জনগণের করের টাকা প্রভাবশালীদের পকেটে! আসানসোলে ফাঁস পুরসভার পার্কিং কেলেঙ্কারি

পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক পালাবদলের পর থেকেই রাজ্যজুড়ে একের পর এক সরকারি দপ্তরে দুর্নীতির জট খুলতে শুরু করেছে। এবার আসানসোল পুরসভার পার্কিং জোনকে কেন্দ্র করে এক বিশাল আর্থিক কেলেঙ্কারির হদিশ মিলেছে। সরকারি কোষাগারে রাজস্ব জমা না দিয়ে জাল স্লিপের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের এই চক্রে সরাসরি জড়িয়ে পড়েছে স্থানীয় কয়েকজন তৃণমূল নেতার নাম। সোমবার আসানসোল বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন বাজার এলাকায় আসানসোল-দুর্গাপুর পুলিশের এক বিশেষ অভিযানে এই চক্রের পর্দাফাঁস হয়। ঘটনাস্থল থেকে নকল স্লিপসহ চারজন পার্কিং কর্মীকে আটক করেছে পুলিশ।
রাজস্বে ব্যাপক ঘাটতি ও বেআইনি সাম্রাজ্য
অনুসন্ধানে জানা গেছে, আসানসোলের দূরপাল্লার বাস, মিনিবাস, দুই চাকা ও চার চাকার গাড়ি থেকে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে টাকা আদায় করা হচ্ছিল। ধৃত কর্মীদের জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ জানতে পেরেছে, উত্তর আসানসোলের বাসিন্দা হানি সিং এই চক্রের মূল হোতা, যার খোঁজে বর্তমানে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। এর আগে গত শনিবারও আসানসোল বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে বাপ্পা রায় নামে এক ব্যক্তির পরিচালিত একই ধরনের বেআইনি পার্কিংয়ের সন্ধান পেয়েছিল পুলিশ। অভিযোগ, এই গোটা নেটওয়ার্কটিই শাসকদলের স্থানীয় নেতাদের মদতে চলত। শুধুমাত্র পার্কিং জোনই নয়, বালি ও পাথর খাদানসহ বিভিন্ন লাভজনক সরকারি ক্ষেত্র প্রভাবশালীদের দখলে চলে যাওয়ায় রাজ্যের রাজস্বে ব্যাপক ঘাটতি দেখা দিয়েছে।
প্রশাসনের কড়া পদক্ষেপ ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
এই চক্রটি প্রকাশ্যে আসার পর নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন। পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পল কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছেন যে, রাজ্যে আর কোনো বেআইনি পার্কিং বরদাস্ত করা হবে না। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং স্বচ্ছতা ফেরাতে এবার থেকে বৈধ পার্কিং স্পটগুলোকে মাটির ওপর নির্দিষ্ট রং দিয়ে চিহ্নিত করে দেওয়া হবে। পার্কিংয়ের দায়িত্বে থাকা কর্মীদের জন্য নির্দিষ্ট ইউনিফর্ম বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে এবং গাড়ি চালকদের দেওয়া স্লিপের ওপর কড়া নজরদারি চালানো হবে। প্রশাসনের এই কঠোর অবস্থানের ফলে একদিকে যেমন বেআইনিভাবে টাকা তোলা বন্ধ হবে, অন্যদিকে সরকারি কোষাগারে সঠিক পরিমাণ রাজস্ব জমা পড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।