তীব্র গরমের পর অবশেষে স্বস্তির খবর, আগামী সপ্তাহেই কলকাতা সহ দক্ষিণবঙ্গে ঝড়বৃষ্টির পূর্বাভাস

দীর্ঘদিন ধরে চলা তীব্র দাবদাহ ও হাঁসফাঁস করা গরমের পর অবশেষে দক্ষিণবঙ্গবাসীর জন্য স্বস্তির খবর শোনাল আলিপুর আবহাওয়া দফতর। আগামী সপ্তাহ থেকেই কলকাতা সহ দক্ষিণবঙ্গের এক বিস্তীর্ণ অংশে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ ঝড়বৃষ্টি শুরু হওয়ার জোরালো সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর ফলে দক্ষিণবঙ্গের তাপমাত্রা কিছুটা কমতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
দক্ষিণবঙ্গে বৃষ্টির নির্ঘণ্ট
হাওয়া অফিসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আগামী ২৮ মে, বৃহস্পতিবার থেকে কলকাতায় ঝড়বৃষ্টির অনুকূল পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে। বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার শহরে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির পাশাপাশি ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে। কলকাতার পাশাপাশি হাওড়া, হুগলি, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, নদীয়া এবং পূর্ব মেদিনীপুরেও একই রকম পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
দক্ষিণবঙ্গের বাকি জেলাগুলিতে শনিবার থেকেই ঝড়বৃষ্টির কার্যকলাপ বৃদ্ধি পেতে পারে। তবে পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, পুরুলিয়া এবং বাঁকুড়ায় বৃষ্টি হলেও আপাতত আর্দ্রতাজনিত অস্বস্তি বজায় থাকবে। ঝড়বৃষ্টি শুরু হলে পরবর্তী দু’দিনে তাপমাত্রা ২ থেকে ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত কমতে পারে।
ঘূর্ণাবর্তের জেরে আবহাওয়ার বদল
আবহাওয়া বিজ্ঞানীদের মতে, দক্ষিণ উপকূলীয় ওড়িশা ও সংলগ্ন অঞ্চলের উপর একটি ঘূর্ণাবর্ত অবস্থান করছে। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১.৫ কিলোমিটার উচ্চতায় থাকা এই ঘূর্ণাবর্ত থেকে একটি অক্ষরেখা উত্তরপ্রদেশ ও ছত্তীসগঢ় পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। এর প্রভাবেই বঙ্গোপসাগর থেকে প্রচুর পরিমাণে জলীয় বাষ্প স্থলভাগে প্রবেশ করছে, যা দুই বঙ্গেই ঝড়বৃষ্টির পরিস্থিতি তৈরি করেছে।
অন্যদিকে উত্তরবঙ্গের জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার এবং কোচবিহারে অতি ভারী বৃষ্টির কারণে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার সতর্কতা জারি করা হয়েছে। দার্জিলিং, কালিম্পং সহ মালদহ, উত্তর ও দক্ষিণ দিনাজপুরেও মঙ্গলবার পর্যন্ত বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে।