ট্রাম্পের মুখে ঝামা! সাফ কথা মোজতবার— ‘এক ছটাক ইউরেনিয়ামও দেশের বাইরে যাবে না’

যুদ্ধবিরতির শর্ত উড়িয়ে দিলেন মোজতবা, ইউরেনিয়াম হস্তান্তর নিয়ে আমেরিকা-ইরান সংঘাত চরমে
আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে চলমান সংঘর্ষবিরতির আবহে তৈরি হলো চরম অনিশ্চয়তা। যুদ্ধবিরতির অন্যতম প্রধান শর্ত সরাসরি খারিজ করে দিয়েছেন ইরানের সুপ্রিম লিডার মোজতবা খামেনেই। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দাবিকে নস্যাৎ করে তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ইরান কোনোভাবেই তাদের মজুতকৃত সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম দেশের বাইরে পাঠাবে না। ইরানের আধা সরকারি সংবাদমাধ্যম ‘ফার্স নিউজ এজেন্সি’র প্রতিবেদন থেকে এই খবরটি সামনে আসতেই আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে নতুন করে শোরগোল পড়ে গিয়েছে।
আমেরিকার শর্ত ও ট্রাম্পের দাবি
মূলত ইরানের হাতে পরমাণু অস্ত্র থাকার ঘোর বিরোধী মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শান্তি চুক্তির লক্ষ্যে ওয়াশিংটন তেহরানের কাছে যে ৫টি শর্ত রেখেছিল, তার মধ্যে অন্যতম ছিল ৪০০ কিলোগ্রাম সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম হস্তান্তর করা। গত মাসে ট্রাম্প দাবি করেছিলেন যে, ইরান এই ইউরেনিয়াম হস্তান্তরে সম্মত হয়েছে এবং উভয় পক্ষ একটি শান্তি চুক্তির দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে আছে। তবে মোজতবার সাম্প্রতিক হুঙ্কার ট্রাম্পের সেই দাবিকে সম্পূর্ণ খারিজ করে দিল, যেখানে ইউরেনিয়াম হস্তান্তর ছাড়াও যুদ্ধকালীন ক্ষতিপূরণ না দেওয়া এবং ইরানের বাজেয়াপ্ত করা বৈদেশিক সম্পদের মাত্র ২৫ শতাংশ ফেরানোর মতো শর্ত জড়িয়ে রয়েছে।
ভবিষ্যৎ প্রভাব ও রণকৌশল
ইরানের এই অনড় অবস্থানের ফলে মধ্যপ্রাচ্যে পুনরায় বড় ধরনের সামরিক ও কূটনৈতিক উত্তেজনা তৈরির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। সাময়িকভাবে যুদ্ধবিরতি চললেও পরিস্থিতি যেকোনো মুহূর্তে নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। এর মধ্যেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর মধ্যে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। খবরের সূত্র অনুযায়ী, এই বৈঠকের মূল এজেন্ডাই ছিল ইরানের বিরুদ্ধে আমেরিকা ও ইজরায়েলের পরবর্তী যৌথ রণকৌশল নির্ধারণ করা, যা আগামী দিনে এই অঞ্চলের সংকটকে আরও ঘনীভূত করতে পারে।
এক ঝলকে
- যুদ্ধবিরতির শর্ত মেনে ৪০০ কিলোগ্রাম সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম আমেরিকার হাতে তুলে দিতে সাফ মানা করল ইরান।
- ইরানের সুপ্রিম লিডার মোজতবা খামেনেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শান্তি চুক্তির দাবি খারিজ করে দিয়েছেন।
- আমেরিকার দেওয়া শর্তে ইরানের পরমাণু ঘাঁটি চালু রাখার অনুমতি এবং বাজেয়াপ্ত সম্পদের ২৫ শতাংশ ফেরানোর কথা উল্লেখ ছিল।
- উদ্ভূত পরিস্থিতির মাঝেই ইরানের বিরুদ্ধে পরবর্তী যৌথ রণকৌশল নিয়ে আলোচনা করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প ও বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু।