নিষ্ঠুর সিস্টেমের মুখে মানবতার জয়, ৯০ বছরের শাশুড়িকে পিঠে নিয়ে ৯ কিলোমিটার হাঁটলেন বধূ

ছত্তিশগড়ের সরগুজা জেলার মৈনপাট এলাকায় সরকারি নিয়মের বেড়াজালে বন্দি এক মানবিক অথচ চরম অসহায়তার চিত্র সামনে এসেছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সম্প্রতি একটি ভিডিও ব্যাপকভাবে ভাইরাল হয়েছে, যা দেখে নেটিজেনরা একাধারে আবেগপ্রবণ এবং ক্ষুব্ধ। ভিডিওটিতে দেখা যাচ্ছে, সুখমনিয়া বাই নামের এক নারী তাঁর ৯০ বছর বয়সী বৃদ্ধা শাশুড়িকে পিঠে নিয়ে মাইলের পর মাইল হেঁটে ব্যাংকের দিকে এগিয়ে চলছেন। বৃদ্ধার সামান্য পেনশনের টাকা তুলতে এই তীব্র গরমের মধ্যে জঙ্গল, ভাঙাচোরা রাস্তা আর জলমগ্ন ছোট নালা পার হয়ে প্রায় ৯ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে বাধ্য হন ওই গৃহবধূ।
নিয়মের জাঁতাকলে বিপন্ন বৃদ্ধাশ্রম
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সরকারি নিয়ম অনুযায়ী পেনশনের টাকা পেতে হলে প্রবীণ হিতাধিকারীকে সশরীরে ব্যাংকে উপস্থিত হতে হয়। সেখানে আঙুলের ছাপ (ফিঙ্গারপ্রিন্ট) এবং অন্যান্য বায়োমেট্রিক তথ্য যাচাই করার পরেই কেবল টাকা দেওয়া হয়। নিয়মভঙ্গের কোনো সুযোগ না থাকায় প্রতিবারই এই চরম শারীরিক ধকল সহ্য করে বৃদ্ধাকে ব্যাংকে নিয়ে যেতে হয় পরিবারটিকে। আগে গ্রামের কাছাকাছি এই পেনশনের টাকা পাওয়ার ব্যবস্থা থাকলেও, বর্তমান নিয়মের কারণে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন এই দুর্গম এলাকার মানুষ। মাত্র ১৫০০ টাকার পেনশনের জন্য জীবন বাজি রেখে এই দীর্ঘ পথ পাড়ি দেওয়ার ঘটনা সরকারি ব্যবস্থার সংবেদনশীলতাকেই বড়সড় প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে।
পরিকাঠামোর অভাব ও ভবিষ্যতের আশঙ্কা
এই দুর্ভোগের মূল কারণ শুধু ব্যাংকিং নিয়ম নয়, বরং গ্রামীণ পরিকাঠামোর চরম বিপর্যয়। মৈনপাটের ওই সংশ্লিষ্ট গ্রামে যাতায়াতের জন্য কোনো পাকা রাস্তা বা গণপরিবহনের সুব্যবস্থা নেই। ফলে আপদকালীন পরিস্থিতি কিংবা সরকারি সুবিধার জন্য গ্রামবাসীদের একমাত্র ভরসা পায়ে হাঁটা পথ। বিশেষজ্ঞদের মতে, বায়োমেট্রিক যাচাইকরণের মতো ডিজিটাল নিয়মগুলো গ্রামীণ বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে শিথিল না করলে ভবিষ্যতে প্রবীণ ও শারীরিকভাবে অক্ষম ব্যক্তিদের জন্য এই ধরণের সরকারি ভাতা পাওয়া আরও দুরূহ হয়ে উঠবে। ব্যাংকিং পরিষেবা এবং যাতায়াত ব্যবস্থার আধুনিকীকরণ না হলে প্রান্তিক মানুষেরা মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হতেই থাকবেন।
এক ঝলকে
- ছত্তিশগড়ের মৈনপাটে ৯০ বছরের বৃদ্ধা শাশুড়িকে পিঠে নিয়ে ৯ কিলোমিটার হেঁটে ব্যাংকে পৌঁছালেন পুত্রবধূ সুখমনিয়া বাই।
- বৃদ্ধার বায়োমেট্রিক ও আঙুলের ছাপ যাচাইয়ের সরকারি নিয়মের বাধ্যবাধকতার কারণেই সশরীরে ব্যাংকে যেতে হয়েছিল।
- এলাকায় রাস্তাঘাট ও যানবাহন ব্যবস্থার চরম অভাব থাকায় জঙ্গল ও নালা পেরিয়ে গ্রামবাসীদের পায়ে হেঁটে যাতায়াত করতে হয়।
- মাত্র ১৫০০ টাকার পেনশনের জন্য প্রবীণ নাগরিকদের ব্যাংকে আসার এই নিয়ম এবং পরিকাঠামোর অভাব সরকারি সিস্টেমের ব্যর্থতাকে তুলে ধরেছে।