নস্টালজিয়ার আড়ালে ভুয়ো ইতিহাস, ৮৩-র বিশ্বকাপজয়ী দলের পার্টি বিলের সত্যতা ফাঁস

সোশ্যাল মিডিয়ার যুগে নস্টালজিয়াকে পুঁজি করে ভুয়ো তথ্য ছড়ানোর প্রবণতা নতুন নয়। সম্প্রতি ১৯৮৩ সালে ভারতের ঐতিহাসিক বিশ্বকাপ জয়ের রাতের একটি ‘রেস্তরাঁ বিল’ নেটদুনিয়ায় ভাইরাল হলে ক্রিকেটপ্রেমীদের মধ্যে তুমুল আলোড়ন তৈরি হয়। দাবি করা হচ্ছিল, লর্ডসে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারিয়ে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর এটিই ছিল কপিল দেবদের বিজয় উৎসবের ডিনারের আসল বিল। তবে ক্রিকেটপ্রেমীদের সেই আবেগে জল ঢেলে দিয়েছেন ১৯৮৩-র বিশ্বকাপজয়ী ভারতীয় দলের অন্যতম সদস্য কীর্তি আজাদ। ভাইরাল হওয়া ওই কাগজের টুকরোটিকে সম্পূর্ণ ‘ভুয়ো’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন তিনি।
অনুসন্ধানে ফাঁস অঙ্কের গরমিল
ভাইরাল হওয়া ওই বিলে মোয়ে শ্যাম্পেন, স্টেক ডিনার, ডানহিল সিগারেটসহ বিপুল খরচের খতিয়ান ছিল, এমনকি নিচে কপিল দেবের একটি স্বাক্ষরও দেখা যাচ্ছিল। কিন্তু কীর্তি আজাদ স্পষ্ট জানিয়েছেন, ২৫ জুন রাতে তাঁরা লর্ডসের পাশে ওয়েস্টমোরল্যান্ড হোটেলে ছিলেন এবং রাতভর সেখানেই উদযাপন চলেছিল। বিলে উল্লিখিত রেস্তরাঁয় তাঁরা কেউই যাননি, এমনকি কপিল দেবের সইটিও জাল। এই বিবৃতির পর নেটিজেনরা বিলটি খতিয়ে দেখতে শুরু করলে একাধিক অসংগতি ধরা পড়ে। ৭০৪ টাকার খাবারের ওপর ১০ শতাংশ সার্ভিস চার্জ লেখা হয়েছে ৬০.৪০ টাকা, যা গাণিতিক নিয়মেই ভুল। এছাড়া ১৯৮৩ সালের টাইপোগ্রাফির সঙ্গে বিলের ফন্টের কোনো মিল নেই। বিশেষজ্ঞরা ধারণা করছেন, এটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) বা কোনো পুরোনো টেমপ্লেট ব্যবহার করে তৈরি করা হয়েছে।
আসল রাতের অন্য গল্প
এই ভুয়ো বিলের সূত্র ধরে উঠে এসেছে ১৯৮৩ সালের ২৫ জুনের আসল সত্য। তৎকালীন নথিপত্র ও ক্রীড়া সাংবাদিকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সেই ঐতিহাসিক রাতে বিশ্বজয়ের পর ভারতীয় ক্রিকেটাররা উল্লাসে মেতে উঠলেও লন্ডনের বেশিরভাগ রেস্তরাঁ বন্ধ থাকায় তাঁরা ঠিকমতো খাবারই পাননি। শেষ পর্যন্ত গভীর রাতে কোনোক্রমে বার্গার খেয়েই উৎসব সেরেছিলেন ক্রিকেটাররা। অতিরিক্ত সময় গাড়ি চালানোর জন্য সেদিন দলের ড্রাইভারকে পুলিশ জরিমানাও করেছিল।
ভারতীয় ক্রিকেটের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়া সেই ঐতিহাসিক রাতকে ঘিরে সাধারণ মানুষের আবেগ অপরিসীম। আর এই আবেগকে হাতিয়ার করেই সোশ্যাল মিডিয়ায় লাইক-শেয়ারের উদ্দেশ্যে এমন ভুয়ো তথ্যের অবতারণা করা হচ্ছে। তবে কীর্তি আজাদের এই প্রতিবাদ প্রমাণ করল যে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পুরোনো দিনের আকর্ষক গল্প দেখলেই তা যাচাই না করে বিশ্বাস করা উচিত নয়।