ফালতায় পদ্ম-ঝড়, ধূলিসাৎ তৃণমূলের গড়! ‘গণতন্ত্রের জয়’, বার্তা প্রধানমন্ত্রী মোদীর

ধমক ও চমক উপেক্ষা করে ফালতায় উড়ল গেরুয়া আবির, জামানত হারাল তৃণমূল!
পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে এক অভূতপূর্ব ও ঐতিহাসিক ওলটপালট ঘটে গেল ফালতা বিধানসভা কেন্দ্রের পুনর্নির্বাচনে। তৃণমূল কংগ্রেসের দুর্ভেদ্য দুর্গ হিসেবে পরিচিত এই আসনে বিপুল ভোটে জয়ী হয়েছে বিজেপি। গেরুয়া শিবিরের প্রার্থী দেবাংশু পান্ডা তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী সিপিআই(এম)-এর শম্ভুনাথ কুর্মিকে ১,০৯,০২১ ভোটের বিশাল ব্যবধানে পরাজিত করেছেন। এই নির্বাচনে সবচেয়ে বড় ধাক্কা খেয়েছে রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল; তাদের প্রার্থী জাহাঙ্গীর খান মাত্র ৭,৭৮৩ ভোট পেয়ে চতুর্থ স্থানে চলে গেছেন এবং তাঁর জামানত পর্যন্ত বাজেয়াপ্ত হয়েছে। এই ফলাফলকে ‘সবুজ ঝড়ে’র বিপরীতে এক অভাবনীয় রাজনৈতিক মেরুকরণ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকেরা।
ভোটের সমীকরণ ও রাজনৈতিক পটপরিবর্তন
২০২১ সালের নির্বাচনে যেখানে তৃণমূল প্রায় ৫৭ শতাংশ ভোট পেয়ে অনায়াসে এই আসনটি ধরে রেখেছিল, সেখানে এবার পুনর্নির্বাচনে তাদের ভোট শেয়ার নেমে এসেছে মাত্র ৩.৭ শতাংশে। অন্যদিকে, বিজেপির ভোট শেয়ার গতবারের ৩৬.৭৫ শতাংশ থেকে এক লাফে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭১.২ শতাংশে। গত ২৯ এপ্রিল মূল নির্বাচনের দিন ইভিএমে কালি, আঠা ও সুগন্ধি রাসায়নিক ব্যবহারের গুরুতর অভিযোগ ওঠায় নির্বাচন কমিশন ফালতার সমস্ত ২৮৫টি বুথেই ২১ মে কড়া নিরাপত্তায় পুনর্নির্বাচনের নির্দেশ দেয়। এই কড়া সুরক্ষাবলয়ের কারণেই ভোটাররা কোনো ভয়ভীতি ছাড়া নিজেদের মতপ্রকাশ করতে পেরেছেন, যা ফলাফলে স্পষ্ট প্রতিফলিত হয়েছে। তা ছাড়া, ভোটের মাত্র দুদিন আগে তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গীর খান ‘ফালতার স্বার্থে’ সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা করলেও ইভিএমে তাঁর নাম থেকে যাওয়ায় এই ভরাডুবি এড়ানো যায়নি।
কারণ ও সুদূরপ্রসারী প্রভাব
এই ঐতিহাসিক জয়ের পেছনে মূল কারণ হিসেবে উঠে এসেছে সাধারণ মানুষের ভয়হীন ভোটদানের সুযোগ এবং শাসক দলের প্রতি পুঞ্জীভূত ক্ষোভ। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এই ফলাফলকে জনগণের স্বাধীন মতপ্রকাশের জয় বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি অভিযোগ করেন, এতদিন তৃণমূল ভয়ভীতি ও প্রশাসনের অপব্যবহার করে ভোট ব্যাংক ধরে রেখেছিল, যার অবসান ঘটতে শুরু করেছে। অন্যদিকে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এই জয়কে ‘গণতন্ত্রের জয় এবং হুমকির পরাজয়’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। রাজনৈতিক মহলের মতে, ডায়মন্ড হারবার লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত এই বিধানসভা আসনের ফলাফল রাজ্যের সামগ্রিক রাজনীতিতে শাসক দলের একচ্ছত্র আধিপত্যের ভিত নাড়িয়ে দিল এবং আগামী দিনে রাজ্য রাজনীতিতে এক বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
এক ঝলকে
- ফালতা বিধানসভা কেন্দ্রের পুনর্নির্বাচনে ১,০৯,০২১ ভোটের বিশাল ব্যবধানে ঐতিহাসিক জয়ী বিজেপি প্রার্থী দেবাংশু পান্ডা।
- শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী জাহাঙ্গীর খান মাত্র ৭,৭৮৩ ভোট পেয়ে চতুর্থ স্থানে ছিটকে গেছেন এবং তাঁর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে।
- গত ২০২১ সালের তুলনায় বিজেপির ভোট শেয়ার ৩৬.৭৫% থেকে বেড়ে ৭১.২% হয়েছে, আর তৃণমূলের ভোট শেয়ার নেমে এসেছে মাত্র ৩.৭%-এ।
- কড়া কেন্দ্রীয় নিরাপত্তার মধ্যে অবাধ ও শান্তিপূর্ণ পুনর্নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়াই এই রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের প্রধান কারণ বলে মনে করা হচ্ছে।