ডিজিটাল দুনিয়ায় তোলপাড়, ‘ককরোচ জনতা পার্টি’তে শামিল অনুরাগ ও কঙ্কনাসহ বলিউডের একঝাঁক তারকা!

সমাজমাধ্যমে এখন ব্যাপক শোরগোল ফেলেছে এক নতুন সংগঠন, যার নাম ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টন নিবাসী তরুণ সমাজকর্মী অভিজিৎ দীপকের হাত ধরে তৈরি এই সংগঠনটি বাস্তবে কোনো রাজনৈতিক দল নয়। তবে ব্যঙ্গ, মিম এবং তরুণ প্রজন্মের ক্ষোভকে হাতিয়ার করে মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই এটি একটি শক্তিশালী ডিজিটাল আন্দোলনে পরিণত হয়েছে। ইনস্টাগ্রাম, ফেসবুক ও এক্সে ছড়িয়ে পড়েছে এর অসংখ্য পোস্ট, ভিডিও ও স্লোগান, যা এখন নেটদুনিয়ার নতুন ভাইরাল সেনসেশন।
তারকাদের সমর্থন ও ক্ষোভের সামাজিক প্রতিচ্ছবি
এই অনলাইন আন্দোলনের সবচেয়ে চমকপ্রদ দিক হলো, বিনোদন জগতের একঝাঁক পরিচিত মুখ সরাসরি এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন। চলচ্চিত্র পরিচালক অনুরাগ কাশ্যপ, অভিনেত্রী কোঙ্কনা সেন শর্মা, ফাতিমা সানা শেখ ও এশা গুপ্তার মতো তারকারা ইতিমধ্যেই সিজেপির ইনস্টাগ্রাম পেজ ফলো করছেন। পাশাপাশি জনপ্রিয় কমেডিয়ান কুনাল কামরাসহ বহু ডিজিটাল ইনফ্লুয়েন্সার এই ট্রেন্ডে শামিল হয়েছেন। মূলত দেশের বহু তরুণ দীর্ঘদিন ধরে বেকারত্ব, প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার অনিশ্চয়তা এবং রাজনৈতিক দলগুলোর শূন্য প্রতিশ্রুতি নিয়ে চরম হতাশ। সেই নীরব ক্ষোভই এখন এই ব্যঙ্গাত্মক আন্দোলনের মাধ্যমে প্রকাশ পাচ্ছে।
ব্যঙ্গাত্মক ইশতেহার ও প্রতিবাদের নতুন ভাষা
বর্তমানে সোশ্যাল মিডিয়ায় সিজেপির একটি ব্যঙ্গাত্মক ‘ম্যানিফেস্টো’ বা ইশতেহার ব্যাপকভাবে শেয়ার হচ্ছে। নিজেদের ধর্মনিরপেক্ষ, সমাজতান্ত্রিক, গণতান্ত্রিক এবং ‘অলস’ দল হিসেবে পরিচয় দিয়ে তারা এমন কিছু দাবি তুলেছে, যা নেটিজেনদের একাধারে হাসাচ্ছে এবং ভাবিয়ে তুলছে। দলবদলকারী জনপ্রতিনিধিদের ২০ বছরের জন্য নির্বাচনে নিষিদ্ধ করা, সংসদে ৫০ শতাংশ মহিলা সংরক্ষণ এবং দেশের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের আলটপকা মন্তব্যের প্রতিবাদের মতো বিষয়গুলো এই ইশতেহারে উঠে এসেছে। কোনো মিছিল, মঞ্চ বা রাজনৈতিক পতাকা ছাড়াই শুধুমাত্র মিম আর ব্যঙ্গের মাধ্যমে ইন্টারনেটে প্রতিবাদের এক নতুন ভাষা তৈরি করেছে এই ‘ককরোচ জনতা পার্টি’, যা বর্তমান সময়ের এক অদ্ভুত সামাজিক প্রতিচ্ছবি।