১০ লাখ টাকার কাটমানি চেয়ে চাপ, দক্ষিণ দমদমের কাউন্সিলরের রহস্যমৃত্যুতে কুণাল ঘোষের বিস্ফোরক দাবি

১০ লাখ টাকার কাটমানি চেয়ে চাপ, দক্ষিণ দমদমের কাউন্সিলরের রহস্যমৃত্যুতে কুণাল ঘোষের বিস্ফোরক দাবি

দক্ষিণ দমদম পুরসভার ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর সঞ্জয় দাসের অস্বাভাবিক মৃত্যুকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। শনিবার সকালে নিজ গৃহ থেকে তাঁর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হওয়ার পর থেকেই মৃত্যুর কারণ নিয়ে নানা জল্পনা শুরু হয়। এই পরিস্থিতিতে কামারহাটি সাগর দত্ত মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দাঁড়িয়ে দলেরই প্রয়াত কাউন্সিলরের পক্ষে বিস্ফোরক দাবি করেছেন তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ। তাঁর অভিযোগ, সঞ্জয় দাসের কাছে ১০ লাখ টাকা দাবি করা হয়েছিল এবং সেই টাকা দেওয়ার জন্য তাঁর ওপর তীব্র মানসিক চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছিল। এই মানসিক নির্যাতন সহ্য করতে না পেরেই তিনি আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন বলে দাবি করেছেন কুণাল ঘোষ।

নেপথ্যে রাজনৈতিক চাপ ও আর্থিক টানাপোড়েন

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সঞ্জয় দাস ব্যারাকপুর সাংগঠনিক জেলার প্রভাবশালী তৃণমূল নেতা দেবরাজ চক্রবর্তীর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত ছিলেন। সাম্প্রতিককালে নিয়োগ ও অন্যান্য দুর্নীতির মামলায় দেবরাজের নাম জড়িয়ে পড়ার পর থেকেই তদন্তের পরিধি বাড়ছিল। গত সপ্তাহেই তোলাবাজি ও ভোট-পরবর্তী হিংসার অভিযোগে দেবরাজ চক্রবর্তীকে আটক করা হয়েছিল, যার রেশ এসে পড়েছিল তাঁর ঘনিষ্ঠ বৃত্তের অন্যান্য নেতাদের ওপরেও। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, এই পুলিশি তদন্ত ও রাজনৈতিক টানাপোড়েনের পর থেকেই তীব্র মানসিক চাপের মধ্যে দিন কাটাচ্ছিলেন সঞ্জয় দাস। পরিচিতদের দাবি, গত কয়েকদিন ধরে তিনি অত্যন্ত অবসাদগ্রস্ত ছিলেন এবং লোকচক্ষুর অন্তরালে চলে গিয়েছিলেন।

তদন্তে পুলিশ ও সম্ভাব্য প্রভাব

শনিবার সকালে দীর্ঘক্ষণ ঘরের দরজা না খোলায় পরিবারের সদস্যদের সন্দেহ হয় এবং ভিতরে ঢুকে তাঁরা সঞ্জয় দাসের ঝুলন্ত দেহ দেখতে পান। চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করার পর পুলিশ একটি অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করেছে। ঘটনাস্থল থেকে কোনো সুইসাইড নোট উদ্ধার হয়েছে কিনা তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে কুণাল ঘোষের এই ১০ লাখ টাকা দাবির বিস্ফোরক অভিযোগের পর তদন্তের মোড় সম্পূর্ণ ঘুরে যেতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। পুলিশ এখন কাউন্সিলরের ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক জীবনের আর্থিক লেনদেনের বিষয়গুলি খতিয়ে দেখছে। এই ঘটনার জেরে উত্তর ২৪ পরগনা জেলার তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ সমীকরণ এবং পুলিশি তদন্তের গতিপ্রকৃতিতে বড় ধরনের প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *