বেহালায় প্রাক্তন কাউন্সিলরের মদতে খেলার মাঠ ‘চুরি’, কাঠগড়ায় প্রোমোটার চক্র

বেহালায় প্রাক্তন কাউন্সিলরের মদতে খেলার মাঠ ‘চুরি’, কাঠগড়ায় প্রোমোটার চক্র

কলকাতার বুকে এবার আস্ত খেলার মাঠ বেদখল করার চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠল। বেহালার পর্ণশ্রী এলাকায় কিশোর-কিশোরীদের খেলার উন্মুক্ত জায়গা জোরপূর্বক দখল করে সেখানে ঘর তৈরি এবং জমি বিক্রি করে দেওয়ার ঘটনায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়েছে। ঘটনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ১২৯ নম্বর ওয়ার্ডের প্রাক্তন তৃণমূল কাউন্সিলর অঞ্জন দাস। অভিযোগ, তাঁর প্রত্যক্ষ মদতেই এলাকার এক প্রভাবশালী প্রোমোটার এবং তাঁর সহযোগীরা এই মাঠটি গ্রাস করেছে। এই ঘটনায় প্রাক্তন কাউন্সিলর সহ প্রোমোটার অরূপ এবং তাঁর সঙ্গী অজয় ও লাল্টুর বিরুদ্ধে পর্ণশ্রী থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ক্ষুব্ধ বাসিন্দারা।

উন্নয়নের নামে প্রতারণা ও জমি বিক্রি

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, বেশ কয়েক বছর আগে থেকেই মাঠটির ওপর নজর পড়েছিল স্থানীয় প্রোমোটার চক্রের। তৎকালীন কাউন্সিলরের প্রচ্ছন্ন মদতে মাঠটির চারপাশে প্রথমে পাঁচিল দেওয়া শুরু হয়। সাধারণ মানুষ ভেবেছিলেন মাঠের আধুনিকীকরণ বা সংস্কার করা হচ্ছে। কিন্তু কিছুদিন পরই দেখা যায় মাঠের এক প্রান্তে বেড়ার ঘর তৈরি করে ভাড়াটে বসিয়ে দেওয়া হয়েছে। এখানেই শেষ নয়, মাঠের জমি বেআইনিভাবে কয়েকজনের কাছে বিক্রিও করে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। সম্প্রতি মাঠের বাকি অংশে নতুন করে স্থায়ী কাঠামো তৈরির চেষ্টা করা হলে বাসিন্দারা প্রতিবাদ করেন। প্রতিবাদীদের ওপর নানাবিধ হুমকিও দেওয়া হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। রাজ্যে নতুন সরকার আসার পর অবশেষে বাসিন্দারা একজোট হয়ে পর্ণশ্রী থানার দ্বারস্থ হন।

পুলিশি তদন্ত ও সম্ভাব্য প্রভাব

থানায় অভিযোগ দায়ের হওয়ার পর ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে তদন্তে নেমেছে পুলিশ। সরকারি বা পুরসভার মালিকানাধীন খেলার মাঠে কোন এক্তিয়ারে পাঁচিল তোলা হলো এবং সেখানে সাধারণ মানুষের প্রবেশাধিকার বন্ধ করা হলো, তা খতিয়ে দেখছে প্রশাসন। এই বেআইনি নির্মাণ ও জমি বিক্রির পেছনে পুরসভার কোনো অনুমতি ছিল কি না, তাও যাচাই করা হচ্ছে। পুলিশ সূত্রে খবর, জিজ্ঞাসাবাদের জন্য অভিযুক্ত প্রাক্তন কাউন্সিলর অঞ্জন দাসকে দ্রুত নোটিস পাঠানো হতে পারে। একই সঙ্গে অভিযুক্ত প্রোমোটার ও তাঁর সঙ্গীদের সন্ধানে তল্লাশি শুরু হয়েছে। পরিবেশকর্মী ও স্থানীয় বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের ঘটনা শহরের সবুজায়ন ও উন্মুক্ত স্থানের সংকটকে আরও তীব্র করবে, যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের ক্ষেত্রে মারাত্মক ক্ষতিকর প্রভাব ফেলবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *