ভার্চুয়াল আন্দোলনে কেন্দ্রের কোপ, ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ নিষিদ্ধ হতেই ফুঁসে উঠলেন মহুয়া!

ভার্চুয়াল আন্দোলনে কেন্দ্রের কোপ, ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ নিষিদ্ধ হতেই ফুঁসে উঠলেন মহুয়া!

সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘এক্স’-এ (সাবেক টুইটার) রাতারাতি ঝড় তোলা এবং তরুণ প্রজন্মের মাঝে বিপুল সাড়া জাগানো পেজ ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র অ্যাকাউন্ট ব্লক করে দিয়েছে কেন্দ্র। ভারতের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা আইবি-র (ইন্টেলিজেন্স ব্যুরো) রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। তথ্যপ্রযুক্তি আইনের বিশেষ ধারায় অ্যাকাউন্টটি বন্ধ করার পর থেকেই জাতীয় রাজনীতিতে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক। কেন্দ্রের এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে বিরোধী দলগুলো একজোট হয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করছে।

ডিজিটাল ক্ষোভ বনাম জাতীয় সুরক্ষা

সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করে এই ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র আত্মপ্রকাশ ঘটে। অভিষেক দিপকে নামের এক যুবকের হাত ধরে শুরু হওয়া এই পেজটি মূলত দেশের ‘জেন জি’ বা তরুণ প্রজন্মের একটি বড় ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম হয়ে উঠেছিল। দেশের বেকারত্ব, সরকারি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং রাজনৈতিক অসন্তোষের মতো বিষয়গুলোকে ব্যঙ্গাত্মক মিম (Meme) ও কৌতুকের মাধ্যমে তুলে ধরা হচ্ছিল এখানে। অল্প সময়ের মধ্যেই তরুণ সমাজের একাংশ এটিকে নিজেদের প্রতিবাদের ভাষা হিসেবে বেছে নেয়। তবে তথ্য ও প্রযুক্তি মন্ত্রকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দেশের জাতীয় সুরক্ষার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ মনে করায় ২০০০ সালের আইটি অ্যাক্টের ৬৯এ ধারা প্রয়োগ করে এই অ্যাকাউন্টটি ব্লক করা হয়েছে।

দমননীতির অভিযোগ মহুয়া ও সিসোদিয়ার

ভার্চুয়াল এই অ্যাকাউন্টটি বন্ধ হতেই কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদী সরকারকে তীব্র নিশানা করেছেন তৃণমূল কংগ্রেসের (টিএমসি) সাংসদ মহুয়া মৈত্র। নিজের এক্স হ্যান্ডলে ক্ষোভ উগরে দিয়ে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, কেন্দ্রের সরকার কি দেশের যুব সমাজকে এতটাই ভয় পায় যে একটি ভার্চুয়াল আন্দোলনও সহ্য করতে পারছে না? এই ঘটনাকে ফ্যাসিবাদের সঙ্গে তুলনা করে তিনি দাবি করেন, ভিন্ন মত দমনের উদ্দেশ্যেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

মহুয়া মৈত্রের পাশাপাশি এই ডিজিটাল আন্দোলনের পাশে দাঁড়িয়েছেন আম আদমি পার্টির (আপ) শীর্ষ নেতা মণীশ সিসোদিয়াও। দেশের বর্তমান শাসনব্যবস্থাকে কটাক্ষ করে তিনি জানান, প্রচলিত সিস্টেমের বিরুদ্ধে গিয়ে লড়াই করা এই ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র প্রতি তাঁর পূর্ণ সমর্থন রয়েছে। ইতিপূর্বে তৃণমূলের দুই সাংসদও এই ভার্চুয়াল প্ল্যাটফর্মের সদস্য হয়েছিলেন।

ভবিষ্যৎ প্রভাব

বিশ্লেষকদের মতে, লোকসভা নির্বাচনের পর ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে যুব সমাজের এই ধরনের প্রতিবাদী ট্রেন্ড সরকারকে কিছুটা অস্বস্তিতে ফেলছিল। অ্যাকাউন্টটি বন্ধ করার ফলে সাময়িকভাবে এই ভার্চুয়াল আন্দোলনকে থামানো গেলেও, এর প্রভাব হতে পারে সুদূরপ্রসারী। জোরপূর্বক ডিজিটাল কণ্ঠরোধের এই অভিযোগকে কাজে লাগিয়ে বিরোধীরা যেমন তরুণ ভোটারদের নিজেদের পক্ষে টানার চেষ্টা করবে, তেমনই তরুণ প্রজন্মের ক্ষোভ আরও দানা বাঁধতে পারে, যা আগামী দিনে রাজপথের আন্দোলনে রূপ নেওয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *