মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনার মাঝেই দীর্ঘমেয়াদী সংকল্প, বিকশিত ভারত স্রেফ স্লোগান নয় বলে মন্ত্রীদের কড়া বার্তা মোদির

তৃতীয় এনডিএ সরকারের দুই বছর পূর্তির প্রাক্কালে একটি হাই প্রোফাইল ও তাৎপর্যপূর্ণ বৈঠকে মিলিত হয়েছিল কেন্দ্রীয় পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রিসভা। বৃহস্পতিবার বিকেলে সেবা তীর্থে আয়োজিত প্রায় সাড়ে চার ঘণ্টার এই দীর্ঘ বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। বছরের প্রথম এই পূর্ণাঙ্গ বৈঠকে শাসনব্যবস্থার সংস্কার, প্রশাসনিক দক্ষতা বৃদ্ধি এবং সরকারের দীর্ঘমেয়াদী ‘বিকশিত ভারত ২০৪৭’ সংকল্পের মতো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। পরবর্তীতে শুক্রবার নিজের এক্স হ্যান্ডেল (সাবেক টুইটার) পোস্টে এই আলোচনাকে অত্যন্ত “ফলপ্রসূ” বলে বর্ণনা করেছেন প্রধানমন্ত্রী।
কৌশলগত সংস্কার ও আমজনতার স্বস্তি
বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ২০৪৭ সালের মধ্যে ‘বিকশিত ভারত’ গড়ার স্বপ্নকে কেবল একটি স্লোগান হিসেবে দেখলে চলবে না, একে একটি দৃঢ় অঙ্গীকার হিসেবে গণ্য করতে হবে। উন্নত ভারত গড়ার লক্ষ্যে সংস্কার প্রক্রিয়াকে আরও ত্বরান্বিত করার জন্য তিনি মন্ত্রীদের নির্দেশ দিয়েছেন। এই রূপান্তরের মূল ভিত্তি হিসেবে নাগরিকদের “সহজ জীবনযাত্রা” ও “ব্যবসায় স্বাচ্ছন্দ” বজায় রাখার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। বৈঠকে মূলত দুটি মূল বিষয়কে পাখির চোখ করা হয়েছে—একদিকে প্রশাসনিক স্তরে দীর্ঘমেয়াদী সংস্কার এবং অন্যদিকে বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতির ধাক্কা সামলানো।
যুদ্ধকালীন অর্থনীতি ও ভবিষ্যৎ প্রভাব
বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে ইরান যুদ্ধের জেরে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বড়সড় অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। এই যুদ্ধের নেতিবাচক প্রভাব যাতে ভারতের ওপর না পড়ে এবং দেশের আমজনতাকে যাতে অর্থনৈতিক চাপ থেকে রক্ষা করা যায়, তা নিয়ে বৈঠকে বিস্তারিত রণকৌশল সাজানো হয়েছে। আন্তর্জাতিক সংকটের এই আবহে দেশের অভ্যন্তরীণ বাজার ও সরবরাহ শৃঙ্খল ঠিক রাখতে জ্বালানি, কৃষি, সার, বিমান চলাচল, নৌপরিবহন এবং লজিস্টিকসের মতো অত্যন্ত সংবেদনশীল ক্ষেত্রগুলিকে বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বৈঠকের সুদূরপ্রসারী প্রভাব পড়তে চলেছে দেশের নীতি নির্ধারণে। বিশ্ববাজারের মন্দা ও যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যেও অভ্যন্তরীণ উৎপাদন ও লজিস্টিকস খাতকে সচল রেখে ভারতের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির গতি ধরে রাখাই এখন সরকারের মূল লক্ষ্য। একই সাথে, সরকারের দুই বছর পূর্তির আগে এই পর্যালোচনা বৈঠক মন্ত্রীদের কর্মদক্ষতা বৃদ্ধি এবং ২০৪৭ সালের লক্ষ্যমাত্রা পূরণে নতুন গতি সঞ্চার করবে।