আরশোলার কামড়ে কি সত্যিই কাঁপল দিল্লি, জাতীয় নিরাপত্তার দোহাই দিয়ে বন্ধ ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র এক্স হ্যান্ডেল!

আরশোলার কামড়ে কি সত্যিই কাঁপল দিল্লি, জাতীয় নিরাপত্তার দোহাই দিয়ে বন্ধ ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র এক্স হ্যান্ডেল!

ভারতের সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি (সিজেআই) সূর্য কান্তের বিতর্কিত মন্তব্যের প্রেক্ষিতে গড়ে ওঠা অত্যন্ত জনপ্রিয় ব্যঙ্গাত্মক সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেল ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (Cockroach Janta Party)-র ওপর নেমে এল সরকারি কোপ। দেশের কেন্দ্রীয় সরকারের নির্দেশে ভারতে এই অ্যাকাউন্টটি ব্লক বা স্থগিত করে দিয়েছে এক্স (সাবেক টুইটার) কর্তৃপক্ষ। গোয়েন্দা সংস্থা ইন্টেলিজেন্স ব্যুরো (আইবি)-র দেওয়া “জাতীয় নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগের” রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করেই তথ্যপ্রযুক্তি আইন, ২০০০-এর ধারা ৬৯ (এ) প্রয়োগ করে এই পদক্ষেপ নিয়েছে কেন্দ্রীয় ইলেকট্রনিক্স ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রক।

জাতীয় নিরাপত্তার দোহাই ও সরকারি পদক্ষেপ

সরকারি সূত্র মারফত জানা গেছে, গোয়েন্দা সংস্থা আইবি-র আশঙ্কা ছিল যে এই অ্যাকাউন্টটি থেকে করা বিভিন্ন উসকানিমূলক পোস্ট ভারতের সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকি হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে দেশের যুবসমাজের মধ্যে এই অ্যাকাউন্টের দ্রুত বাড়তে থাকা জনপ্রিয়তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছিল। যখন এই অ্যাকাউন্টটি ব্লক করার নির্দেশ পাঠানো হয়, তখন এর ফলোয়ার সংখ্যা ছিল প্রায় ৯০,০০০। তবে ব্লক কার্যকর হওয়ার আগেই বিশ্বজুড়ে এর ফলোয়ার সংখ্যা ২ লাখ ছাড়িয়ে যায়। ভারতের ভৌগোলিক সীমানার ভেতরে এটি বন্ধ করা হলেও দেশের বাইরে থেকে এখনও অ্যাকাউন্টটি সচল রয়েছে। একই নামের একটি ইনস্টাগ্রাম হ্যান্ডেল, যার ফলোয়ার সংখ্যা প্রায় ১ কোটি ৬০ লাখ, সেটিকেও ভারতে ব্লক করার প্রক্রিয়া বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

বিতর্কের নেপথ্যে প্রধান বিচারপতির মন্তব্য

এই গোটা ঘটনার সূত্রপাত গত ১৫ মে সুপ্রিম কোর্টের একটি মামলার শুনানির সময়। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত এক আইনজীবীকে ভর্ৎসনা করতে গিয়ে মন্তব্য করেন, কিছু তরুণ রয়েছে যারা চাকরি বা পেশায় জায়গা না পেয়ে “ককরোচ বা আরশোলা”র মতো মিডিয়া, সোশ্যাল মিডিয়া কিংবা অ্যাক্টিভিস্ট সেজে গোটা ব্যবস্থার ওপর আক্রমণ চালায়। প্রধান বিচারপতির এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই দেশজুড়ে ক্ষোভের আগুন জ্বলে ওঠে। যুবসমাজকে আরশোলার সাথে তুলনা করায় নেটদুনিয়ায় তীব্র প্রতিবাদের ঝড় ওঠে। যদিও পরে প্রধান বিচারপতি স্পষ্টীকরণ দিয়ে বলেন, তাঁর বক্তব্যকে ভুলভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে; তিনি কেবল জাল বা ভুয়ো ডিগ্রিধারীদের সমালোচনা করেছিলেন।

রাজনৈতিক সমর্থন ও রাজপথের আন্দোলন

প্রধান বিচারপতির এই মন্তব্যের প্রতিবাদে ব্যঙ্গাত্মকভাবে এআই (AI) পোস্টার ব্যবহার করে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র জন্ম দেন মহারাষ্ট্রের বাসিন্দা ও বর্তমানে আমেরিকার বোস্টনপ্রবাসী ৩০ বছর বয়সী অভিজিৎ দিপকে। অল্প সময়ের মধ্যেই এই প্ল্যাটফর্মটি ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায় এবং সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব ও তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ মহুয়া মৈত্রের মতো বিরোধী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের সমর্থন লাভ করে। এক্স হ্যান্ডেলটি ব্লক হওয়ার পর দমে না গিয়ে প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ ইতিমধ্যেই ‘ককরোচ ইজ ব্যাক’ নামে একটি নতুন হ্যান্ডেল চালু করেছেন। অন্যদিকে, ডিজিটাল দুনিয়ার এই প্রতিবাদ এবার রাজপথেও আছড়ে পড়তে চলেছে। শুক্রবার হরিয়ানার রোহতকে এই ব্যানারেই একটি বিক্ষোভ সমাবেশের ডাক দেওয়া হয়েছে, যা সরকারের ওপর চাপ আরও বাড়াতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *