আচমকা তালা ঝুলল রবীন্দ্র সরোবর স্টেডিয়ামে, বন্ধ প্র্যাকটিস!

বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই এক অদ্ভুত নিস্তব্ধতা গ্রাস করেছে কলকাতার ঐতিহ্যবাহী রবীন্দ্র সরোবর স্টেডিয়ামকে। কোনো আগাম নোটিস ছাড়াই আচমকা তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে স্টেডিয়ামের মূল গেটে। এর ফলে থমকে গেছে ফুটবল লিগের অনুশীলন থেকে শুরু করে অ্যাথলেটিক্স সহ খেলাধুলো সংক্রান্ত সমস্ত রকম গতিবিধি। রাজ্য সরকারের এই অতর্কিত পদক্ষেপে ময়দানের ক্রীড়ামহলে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
প্রতিদিন এই মাঠে সাদার্ন সমিতি সহ একাধিক ছোট ও মাঝারি ফুটবল ক্লাব এবং বহু উদীয়মান অ্যাথলিট নিয়মিত অনুশীলন করেন। ক্রীড়াদফতরের নির্দেশে আকস্মিক এই অচলাবস্থার জেরে চরম বিপাকে পড়েছেন ক্রীড়াবিদরা। সাদার্ন সমিতির প্রধান কর্তা সৌরভ পাল জানিয়েছেন, ক্লাবের সব ক’টি বিভাগ এমনকি মেয়েদের দলও এই মাঠে প্র্যাকটিস করত। অনুশীলনের সুযোগটুকু বহাল রাখার আর্জি জানিয়ে নথিভুক্ত ক্লাবগুলো যৌথভাবে সরকারকে চিঠি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
বিশ্বমানের আধুনিকীকরণ ও পরিকাঠামো বদলের লক্ষ্য
হঠাৎ মাঠ বন্ধের নেপথ্যে সরকারের এক দূরগামী পরিকল্পনা রয়েছে বলে নবান্ন ও ক্রীড়াদফতর সূত্রে জানা গেছে। একসময় এই রবীন্দ্র সরোবর স্টেডিয়ামেই আইএসএল-এর হাইভোল্টেজ ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়েছিল। তবে বিগত কয়েক বছরে সেই চেনা জৌলুস হারিয়ে গেছে। সূত্রের খবর, ঐতিহ্যবাহী এই মাঠটিকে সম্পূর্ণ নতুন ও আন্তর্জাতিক রূপ দিতে চাইছে রাজ্য সরকার। ক্রীড়ামন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিকের পরিকল্পনায় রয়েছে এখানে আন্তর্জাতিক তথা ‘অলিম্পিক্স মানের’ আধুনিক অ্যাথলেটিক্স ট্র্যাক বসানো। ভবিষ্যতে স্টেডিয়ামটিকে বিশ্বমানের পরিকাঠামোয় মুড়ে ফেলতেই এই সাময়িক কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
বেআইনি দখলদার মুক্ত করার তোড়জোড়
আধুনিকীকরণের পাশাপাশি মাঠ বন্ধের পেছনে আরও একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল ও গুরুত্বপূর্ণ কারণ উঠে আসছে। অভিযোগ, স্টেডিয়ামের ভেতরে থাকা একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ঘর দীর্ঘদিন ধরে বেআইনিভাবে কিছু মানুষ এবং বহিরাগত সংগঠন দখল করে রেখেছিল। বছরের পর বছর ধরে চলা এই অনৈতিক দখলদারির সঙ্গে খেলাধুলোর কোনো সম্পর্ক ছিল না। মূলত এই সমস্ত অবৈধ দখলদার উচ্ছেদ করে স্টেডিয়ামকে পুরোপুরি কলঙ্কমুক্ত করতেই এই আকস্মিক তালাবন্দি। সরকারের এই পদক্ষেপের ফলে সাময়িকভাবে অনুশীলন ব্যাহত হলেও, দীর্ঘমেয়াদে তা কলকাতার ক্রীড়াক্ষেত্রে এক আধুনিক ও ইতিবাচক পরিবেশ তৈরি করবে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল।