ফ্রি বাসযাত্রার জন্য মহিলাদের স্মার্ট কার্ড দেবে রাজ্য

পশ্চিমবঙ্গের মহিলাদের জন্য এক যুগান্তকারী ও খুশির খবর! আগামী ১ জুন থেকে রাজ্যের সমস্ত সরকারি বাসে মহিলারা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে যাতায়াতের সুযোগ পেতে চলেছেন। শুধুমাত্র শহরের ভেতরের বাসই নয়, দূরপাল্লার সমস্ত সরকারি বাসেও এই বিশেষ সুবিধা মিলবে। এই প্রকল্পকে সুচারুভাবে পরিচালনা করতে বিজেপি সরকারের পক্ষ থেকে রাজ্যের মহিলাদের একটি বিশেষ সচিত্র ডিজিটাল স্মার্ট কার্ড (Digital Smart Card) দেওয়া হবে। শুক্রবার পরিবহন দপ্তরের প্রধান সচিব সুরেন্দ্র গুপ্তা এই সংক্রান্ত একটি আনুষ্ঠানিক সরকারি আদেশনামা জারি করেছেন।
কিউআর কোড যুক্ত স্মার্ট কার্ড ও ‘শূন্য ভাড়ার’ টিকিট
পরিবহন দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, এই ডিজিটাল স্মার্ট কার্ডটিতে একটি নির্দিষ্ট কিউআর কোড (QR Code) থাকবে। বাসে যাতায়াতের সময় মহিলা যাত্রীদের এই কার্ডটি কন্ডাকটরকে দেখাতে হবে। কন্ডাকটর তাঁর কাছে থাকা মেশিনে কার্ডটি স্ক্যান করলেই ওই যাত্রীর সমস্ত তথ্য ভেসে উঠবে এবং স্বয়ংক্রিয়ভাবে একটি ‘শূন্য ভাড়ার’ (Zero Fare) টিকিট বেরিয়ে আসবে।
- সুনির্দিষ্ট হিসাব: টিকিটে যাত্রা শুরুর স্থান এবং গন্তব্যের উল্লেখ থাকবে। এর ফলে প্রতিদিন কতজন মহিলা সরকারি বাসে যাতায়াত করছেন, তার নিখুঁত হিসাব পরিবহন দপ্তরের কাছে থাকবে।
- সরকারি ভর্তুকি: বিভিন্ন সরকারি পরিবহন নিগম মহিলা যাত্রীদের জন্য ভাড়া বাবদ কত টাকা ছাড় দিচ্ছে, তার সুস্পষ্ট হিসাব প্রতি মাসে সরকারের কাছে জমা পড়বে এবং রাজ্য সরকার ভর্তুকি (Subsidy) হিসেবে সেই টাকা সরাসরি নিগমগুলিকে মিটিয়ে দেবে।
আবেদনের পদ্ধতি ও প্রয়োজনীয় নথি
ডিজিটাল স্মার্ট কার্ড তৈরি এবং তা রাজ্যজুড়ে সমস্ত মহিলাদের হাতে বিলি করতে স্বাভাবিকভাবেই কয়েক মাস সময় লাগবে। তাই এই সুবিধা পেতে ইচ্ছুক মহিলাদের নির্দিষ্ট ফর্ম পূরণ করে নিজেদের এলাকার এসডিও (SDO), বিডিও (BDO) বা পৌর-কমিশনারের (Municipal Commissioner) অফিসে আবেদন করতে হবে।
আবেদনপত্রের সাথে নিম্নলিখিত যেকোনো একটি সরকারি সচিত্র পরিচয়পত্রের প্রতিলিপি (জেরক্স) জমা দিতে হবে:
১. আধার কার্ড
২. ভোটার (এপিক) কার্ড
৩. ড্রাইভিং লাইসেন্স
৪. প্যান কার্ড
৫. ভারতীয় পাসপোর্ট
৬. আয়ুষ্মান ভারত হেলথ কার্ড
৭. গ্রাম রোজগার গ্যারান্টি কার্ড (১০০ দিনের কাজ)
৮. সচিত্র পেনশন নথি
৯. কেন্দ্র বা রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের সচিত্র পরিচয়পত্র
১০. স্কুল, কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়ের বৈধ আইডি কার্ড
আবেদনপত্র জমা পড়ার পর সরকারি আধিকারিকরা তা খতিয়ে দেখে সংশ্লিষ্ট অফিস থেকেই ডিজিটাল স্মার্ট কার্ড ইস্যু করবেন।
কার্ড না পাওয়া পর্যন্ত বিকল্প ব্যবস্থা
মহিলাদের মনে প্রশ্ন জাগতেই পারে, ১ জুন থেকে প্রকল্প চালু হলেও কার্ড হাতে পেতে তো সময় লাগবে, তাহলে প্রথম দিকে কীভাবে বিনামূল্যে যাতায়াত করা যাবে? পরিবহন দপ্তর স্পষ্ট জানিয়েছে, যতদিন না মহিলারা এই ডিজিটাল স্মার্ট কার্ড পাচ্ছেন, ততদিন পর্যন্ত আধার কার্ড, ভোটার কার্ড-সহ উপরে উল্লেখিত যেকোনো একটি আসল সরকারি পরিচয়পত্র কন্ডাকটরকে দেখালেই বাসে বিনামূল্যে ভ্রমণের ছাড়পত্র মিলবে। অর্থাৎ, কার্ড না থাকলেও ১ জুন থেকে যাতায়াতে কোনো বাধা থাকবে না।
পরিবহন ব্যবস্থার ভোলবদল ও শুভেন্দুর মাস্টারস্ট্রোক
রাজ্যের সরকারি পরিবহন নিগমগুলো দশকের পর দশক ধরে চরম লোকসানে চলছে এবং বাসের সংখ্যাও আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে। প্রায় ১২ বছর ধরে সরকারি বাসের ভাড়াও বাড়েনি। এই নড়বড়ে পরিবহন ব্যবস্থাকে পুনরুজ্জীবিত করতে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (যিনি নিজে এই দপ্তরের দায়িত্ব সামলাচ্ছেন এবং ২০১৬-২০২০ পর্যন্ত রাজ্যের সফল পরিবহনমন্ত্রী ছিলেন) একগুচ্ছ বড় পদক্ষেপ নিচ্ছেন। তাঁর নির্দেশেই রাজ্যে খুব শীঘ্রই কয়েক হাজার নতুন সরকারি বাস নামানো হতে চলেছে। এর পাশাপাশি দেশের এই নতুন ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকারের হাত ধরে পরিবহন ক্ষেত্রে একগুচ্ছ কেন্দ্রীয় অনুদান ও প্রকল্পের সুবিধাও পেতে চলেছে পশ্চিমবঙ্গ।
এক ঝলকে
- ১ জুন থেকে পশ্চিমবঙ্গের সমস্ত দূরপাল্লা ও লোকাল সরকারি বাসে বিনামূল্যে যাতায়াত করতে পারবেন মহিলারা।
- বিনামূল্যে ভ্রমণের জন্য কিউআর কোডযুক্ত সচিত্র ডিজিটাল স্মার্ট কার্ড দেবে রাজ্য সরকার, যা দেখালে মিলবে ‘শূন্য ভাড়ার’ টিকিট।
- স্মার্ট কার্ডের জন্য স্থানীয় বিডিও, এসডিও বা পৌরসভা অফিসে ভোটার, আধার, ড্রাইভিং লাইসেন্স বা পাসপোর্টের মতো নথি দিয়ে আবেদন করতে হবে।
- স্মার্ট কার্ড হাতে না আসা পর্যন্ত আধার বা ভোটার কার্ডের মতো আসল সরকারি নথি দেখালেই বিনামূল্যে বাসে ওঠা যাবে।
- পরিবহন দপ্তরের দায়িত্বে থাকা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নির্দেশে রাজ্যে নামছে আরও কয়েক হাজার নতুন সরকারি বাস।