অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের টাকা পাওয়া নিয়ে চিন্তায় মহিলারা, জেনে নিন আপনার অ্যাকাউন্ট প্রস্তুত তো!

পশ্চিমবঙ্গে নতুন সামাজিক প্রকল্প অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার চালু হওয়া নিয়ে রাজ্যজুড়ে ব্যাপক উদ্দীপনা তৈরি হয়েছে। আগামী ১ জুন থেকেই এই প্রকল্পের আওতায় সুবিধাভোগী মহিলারা প্রতি মাসে ৩ হাজার টাকা করে পেতে শুরু করবেন। তবে এই সরকারি অনুদানের টাকা সরাসরি অ্যাকাউন্টে পাওয়ার ক্ষেত্রে মূল শর্ত হলো ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের সঙ্গে ‘ডাইরেক্ট বেনিফিট ট্রান্সফার’ বা ডিবিটি (DBT) যুক্ত থাকা। অ্যাকাউন্টে এই সংযোগ না থাকলে প্রকল্পের টাকা পাওয়া নিয়ে জটিলতা তৈরি হতে পারে, যা বর্তমানে সাধারণ মানুষের মধ্যে কিছুটা বিভ্রান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে অবশ্য আশ্বস্ত করে জানানো হয়েছে যে, ইতিপূর্বে যাঁরা ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্পের সুবিধা পাচ্ছিলেন, তাঁদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ইতিমধ্যেই ডিবিটি সক্রিয় থাকায় নতুন করে উদ্বেগের কোনও কারণ নেই। মূলত সরকারি ভর্তুকি ও অনুদানের টাকা যাতে কোনও মধ্যস্থতাকারী ছাড়াই সরাসরি নির্দিষ্ট ব্যক্তির অ্যাকাউন্টে পৌঁছায়, সেজন্যই আধার কার্ড ও এনপিসিআই (NPCI) ম্যাপিংয়ের মাধ্যমে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ডিবিটি এনাবল্ড করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
কীভাবে বুঝবেন আপনার অ্যাকাউন্ট ডিবিটি লিংক করা আছে?
গ্রাহকেরা ঘরে বসেই অনলাইনের মাধ্যমে কিংবা সরাসরি ব্যাঙ্কে গিয়ে তাঁদের অ্যাকাউন্টের ডিবিটি স্টেটাস পরীক্ষা করে নিতে পারেন।
অনলাইনে আধার পোর্টালের মাধ্যমে স্টেটাস যাচাই করার নিয়ম:
- প্রথমে অফিশিয়াল আধার পোর্টালে (myaadhaar.uidai.gov.in) প্রবেশ করতে হবে।
- এরপর নিজস্ব আধার নম্বর এবং মোবাইলে আসা ওটিপি (OTP) ব্যবহার করে লগ ইন করতে হবে।
- লগ ইন করার পর ‘আধার-ব্যাঙ্ক সিডিং স্ট্যাটাস’ (Aadhaar-Bank Seeding Status) সেকশনে যেতে হবে।
- সংশ্লিষ্ট সেকশনে গেলেই দেখা যাবে বর্তমান অ্যাকাউন্টটি ডিবিটি লিংক করা রয়েছে কি না।
অনলাইন পোর্টাল ছাড়াও বিভিন্ন ব্যাঙ্কের মোবাইল ব্যাঙ্কিং অ্যাপ, নেট ব্যাঙ্কিং কিংবা এসএমএস (SMS) সার্ভিসের সুবিধা নিয়ে অথবা কাস্টমার কেয়ারে ফোন করে এই তথ্য নিশ্চিত হওয়া সম্ভব।
অফলাইনে ডিবিটি লিংক করার সহজ পদ্ধতি
অনলাইন প্রক্রিয়ায় সমস্যা হলে গ্রাহকেরা সরাসরি তাঁদের সংশ্লিষ্ট ব্যাঙ্ক শাখায় গিয়েও এই কাজ সম্পন্ন করতে পারেন।
- ব্যাঙ্কের শাখায় যোগাযোগ করে একটি ডিবিটি অ্যাক্টিভেশন ফর্ম সংগ্রহ করতে হবে।
- ফর্মে নির্দিষ্ট স্থানে আধার নম্বর এবং ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের বিবরণী সঠিকভাবে পূরণ করতে হবে।
- ফর্মের সঙ্গে আধার কার্ডের একটি স্ব-প্রত্যয়িত (Self-attested) প্রতিলিপি জমা দিতে হবে।
- আবেদন জমা দেওয়ার পর ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ সমস্ত তথ্য যাচাই করে দ্রুত অ্যাকাউন্টের সঙ্গে ডিবিটি সংযোগ সচল করে দেবে।
ডিবিটি সংযোগ প্রক্রিয়াকরণের আগে গ্রাহকদের অবশ্যই নিশ্চিত করতে হবে যে তাঁদের আধার নম্বরটি সংশ্লিষ্ট ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে। অ্যাকাউন্টের সঙ্গে আধার লিংক না থাকলে নেট ব্যাঙ্কিংয়ের মাধ্যমে কিংবা ব্যাঙ্কের শাখায় ফর্ম জমা দিয়ে প্রথমে আধার সংযোগ সম্পন্ন করতে হবে। সময়মতো এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করলে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের আর্থিক সুবিধা পেতে কোনও নাগরিককে সমস্যায় পড়তে হবে না।