বন্ধ তোলাবাজির বাঁশের ব্যারিকেড! ট্রাক চালকদের স্বস্তি দিয়ে কড়া পদক্ষেপের পথে নতুন সরকার

বাঁশের ব্যারিকেড সরছে হাইওয়ে থেকে, এবার কি সত্যিই বন্ধ হচ্ছে বহুল চর্চিত ‘ভাইপো ট্যাক্স’!
পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতি এবং পরিবহণ ক্ষেত্রে দীর্ঘদিনের অন্যতম বিতর্কিত বিষয় ‘ভাইপো ট্যাক্স’ বা মহাসড়কের অবৈধ তোলাবাজি বন্ধে নজিরবিহীন তৎপরতা শুরু হয়েছে। রাজ্যের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ হাইওয়ে, বিশেষ করে সীমান্তবর্তী রুটগুলোতে বাঁশের ব্যারিকেড দিয়ে গাড়ি আটকে টাকা তোলার যে নেটওয়ার্ক গড়ে উঠেছিল, তা চিরতরে বন্ধের মুখে। রাজনৈতিক মহলে বহুল আলোচিত এই তোলাবাজি বন্ধের মূল কারণ হিসেবে উঠে এসেছে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তন ও প্রশাসনিক কড়া নির্দেশ। পরিবহণ ব্যবস্থার গতি সচল রাখতে এবং চালকদের দীর্ঘদিনের হয়রানি থেকে মুক্তি দিতে এই পদক্ষেপ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
বিতর্কের কেন্দ্রে ‘ভাইপো ট্যাক্স’ ও রাজনৈতিক চাপ
মূলত তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামকে ইঙ্গিত করে রাজনৈতিক বিরোধীরা এই তোলাবাজি নেটওয়ার্ককে ‘ভাইপো ট্যাক্স’ বা ‘অভিषेक ট্যাক্স’ বলে অভিহিত করে আসছিল। লোকসভা নির্বাচনী প্রচারের সময় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে, সরকার গঠিত হলেই বাংলার মানুষ এই বেআইনি কর থেকে মুক্তি পাবে। প্রধানমন্ত্রীর জনসভা থেকেও বারবার এই ‘পিসি-ভাইপো’র তোলাবাজি সিন্ডিকেট নিয়ে সরব হওয়া হয়েছিল। রাজনৈতিক এই তীব্র চাপ এবং প্রতিশ্রুতি পূরণের বাধ্যবাধকতা থেকেই ক্ষমতা গ্রহণের পর নতুন প্রশাসনের তরফে হাইওয়ের অবৈধ নাকা পয়েন্টগুলো ভেঙে দেওয়ার কড়া নির্দেশ জারি করা হয়েছে।
অবৈধ নেটওয়ার্কের বিস্তার ও চালকদের হয়রানি
পরিবহণ মহলের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিদিন প্রায় ৫০,০০০ ট্রাক পশ্চিমবঙ্গের ওপর দিয়ে যাতায়াত করে। বিশেষ করে আসাম-পশ্চিমবঙ্গ সীমান্ত, শিলিগুড়ি, পশ্চিম বর্ধমান এবং পুরুলিয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ রুটে বাঁশের ব্যারিকেড দিয়ে অস্থায়ী নাকা তৈরি করে চলত এই অবৈধ অর্থ আদায়। ট্রাক চালকদের অভিযোগ ছিল, নির্দিষ্ট টাকা না দিলে দিনের পর দিন গাড়ি আটকে রাখা হতো এবং চালকদের ওপর শারীরিক ও মানসিক হেনস্থা চালানো হতো। এই তোলাবাজির কারণে একদিকে যেমন নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের পরিবহণ খরচ বাড়ছিল, অন্যদিকে তেমনি ভিনরাজ্যের চালকদের কাছে পশ্চিমবঙ্গের মহাসড়কগুলো আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল।
প্রশাসনিক পদক্ষেপ এবং সম্ভাব্য প্রভাব
সাম্প্রতিক প্রশাসনিক রিপোর্টের ভিত্তিতে জানা গেছে, জেলা প্রশাসন ও পুলিশি তৎপরতায় ইতিমধ্যে প্রধান রুটগুলোর সিংহভাগ অবৈধ ব্যারিকেড ও নাকা সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে যাতে পুনরায় এই ধরনের তোলাবাজির কাঠামো গড়ে উঠতে না পারে, তার জন্য কড়া নজরদারির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর ফলে রাজ্যজুড়ে পণ্যবাহী ট্রাক চলাচল অনেকটাই স্বাভাবিক ও গতিশীল হয়েছে। এই পদক্ষেপের সুদূরপ্রসারী প্রভাব হিসেবে রাজ্যে পণ্য পরিবহণ খরচ কমবে এবং ভিনরাজ্যের ব্যবসায়ীদের কাছে বাংলার সড়কপথের নিরাপত্তা ও ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধার হবে বলে আশা করছেন পরিবহণ সংগঠনের নেতারা।
এক ঝলকে
- পশ্চিমবঙ্গের মহাসড়কে বাঁশের ব্যারিকেড বেঁধে চালানো দীর্ঘদিনের অবৈধ তোলাবাজি বা ‘ভাইপো ট্যাক্স’ বন্ধে নজিরবিহীন প্রশাসনিক তৎপরতা শুরু হয়েছে।
- রাজনৈতিক বিরোধীদের অভিযোগ অনুযায়ী, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম জড়িয়ে সীমান্তবর্তী প্রবেশপথ ও হাইওয়েগুলোতে এই চাঁদাবাজির সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছিল।
- প্রতিদিন যাতায়াত করা প্রায় ৫০,০০০ ট্রাকের চালকরা শিলিগুড়ি, পশ্চিম বর্ধমান ও পুরুলিয়া রুটে এই অবৈধ নাকার কারণে চরম হয়রানির শিকার হতেন।
- নতুন প্রশাসনের কড়া নির্দেশে অবৈধ ব্যারিকেডগুলো উচ্ছেদ করায় সড়কপথে পণ্য পরিবহণ স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে এবং এর ফলে পণ্যের পরিবহণ খরচ কমার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।