যদ্বাণী’ করলেন নিজামাবাদের বিজেপি সাংসদ ধরমপুরী অরবিন্দ। তাঁর দাবি, ভবিষ্যতে তেলেঙ্গানার ‘শুভেন্দু অধিকারী’ হতে চলেছেন রেবন্ত রেড্ডি এবং এই কংগ্রেস মুখ্যমন্ত্রীই একদিন নিজের দলের চরম পরাজয় ও পতনের মূল কারণ হয়ে উঠবেন।
বিজেপি সাংসদের এই মন্তব্যকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই হায়দরাবাদ থেকে কলকাতা— দুই রাজ্যের রাজনৈতিক অলিন্দেই তীব্র জল্পনা ও শোরগোল শুরু হয়ে গিয়েছে।
শুভেন্দুর ইতিহাস মনে করিয়ে কংগ্রেসকে চরম হুঁশিয়ারি
২০২০ সালের ১৯শে ডিসেম্বর তৃণমূল কংগ্রেসের সমস্ত সম্পর্ক চুকিয়ে মেদিনীপুরের মেগা সভায় পদ্ম শিবিরে যোগ দিয়েছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। তারপর একুশের নির্বাচনে নন্দীগ্রামে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে হারানো, বিরোধী দলনেতা হিসেবে ঝাঁঝালো লড়াই এবং অবশেষে ছাব্বিশের নির্বাচনে ঘাসফুল শিবিরকে ক্ষমতাচ্যুত করে বাংলার মসনদে বসা— শুভেন্দুর এই রাজনৈতিক উত্থানকে ‘ইতিহাস’ হিসেবে উল্লেখ করেন বিজেপি সাংসদ ধরমপুরী অরবিন্দ।
সেই প্রসঙ্গ টেনেই তেলেঙ্গানার রাজনৈতিক সমীকরণ ব্যাখ্যা করে অরবিন্দ দাবি করেন:
“কংগ্রেস হাইকমান্ড তেলেঙ্গানায় এক মস্ত বড় ভুল করেছে। দশকের পর দশক ধরে যাঁরা নিষ্ঠার সাথে কংগ্রেসের জন্য কাজ করেছেন, সেই সমস্ত বর্ষীয়ান নেতাদের সম্পূর্ণ উপেক্ষা করে রেবন্ত রেড্ডিকে মুখ্যমন্ত্রীর চেয়ারে বসানো হয়েছে। আমি বিজেপির একজন সাধারণ স্তরের কর্মী মাত্র। তবে রাজনীতির অলিন্দের যে ইঙ্গিত আমি পাচ্ছি, তাতে স্পষ্ট যে আগামী দিনে শুভেন্দু অধিকারীর মতোই দল পরিবর্তন করে কংগ্রেসের বুক কাঁপিয়ে দেবেন রেবন্ত।”
মোদীর সেই বিশেষ ইঙ্গিত এবং রেবন্তের রহস্যময় হাসি
বিজেপি সাংসদের এই দাবির পেছনে রয়েছে দিনকয়েক আগে হায়দরাবাদের একটি সরকারি অনুষ্ঠানের এক অত্যন্ত চর্চিত আবহ। যেখানে একই মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং তেলেঙ্গানার মুখ্যমন্ত্রী রেবন্ত রেড্ডি।
সেই মঞ্চ থেকেই প্রধানমন্ত্রী মোদী অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণভাবে রেবন্তের উদ্দেশ্যে বলেছিলেন, “আপনি (কংগ্রেসের সাথে থেকে) যেখানে পৌঁছাতে চান, সেখানে কোনোদিন পৌঁছাতে পারবেন না। তার চেয়ে সবচেয়ে ভালো হয়, আপনি আমার সাথে যুক্ত হন।” প্রধানমন্ত্রীর এই মেগা অফার ও ইঙ্গিতের জবাবে সেই সময় রেবন্ত রেড্ডি কেবলই হেসে বিষয়টি এড়িয়ে গিয়েছিলেন।
তেলেঙ্গানায় এবার পদ্ম ঝড়, কোণঠাসা হাত শিবির
ধরমপুরী অরবিন্দের দাবি, তেলেঙ্গানার আগামী বিধানসভা নির্বাচনে কংগ্রেসের বিদায় একপ্রকার নিশ্চিত এবং সেখানে পূর্ণ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় আসতে চলেছে বিজেপি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, একদিকে যখন পশ্চিমবঙ্গে নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নির্দেশে সল্টলেক-কালীঘাটে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সম্পত্তিতে পুরসভার বুলডোজার নোটিশ, নদিয়ায় মহুয়া মৈত্রের বিরুদ্ধে এফআইআর এবং হালিশহর পুরসভায় ১৬ জন তৃণমূল কাউন্সিলরের গণইস্তফায় বিরোধী শিবির কোণঠাসা, ঠিক তখনই জাতীয় স্তরে ‘শুভেন্দু মডেল’কে হাতিয়ার করে অন্যান্য রাজ্যেও কংগ্রেস ও আঞ্চলিক দলগুলির ওপর মনস্তাত্ত্বিক চাপ বাড়াতে শুরু করল গেরুয়া শিবির। এখন দেখার, বিজেপি সাংসদের এই বিস্ফোরক দাবির জবাবে তেলেঙ্গানার মুখ্যমন্ত্রী রেবন্ত রেড্ডি বা কংগ্রেস হাইকম্যান্ডের তরফ থেকে কী পাল্টা প্রতিক্রিয়া আসে।