প্রবল বর্ষণে লণ্ডভণ্ড উত্তর সিকিম, আটকে পড়া পর্যটকদের উদ্ধারে ঝাঁপিয়ে পড়ল সেনা!

টানা ভারী বৃষ্টি ও পাহাড়ি ধসে আবারও বড়সড় বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে পর্যটকদের অন্যতম প্রিয় গন্তব্য উত্তর সিকিম। শনিবার দুপুর থেকে শুরু হওয়া অবিরাম বর্ষণের জেরে পাহাড়ি নদীগুলোর জলস্তর আকস্মিক বৃদ্ধি পেয়ে হড়পা বানের সৃষ্টি হয়েছে। এর ফলেই উত্তর সিকিমের বিস্তীর্ণ এলাকায় যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে এবং লাচেন ও লাচুংগামী শত শত পর্যটক মাঝরাস্তায় আটকে পড়েন। খবর পেয়েই শনিবার রাতে উদ্ধারকাজে নামে পুলিশ, বর্ডার রোডস অর্গানাইজেশন (বিআরও) এবং ভারতীয় সেনাবাহিনী। দুর্গত পর্যটকদের দ্রুত উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন ও হড়পা বানের তাণ্ডব
শনিবার বিকেলে প্রবল জলের স্রোত ও আকস্মিক ভূমিধসের কারণে মঙ্গন-চুংথাং রুটের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ অংশ অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে। বিশেষ করে মেয়ং খোলার কাছে মাঙ্গান-চুংথাং সড়ক বন্ধ হয়ে যাওয়ায় একের পর এক পর্যটকবাহী গাড়ি আটকা পড়ে। নদীর জলস্তর বিপজ্জনকভাবে বেড়ে যাওয়ায় মেয়ং খোলা সেতুটি সাময়িকভাবে বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয় প্রশাসন। মঙ্গনের পুলিশ সুপার এলবি ছেত্রী জানিয়েছেন, পরিস্থিতি মোকাবিলায় যুদ্ধকালীন তৎপরতায় কাজ শুরু হয়। পরবর্তীতে টুং নাগা হয়ে চুংথাং-মাঙ্গানগামী রাস্তাটি এবং মেয়ং খোলা সেতুটি হালকা ও সব ধরনের যানবাহন চলাচলের জন্য পুনরায় খুলে দেওয়া হয়েছে।
দুর্যোগের কারণ ও আগামী দিনের সতর্কতা
আবহাওয়া দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, বঙ্গোপসাগরের ওপর তৈরি হওয়া একটি শক্তিশালী ঘূর্ণাবর্তের প্রভাবেই এই অবিরাম ও অতিভারী বৃষ্টিপাত শুরু হয়েছে। এই প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের জেরে পাহাড়ি নদীগুলোর স্রোত এখন মারাত্মক রূপ ধারণ করেছে, যা সংলগ্ন ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোকে প্রতিনিয়ত গ্রাস করছে। কেন্দ্রীয় আবহাওয়া দপ্তরের সিকিম কেন্দ্রের অধিকর্তা গোপীনাথ রাহা জানিয়েছেন, উত্তর সিকিমে আগামী ২৬ মে পর্যন্ত অতিভারী বর্ষণের ‘কমলা’ সতর্কতা জারি থাকবে। ফলে আগামী কয়েকদিন ভূমিধস ও হড়পা বানের আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে, যা উদ্ধারকাজ ও যোগাযোগ ব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখার ক্ষেত্রে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।