কচ্ছপ দিবসে কুণালের ব্যাঙ্গাত্মক পোস্ট ঘিরে তৃণমূলের অন্দরে তীব্র জল্পনা

বিশ্ব কচ্ছপ দিবসে বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল ঘোষের একটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের পোস্ট ঘিরে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক মহলে নতুন করে শোরগোল পড়ে গেছে। আপাতদৃষ্টিতে কচ্ছপ রক্ষার বার্তা মনে হলেও, তাঁর লেখার গভীরতা ও শব্দচয়ন স্পষ্ট করে দিয়েছে যে এই পোস্টের লক্ষ্য আসলে রাজনৈতিক। ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে দলের শোচনীয় ফলাফলের পর তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ কোন্দল যখন ক্রমশ প্রকাশ্য রূপ নিচ্ছে, ঠিক তখনই কুণাল ঘোষের এই ব্যাঙ্গাত্মক মন্তব্য দলের অন্দরের ফাটলকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে।
কুণাল ঘোষ তাঁর পোস্টে লিখেছেন, কচ্ছপ যতদিন বাঁচবে সিনিয়রিটিকে সম্মান দিয়ে চলা উচিত। সেই সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, ঝামেলা দেখলে খোলসে ঢুকে থাকা এবং পরিস্থিতি বুঝে বাইরে বেরোনোর কথা। তিনি আরও যোগ করেন, বাঘ বা সিংহদের বয়স কম, তারা অতটা বোঝে না, তাই অভিজ্ঞ সিনিয়রদের থেকে শেখা প্রয়োজন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সরাসরি কারও নাম না নিলেও এই বার্তার মাধ্যমে তিনি দলেরই একটি নির্দিষ্ট অংশকে এবং বিশেষ করে শীর্ষ নেতৃত্বের একাংশের বর্তমান ভূমিকাকে নিশানা করেছেন।
দলের অন্দরে ক্রমবর্ধমান অসন্তোষ
নির্বাচনী বিপর্যয়ের পর থেকেই তৃণমূলের প্রথম সারির একাধিক নেতার মধ্যে সুর বদলের ইঙ্গিত মিলেছে। উত্তর কলকাতার দলীয় সংগঠন নিয়ে এন্টালির বিধায়ক সন্দীপন সাহা সরব হয়েছেন। অন্যদিকে, উলুবেড়িয়া পূর্বের বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় দলের গুটিকয়েক নেতার দুর্নীতি নিয়ে প্রকাশ্যে সরব হয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। এমনকি ছাত্র-যুব সংগঠনের ভূমিকা এবং দীর্ঘদিন নেতৃত্বে বদল না হওয়া নিয়ে খোদ কুণাল ঘোষও প্রশ্ন তুলেছেন। সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের শান্তিনিকেতনের বাসভবনের নোটিশ বিতর্ক এবং তাঁর পরাজয়-পরবর্তী নীরবতা নিয়ে দলের ভেতরে এক ধরনের দূরত্ব তৈরির আবহ তৈরি হয়েছে, যা ফিরহাদ হাকিমের সাম্প্রতিক মন্তব্যেও প্রতিফলিত।
ভবিষ্যৎ রাজনীতির সম্ভাব্য প্রভাব
এই পোস্টের মাধ্যমে কুণাল ঘোষ মূলত বর্তমান পরিস্থিতিতে দলের কিছু নেতার ‘সুবিধাবাদী’ ও ‘নিষ্ক্রিয়’ অবস্থানকে কটাক্ষ করেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। দলের তরুণ ও প্রবীণ শিবিরের মধ্যেকার সমন্বয়হীনতা এবং একে অপরের প্রতি অবিশ্বাস যেভাবে জনসমক্ষে চলে আসছে, তা আগামী দিনে শাসক শিবিরের সাংগঠনিক কাঠামোকে আরও দুর্বল করতে পারে। নির্বাচনের ধাক্কা সামলে ওঠার আগেই এই ধরনের প্রকাশ্য কাদা ছোঁড়াছুঁড়ি ও নেতৃত্বকে ঘিরে তৈরি হওয়া ধোঁয়াশা দলের কর্মীদের মনোবল যেমন হ্রাস করছে, তেমনই বিরোধী শিবিরকেও নতুন রাজনৈতিক অস্ত্র তুলে দিচ্ছে।