ভোটাধিকার রক্ষায় পশ্চিমবঙ্গের পথেই সুপ্রিম কোর্টে যাচ্ছে কর্নাটক

ভোটার তালিকা বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা ‘এসআইআর’ (SIR) প্রক্রিয়ার বিরোধিতা করে দেশের সর্বোচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হতে চলেছে কর্নাটকের কংগ্রেস সরকার। আগামী বছর রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে, নাগরিকদের ভোটাধিকার সুরক্ষিত করার উদ্দেশ্যেই এই আইনি পদক্ষেপের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সিদ্দারামাইয়া প্রশাসন। এই প্রতিবাদের পেছনে মূল অনুঘটক হিসেবে কাজ করছে পশ্চিমবঙ্গের বিগত নির্বাচনগুলোর তিক্ত অভিজ্ঞতা।
সম্প্রতি বেঙ্গালুরুতে অনুষ্ঠিত রাজ্য মন্ত্রিসভার বিশেষ বৈঠকে আগামী মাস থেকে শুরু হতে যাওয়া এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বৈঠক শেষে কর্নাটকের আইনমন্ত্রী এইচ কে পাতিল জানান, ভারতের নির্বাচন কমিশন ঘোষিত এই প্রক্রিয়াটি সম্পূর্ণ অসাংবিধানিক। এই বিষয়ে প্রথমে নির্বাচন কমিশনের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হবে এবং এরপরই আগামী সপ্তাহে সুপ্রিম কোর্টে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
বাংলা ও তামিলনাড়ুর অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা
কর্নাটক সরকারের এই কঠোর অবস্থানের পেছনে রয়েছে পশ্চিমবঙ্গ ও তামিলনাড়ুর সাম্প্রতিক নির্বাচনী অভিজ্ঞতা। আইনমন্ত্রী অভিযোগ করেছেন, পশ্চিমবঙ্গে উপযুক্ত নথিপত্র থাকা সত্ত্বেও প্রায় ২৭ লাখ ভোটার গত বিধানসভা নির্বাচনে ভোট দিতে পারেননি। সুপ্রিম কোর্ট সেখানে ভোটারদের নথিপত্র যাচাইয়ের জন্য একটি ট্রাইব্যুনাল গঠন করলেও, সেটি চূড়ান্তভাবে ব্যর্থ হয়েছে। এর পাশাপাশি প্রতিবেশী রাজ্য তামিলনাড়ুতেও বৈধ কাগজপত্র থাকা সত্ত্বেও বহু মানুষ ভোট দেওয়া থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। কর্নাটকে যাতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি না হয়, তা নিশ্চিত করতেই এই আইনি লড়াইয়ের সিদ্ধান্ত।
প্রক্রিয়া ও সম্ভাব্য প্রভাব
নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত নির্ঘণ্ট অনুযায়ী, কর্নাটকে আগামী ২০ থেকে ২৯ জুনের মধ্যে এসআইআর সংক্রান্ত প্রশিক্ষণ এবং গণনা ফর্ম ছাপার কাজ সম্পন্ন হওয়ার কথা। এরপর ৩০ জুন থেকে বুথ স্তরের আধিকারিকরা (বিএলও) ভোটারদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য সংগ্রহ শুরু করবেন এবং ৫ অগস্ট চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হবে। তবে রাজ্য সরকারের এই আইনি চ্যালেঞ্জের কারণে গোটা নির্বাচনী প্রস্তুতিতে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে। যদি সুপ্রিম কোর্ট এই প্রক্রিয়ায় কোনো স্থগিতাদেশ দেয়, তবে আগামী বছর কর্নাটকের বিধানসভা নির্বাচনের ভোটার তালিকা তৈরি ও সামগ্রিক নির্বাচনী সূচি পুনর্মূল্যায়নের মুখে পড়বে।