দিল্লি দরবারে শুভেন্দু, বাংলার জন্য কী ব্লু-প্রিন্ট দিচ্ছেন মোদী!

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর প্রথমবার দিল্লি সফরে গিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। আজ বিকেলে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে তাঁর একটি হাইপ্রোফাইল বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। প্রথাগতভাবে মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করার রীতি থাকলেও, এই বৈঠককে কেন্দ্র করে দিল্লির রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে ব্যাপক তৎপরতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। রাজ্যে প্রথমবার বিজেপি শাসিত সরকার গঠিত হওয়ার পর ‘ডবল ইঞ্জিন’ মডেলের হাত ধরে বাংলার উন্নয়নের গতিপথ কেমন হবে, মূলত তা নিয়েই এই বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা হবে।
উন্নয়নের গাইডলাইন ও নতুন পথনকশা
সূত্রের খবর, আজকের বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে সরকার পরিচালনার জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ গাইডলাইন বেঁধে দিতে পারেন। রাজ্যে প্রথম বিজেপি সরকারের লক্ষ্য ও দিশা কী হওয়া উচিত এবং কেন্দ্রের প্রকল্পগুলির সুফল কীভাবে দ্রুত মানুষের কাছে পৌঁছানো যায়, সেই বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রীকে পরামর্শ দেবেন প্রধানমন্ত্রী। অন্যদিকে, দায়িত্ব নেওয়ার পর গত দুই সপ্তাহে নতুন সরকার রাজ্যে কী কী প্রশাসনিক পদক্ষেপ করেছে, সেই খতিয়ানও প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরবেন মুখ্যমন্ত্রী।
বকেয়া মেটানো ও বিশেষ প্যাকেজের প্রত্যাশা
এই বৈঠকের অন্যতম প্রধান বিষয় হতে যাচ্ছে বাংলার দুর্বল অর্থনৈতিক পরিকাঠামো এবং শিল্পায়ন। দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা রাজ্যের বকেয়া টাকা মেটানোর ক্ষেত্রে কেন্দ্রের অবস্থান এবং রাজ্যের করণীয় কী, তা নিয়ে দুই নেতার মধ্যে আলোচনা হতে পারে। একই সঙ্গে, আর্থিক সংকট কাটিয়ে উঠতে শুভেন্দু অধিকারী প্রধানমন্ত্রীর কাছে বিশেষ কোনও আর্থিক প্যাকেজের দাবি জানান কি না, সেদিকেও নজর রয়েছে ওয়াকিবহাল মহলের। পশ্চিমবঙ্গে ভারী শিল্প নিয়ে আসা এবং নতুন বিনিয়োগ টানতে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার কীভাবে সমন্বয় রেখে কাজ করবে, তার একটি রূপরেখা তৈরি হতে পারে এই বৈঠক থেকে।
প্রধানমন্ত্রী মোদীর সঙ্গে সাক্ষাতের আগে আজ সকালেই প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের সঙ্গে বৈঠক করেছেন শুভেন্দু অধিকারী। এরপর রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু এবং উপ-রাষ্ট্রপতির সঙ্গেও তাঁর সৌজন্য সাক্ষাৎ করার কথা রয়েছে। গতকাল রাতেই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে এক দফা বৈঠক সেরেছেন মুখ্যমন্ত্রী, আজ আবারও তাঁদের মধ্যে কথা হতে পারে। সামগ্রিকভাবে, শুভেন্দু অধিকারীর এই দিল্লি সফর এবং প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক আগামী দিনে বাংলার রাজনীতির পাশাপাশি প্রশাসনিক ক্ষেত্রেও এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করতে চলেছে।