হাতির রাজত্বে কাঁপছে ঝাড়গ্রাম, ২৪ ঘণ্টায় দস্যি রামলালের তাণ্ডবে ঝরল দুটি তাজা প্রাণ!

হাতির রাজত্বে কাঁপছে ঝাড়গ্রাম, ২৪ ঘণ্টায় দস্যি রামলালের তাণ্ডবে ঝরল দুটি তাজা প্রাণ!

অরণ্যশহর ঝাড়গ্রামে বন্য হাতির তাণ্ডবে ফের ছড়াল চরম আতঙ্ক। মাত্র ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে হাতির হামলায় পৃথক দুটি ঘটনায় দু’জনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। একদিকে যখন দাঁতালের হামলায় ঝরছে প্রাণ, ঠিক তখনই সমাজমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে ‘রামলাল’ নামের এক দলছুট হাতির বাহুবলী কীর্তি, যা বন দপ্তরের কপালে চিন্তার ভাঁজ আরও চওড়া করেছে।

ঝাড়গ্রামে দাঁতালের মরণকামড়

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বৃহস্পতিবার সকালে মাণিকপাড়া রেঞ্জের সাতপাটি এলাকায় কংসাবতী নদীর কাছে একটি গাছের তলায় বসে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন ৩৩ বছর বয়সী যুবক মঙ্গল মুর্মু। সেই সময় একটি হাতি আচমকা তাঁকে তাড়া করে। প্রাণভয়ে পালানোর চেষ্টা করলেও শেষরক্ষা হয়নি। হাতিটি তাঁকে শুঁড়ে পেঁচিয়ে আছাড় মারলে তিনি গুরুতর জখম হন। স্থানীয় বাসিন্দারা উদ্ধার করে ঝাড়গ্রাম জেলা মেডিকেল কলেজে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। এর আগের দিন, অর্থাৎ বুধবার লোধাশুলি রেঞ্জের পূর্ণাজলর জঙ্গলে হাতি দেখতে গিয়ে হাতির হানায় প্রাণ হারায় ১৯ বছরের তরুণ নীতিশ মাহাতো।

গাড়ি ঠেলছে ‘বাহুবলী’ রামলাল

একদিকে যখন মৃত্যুর ঘটনায় শোকের ছায়া, ঠিক তখনই সমাজমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে ঝাড়গ্রামের লোধাশুলি রেঞ্জের একটি ভিডিও। সেখানে দেখা যাচ্ছে, জঙ্গলে দাঁড়িয়ে থাকা বন দপ্তরের একটি গাড়িকে অনায়াসে শুঁড় দিয়ে ঠেলে বেশ কিছুদূর এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে ‘রামলাল’ নামের এক পরিচিত হাতি। তার এই অতিমানবীয় শক্তি দেখে নেটিজেনরা তাকে ‘শক্তিমান’ ও ‘বাহুবলী’ আখ্যা দিলেও, বন আধিকারিকদের মতে এই আচরণ অত্যন্ত বিপজ্জনক।

সংঘাতের কারণ ও ভবিষ্যৎ প্রভাব

বন দপ্তরের আধিকারিকদের দাবি, সাধারণ মানুষের অসচেতনতাই এই ধরণের দুর্ঘটনার মূল কারণ। বারবার নিষেধ এবং সতর্কবার্তা দেওয়া সত্ত্বেও বহু মানুষ অতিউৎসুক হয়ে জঙ্গলের ভেতরে হাতি দেখতে বা ছবি তুলতে চলে যাচ্ছেন, যা হাতিদের ক্ষিপ্ত করে তুলছে। এছাড়া বনাঞ্চল সংকুচিত হওয়া এবং খাবারের খোঁজে লোকালয়ে হাতির দল চলে আসায় মানুষ ও বন্যপ্রাণের সংঘাত চরম আকার ধারণ করেছে। হাতির এই আগ্রাসী মনোভাব যদি অবিলম্বে নিয়ন্ত্রণ করা না যায়, তবে আগামী দিনে ঝাড়গ্রামের জঙ্গল লাগোয়া গ্রামগুলিতে জানমালের ক্ষতি আরও বাড়তে পারে এবং বনকর্মী ও গ্রামবাসীদের মধ্যে সংঘাত আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *