বিশ্ব রাজনীতির উত্তপ্ত আবহে ফ্রান্সে মুখোমুখি মোদি-ট্রাম্প, নজরে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও এআই

বিশ্ব রাজনীতির উত্তপ্ত আবহে ফ্রান্সে মুখোমুখি মোদি-ট্রাম্প, নজরে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও এআই

বিশ্বমঞ্চে ট্রাম্পের কূটনৈতিক ব্যর্থতার মাঝেই ভারতের দিকে নজর ওয়াশিংটনের, আগামী মাসে এভিয়ানে মোদি-ট্রাম্প বৈঠক!

হরমুজ প্রণালী ইস্যুতে ইরানকে বাগে আনতে না পারা এবং চীন সফরে শূন্য হাতে ফেরার পর তীব্র কূটনৈতিক চাপের মুখে পড়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ভূ-রাজনীতির এই চরম সংকটময় মুহূর্তে আগামী ১৫ থেকে ১৭ জুন দক্ষিণ-পূর্ব ফ্রান্সের সৈকত শহর এভিয়ান-লেস-বেইন্সে বসছে জি ৭ গোষ্ঠীর শীর্ষ সম্মেলন। এই সম্মেলনের ফাঁকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি একটি দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে মুখোমুখি হতে চলেছেন বলে জোরালো সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। ফরাসি সরকারের সঙ্গে নানা বিষয়ে আমেরিকার মতপার্থক্য থাকা সত্ত্বেও ট্রাম্প এই সম্মেলনে যোগ দিতে প্যারিস যাচ্ছেন বলে হোয়াইট হাউসের একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে।

কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা এবং বৈশ্বিক বাণিজ্য যুদ্ধের আবহে এই বৈঠকটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। মার্কিন প্রেসিডেন্ট যখন একের পর এক আন্তর্জাতিক ফ্রন্টে ধাক্কা খাচ্ছেন, তখন এশিয়ার অন্যতম প্রধান শক্তি হিসেবে ভারতের সহযোগিতা তাঁর জন্য অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে। এই শীর্ষ বৈঠকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ নিষ্কাশন, অভিবাসন এবং আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার পাশাপাশি বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহের মতো স্পর্শকাতর বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে।

ভারতের ওপর মার্কিন প্রশাসনের চড়া শুল্ক আরোপের টানাপোড়েনের মধ্যেই গত ফেব্রুয়ারিতে ওয়াশিংটনে মোদি ও ট্রাম্পের শেষ সাক্ষাৎ হয়েছিল। ট্রাম্প দ্বিতীয়বার হোয়াইট হাউসের ক্ষমতায় আসার পর সেটাই ছিল তাঁদের প্রথম বৈঠক, যেখানে ২০৩০ সালের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য দ্বিগুণ করে ৫০ হাজার কোটি ডলারে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে এই লক্ষ্যমাত্রা অর্জন এবং আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখাই এখন দুই রাষ্ট্রপ্রধানের মূল চ্যালেঞ্জ।

এক ঝলকে

  • আগামী ১৫-১৭ জুন ফ্রান্সে অনুষ্ঠিতব্য জি ৭ সম্মেলনের ফাঁকে মোদি-ট্রাম্পের দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের সম্ভাবনা।
  • ইরান ও চীন ইস্যুতে ট্রাম্পের সাম্প্রতিক কূটনৈতিক ব্যর্থতার পটভূমিতে এই বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।
  • আলোচনায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, বাণিজ্য, আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ এবং জ্বালানি সরবরাহ প্রাধান্য পাবে।
  • গত ফেব্রুয়ারির বৈঠকের পর এটি ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে দুই নেতার দ্বিতীয় মুখোমুখি সাক্ষাৎ হতে চলেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *