বরানগরের পাহাড় প্রমাণ সমস্যা মেটাতে সজলের বৈঠকে হাজির সৌগত, রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা!

বরানগর বিধানসভা নির্বাচনে জয়ের পর এলাকার সামগ্রিক পরিস্থিতি ও পুরসভার কাজকর্ম নিয়ে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক ডাকেন নবনির্বাচিত বিজেপি বিধায়ক সজল ঘোষ। বরানগর পুরসভার সমস্ত কাউন্সিলরদের নিয়ে আয়োজিত এই বিশেষ বৈঠকে আকস্মিকভাবে উপস্থিত হন এলাকার প্রবীণ তৃণমূল সাংসদ সৌগত রায়। ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে এই কেন্দ্র থেকে তৃণমূল প্রার্থীর হয়ে জোরকদমে প্রচার করার পর, সজলের ডাকা বৈঠকে সৌগত রায়ের এই যোগদানকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক শোরগোল শুরু হয়েছে।
উন্নয়নের স্বার্থে সমন্বয় নাকি রাজনৈতিক বাধ্যবাধকতা
বৈঠক শেষে বেরিয়ে এসে তৃণমূল সাংসদ সৌগত রায় অবশ্য একে রাজনৈতিক কোনো সমীকরণ হিসেবে দেখতে নারাজ। তাঁর মতে, এলাকার মানুষের সার্বিক উন্নয়নের স্বার্থেই তিনি এই বৈঠকে যোগ দিয়েছিলেন। বর্ষা আসার আগেই বরানগরের জলমগ্ন এলাকাগুলোর সুরাহা করা এবং বিভিন্ন জায়গায় থমকে থাকা রাস্তার কাজ দ্রুত শেষ করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি স্বীকার করে নেন যে, এলাকার জনপ্রতিনিধিদের ওপর মানুষের প্রত্যাশা দিন দিন বাড়ছে এবং সাধারণ মানুষ তাঁদের বিভিন্ন অভাব-অভিযোগ নিয়ে নতুন বিধায়কের দ্বারস্থ হচ্ছেন।
পাহাড় প্রমাণ সমস্যা ও নতুন সরকারের চ্যালেঞ্জ
অন্য দিকে, এলাকার বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে পূর্বতন প্রশাসনের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন বিধায়ক সজল ঘোষ। তাঁর দাবি, বরানগরে পানীয় জলের সংকট, বেহাল রাস্তাঘাটসহ একাধিক জটিল সমস্যা রয়েছে। আগের সরকারের সময়কালে প্রচুর আর্থিক নয়ছয় হওয়ার কারণে অনেক ঠিকাদার কাজ ফেলে পালিয়ে গিয়েছে এবং নতুন সরকার পেমেন্টের ওপর নিষেধাজ্ঞা বা এমবার্গো জারি করেছে। এই পাহাড় প্রমাণ সমস্যাগুলোর মুখোমুখি দাঁড়িয়েই দ্রুত সমাধানের পথ খুঁজতে বিরোধী দলের সাংসদ ও পুরসভার কাউন্সিলরদের নিয়ে এই জরুরি পদক্ষেপ নিতে হয়েছে।
তৃণমূলের তারকা প্রার্থী সায়ন্তিকা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পরাজিত করে সজল ঘোষের এই জয় এবং পরবর্তীতে পুরসভার কাজে গতি আনতে শাসক-বিরোধী শিবিরের এই যৌথ বৈঠক বরানগরের প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক ইতিহাসে এক নতুন মাত্রা যোগ করল। দীর্ঘদিনের জমে থাকা নাগরিক সমস্যার জট ছাড়িয়ে নতুন সরকারের এই তৎপরতা কত দ্রুত সাধারণ মানুষকে স্বস্তি দিতে পারে, এখন সেটাই দেখার।