গ্রেপ্তারির আতঙ্কে এবার আদালতের দরজায় বিষ্ণুপুরের তৃণমূল বিধায়ক

ভোটের ফলপ্রকাশের পর থেকেই রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়ছে দক্ষিণ ২৪ পরগনায়। যেকোনো মুহূর্তে গ্রেপ্তারির আশঙ্কা প্রকাশ করে এবার কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হলেন বিষ্ণুপুরের তৃণমূল বিধায়ক দিলীপ মণ্ডল। শুক্রবার বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের এজলাসে তাঁর আইনজীবীর পক্ষ থেকে আইনি রক্ষাকবচের আবেদন জানানো হয়েছে। আদালত মামলা দায়ের করার অনুমতি দিয়েছে এবং আগামী ২৬ মে এই মামলার পরবর্তী শুনানির সম্ভাবনা রয়েছে।
হুমকি ভিডিও ও পুলিশের তৎপরতা
সম্প্রতি সমাজমাধ্যমে বিষ্ণুপুরের বিধায়কের একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে তাঁকে প্রকাশ্য রাজনৈতিক হুমকি দিতে শোনা যায়। এই ভিডিওটি সামনে আসার পর থেকেই তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক এফআইআর দায়ের হয়, যা পরিস্থিতিকে জটিল করে তোলে। এর পরেই গত ১৪ মে পুলিশ ও র্যাফ বিধায়কের পৈলানের বাড়িতে তল্লাশি অভিযান চালায়। সেই অভিযানের পর থেকেই বিধায়ক দিলীপ মণ্ডল এলাকা ছেড়ে বেপাত্তা রয়েছেন। এর মাঝেই গত ১৭ মে রাজ্য পুলিশের টাস্ক ফোর্স এবং ডায়মন্ড হারবার জেলা পুলিশ বকখালি ও ফ্রেজারগঞ্জ এলাকায় অভিযান চালিয়ে বিধায়কের পুত্র অর্ঘ্য মণ্ডলসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করে। ধৃতদের কাছ থেকে আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার হয়েছে এবং তাঁদের বিরুদ্ধে এলাকায় অশান্তি ছড়ানোর অভিযোগ রয়েছে।
রাজনৈতিক প্রভাব ও সম্ভাব্য পরিণতি
তৃণমূলের এই প্রভাবশালী বিধায়ক নিখোঁজ হওয়া এবং তাঁর ছেলের গ্রেপ্তারের ঘটনাটি স্থানীয় রাজনীতিতে বড়সড় প্রভাব ফেলেছে। একদিকে পুলিশ যেমন বিধায়কের খোঁজে হন্যে হয়ে তল্লাশি চালাচ্ছে, অন্যদিকে বিধায়ক আইনি রক্ষাকবচ পাওয়ার মরিয়া চেষ্টা করছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শাসকদলের একজন বিধায়কের এভাবে আত্মগোপন করা এবং তাঁর পরিবারের বিরুদ্ধে কঠোর পুলিশি পদক্ষেপের ফলে ওই এলাকায় বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো বাড়তি সুবিধা পাওয়ার চেষ্টা করবে। আগামী ২৬ মে হাই কোর্টের সিদ্ধান্তের ওপরই নির্ভর করছে বিষ্ণুপুরের এই রাজনৈতিক সংকটের ভবিষ্যৎ।