গরুকে জাতীয় পশুর মর্যাদা দেওয়ার জোরালো দাবি আজমেঢ় শরিফের মৌলবির, বন্ধ হোক গোমাংস রপ্তানিও!

গরুকে জাতীয় পশুর মর্যাদা দেওয়ার জোরালো দাবি আজমেঢ় শরিফের মৌলবির, বন্ধ হোক গোমাংস রপ্তানিও!

সারা দেশে গো-হত্যা এবং গোরক্ষার নামে স্বঘোষিত সংগঠনগুলোর তাণ্ডব নিয়ে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যে এক তাৎপর্যপূর্ণ বার্তা দিলেন আজমেঢ় শরিফের শীর্ষ মৌলবি সৈয়দ সারেয়ার চিস্তি। দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষা এবং সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় আবেগের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে গরুকে ‘জাতীয় পশু’র মর্যাদা দেওয়ার দাবি তুলেছেন তিনি। আসন্ন ইদ-উল-আজহার প্রাক্কালে এবং পশ্চিমবঙ্গে সদ্যসমাপ্ত বিধানসভা নির্বাচনের পর বিজেপির নতুন বিধিনিষেধের আবহে এই মন্তব্য জাতীয় রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

আজমেঢ় দরগার এই শীর্ষ ধর্মগুরু প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কাছে সংসদের বিশেষ অধিবেশন ডাকার আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁর মতে, বিশেষ বিল এনে গরুকে সাংবিধানিক সুরক্ষা দেওয়া উচিত, যাতে স্পষ্ট হয়ে যায় এই বিষয়ে কোন কোন রাজনৈতিক দলের কী অবস্থান।

গোহত্যা ও রপ্তানি বন্ধের আহ্বান

সৈয়দ সারেয়ার চিস্তি কেবল গরুর সুরক্ষাই চাননি, বরং দেশজুড়ে গোমাংস রপ্তানি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করার দাবি জানিয়েছেন। ধর্মীয় পরব বা অন্য কোনো উপলক্ষে বলিদানের জন্য গরু বিক্রি বন্ধের পক্ষেও সওয়াল করেন তিনি। মৌলবির মতে, হিন্দুদের কাছে গরুর ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক গুরুত্ব অপরিসীম। তাই একে রাজনীতির ঊর্ধ্বে রেখে দেখা উচিত। এই ধরনের ইতিবাচক পদক্ষেপকে দেশের মুসলিম সমাজও সানন্দে স্বাগত জানাবে বলে তিনি আশাপ্রকাশ করেন। গোরক্ষার নামে গণপিটুনি ও সামাজিক অশান্তি বন্ধ করতে এই সিদ্ধান্ত অত্যন্ত কার্যকর হতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

অবহেলার বিরুদ্ধে কঠোর আইনের দাবি

বিশ্লেষণধর্মী এই বিবৃতিতে মৌলবি চিস্তি গরুর প্রতি সামাজিক অবহেলার দিকটিও কঠোর ভাষায় তুলে ধরেন। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, অনেক সময় দুধ দেওয়ার ক্ষমতা চলে যাওয়ার পর গবাদি পশুদের রাস্তায় পরিত্যক্ত অবস্থায় ছেড়ে দেওয়া হয়। এই মালিকানাহীন পশুরা তখন রাস্তায় ঘুরে আবর্জনা ও প্লাস্টিক খেতে বাধ্য হয়, যা অত্যন্ত নিষ্ঠুর। এই ধরনের প্রবণতা রুখতে এবং পশুর মালিকদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে কঠোর শাস্তিমূলক আইন প্রণয়নের দাবি জানিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে কেন্দ্রে এক দশকেরও বেশি সময় ক্ষমতায় থাকার পরও কেন বিজেপি সরকার এই বিষয়ে একটি সামগ্রিক ও কঠোর আইন তৈরি করতে পারেনি, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন এই ধর্মগুরু।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *