আকাশছোঁয়া খরচে বড় স্বস্তি, দিল্লি ও মুম্বইয়ে একধাক্কায় সস্তা হল বিমানের জ্বালানি!

আকাশছোঁয়া খরচে বড় স্বস্তি, দিল্লি ও মুম্বইয়ে একধাক্কায় সস্তা হল বিমানের জ্বালানি!

আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের চড়া দাম এবং টাকার ক্রমাগত দরপতনের জেরে তীব্র সংকটে পড়েছিল দেশের বিমান সংস্থাগুলি। এমন এক দমবন্ধকর পরিস্থিতিতে বড়সড় স্বস্তির বার্তা নিয়ে এল দিল্লি ও মহারাষ্ট্র সরকার। দেশের প্রধান দুটি বিমান কেন্দ্র দিল্লি ও মুম্বইয়ে বিমানের জ্বালানির (এটিএফ) ওপর মূল্য সংযোজন কর বা ভ্যাট একধাক্কায় অনেকটা কমিয়ে ৭ শতাংশ করা হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের ফলে লোকসানের মুখে পড়া বিমান পরিবহণ শিল্প নতুন করে অক্সিজেন পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সম্প্রতি দিল্লিতে বিমান জ্বালানির ওপর ভ্যাট ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৭ শতাংশ করা হয়েছে, যা আগামী ছয় মাসের জন্য কার্যকর থাকবে। অন্যদিকে, মহারাষ্ট্র সরকারও মুম্বইয়ে অভ্যন্তরীণ উড়ানের ক্ষেত্রে এই কর ১৮ শতাংশ থেকে নামিয়ে ৭ শতাংশে নিয়ে এসেছে। দেশের সবচেয়ে বেশি যাত্রী ওঠানামা, দূরপাল্লার উড়ান এবং জ্বালানি ভরার কাজ প্রধানত এই দুটি বিমানবন্দরকে কেন্দ্র করেই আবর্তিত হয়। ফলে দুই রাজ্য সরকারের এই যৌথ পদক্ষেপে বিমান সংস্থাগুলির পরিচালন ব্যয় একলাফে অনেকটাই কমবে।

সংকটের নেপথ্যে আন্তর্জাতিক চাপ

বিগত কয়েক মাসে পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধকালীন পরিস্থিতি এবং হরমুজ প্রণালীতে সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ায় বিশ্ববাজারে তেলের দাম আকাশছোঁয়া হয়ে ওঠে। ফেব্রুয়ারির শেষে আন্তর্জাতিক বাজারে বিমান জ্বালানির দাম যেখানে ব্যারেল প্রতি ছিল ৯৯ ডলার ৪০ সেন্ট, মে মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে তা বেড়ে দাঁড়ায় ১৬২ ডলার ৮৯ সেন্টে। এর সঙ্গে যোগ হয় ডলারের তুলনায় টাকার রেকর্ড অবমূল্যায়ন। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে, বিমান সংস্থাগুলির মোট পরিচালন ব্যয়ের প্রায় ৫৫ থেকে ৬০ শতাংশই শুধু জ্বালানি কিনতে চলে যাচ্ছিল, যা আগে ছিল মাত্র ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ। এই বিপুল লোকসান ও আর্থিক চাপ সামাল দিতেই মূলত কর হ্রাসের এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

কার্যকারিতা ও সম্ভাব্য প্রভাব

এই কর ছাড়ের ফলে বিমান সংস্থাগুলির একটি বড় প্রযুক্তিগত সমস্যার সমাধান হবে। এতদিন কর ফাঁকি দিতে বিমানগুলি কম করের রাজ্য থেকে অতিরিক্ত জ্বালানি ভরে উড়ত, যার ফলে বিমানের ওজন বেড়ে গিয়ে আরও বেশি জ্বালানি অপচয় হতো। এখন আর সংস্থাগুলিকে সেই বাড়তি ঝুঁকি নিতে হবে না। বিশেষ করে দিল্লি ও মুম্বইকে কেন্দ্র করে ব্যবসা করা এয়ার ইন্ডিয়া এবং ইন্ডিগোর মতো বড় সংস্থাগুলি এর ফলে বিপুল সাশ্রয় করতে পারবে।

তবে এই কর ছাড়ের সুফল সাধারণ যাত্রীদের পকেটে এখনই পৌঁছানোর সম্ভাবনা কম। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বাজারে বর্তমানে টিকিটের চাহিদা বিপুল হলেও সেই তুলনায় বিমানের সংখ্যা কম। তাই বিমান সংস্থাগুলি টিকিটের দাম না কমিয়ে, এই ছাড়ের অর্থ দিয়ে আপাতত নিজেদের জমে থাকা আর্থিক ক্ষতি পূরণ করার চেষ্টা করবে। বিমান শিল্পকে খাদের কিনারা থেকে বাঁচাতে দিল্লি ও মহারাষ্ট্র সরকার যৌথভাবে প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকারও বেশি রাজস্ব ক্ষতি স্বীকার করে এই সাহসী পদক্ষেপ নিয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *