গোপন বাঙ্কারে ইরানের সুপ্রিম লিডার, বার্তা আদানপ্রদানে ব্যবহার হচ্ছে জটিল কুরিয়ার নেটওয়ার্ক!

ইরানের নয়া সুপ্রিম লিডার হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই সম্পূর্ণ অন্তরালে রয়েছেন মোজতবা খামেনেই। তাঁর এই রহস্যময় অন্তর্ধান এবং শারীরিক অবস্থা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে যখন নানামুখী জল্পনা চলছে, ঠিক তখনই বিষয়টি নিয়ে বিস্ফোরক দাবি করেছে মার্কিন গোয়েন্দারা। আমেরিকার গোয়েন্দা বিভাগের দাবি, মোজতবা খামেনেই বর্তমানে একটি অত্যন্ত সুরক্ষিত গোপন বাঙ্কারে আশ্রয় নিয়েছেন। বাইরের বিশ্বের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ এখন একেবারেই সীমিত। এমনকি প্রশাসনের জরুরি বার্তা আদানপ্রদানের জন্য একটি অত্যন্ত জটিল ও বিশেষ কুরিয়ার নেটওয়ার্ক ব্যবহার করা হচ্ছে।
মার্কিন কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মোজতবার এই কঠোর গোপনীয়তা ও জটিল যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে কূটনৈতিক ক্ষেত্রে বড় ধরনের জটিলতা তৈরি হচ্ছে। আমেরিকার পাঠানো যেকোনো শান্তি প্রস্তাবের খসড়া মোজতবার হাতে পৌঁছাতে যেমন দীর্ঘ সময় লাগছে, তেমনই সেখান থেকে ফিরতি জবাব আসতেও চরম বিলম্ব হচ্ছে। শুধু বিদেশি কূটনীতিকরাই নন, ইরানের অভ্যন্তরীণ শীর্ষ কর্মকর্তাদেরও সুপ্রিম লিডারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে গিয়ে রীতিমতো হিমশিম খেতে হচ্ছে। তবে এই মুহূর্তে মোজতবা ঠিক কোথায় অবস্থান করছেন, নিরাপত্তার স্বার্থে সেই নির্দিষ্ট স্থানটি নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি হোয়াইট হাউস।
নিরাপত্তা সংকট ও সুপ্রিম লিডারের শারীরিক অবস্থা
মোজতবার এমন নজিরবিহীন অন্তরালে চলে যাওয়ার মূল কারণ হিসেবে তাঁর জীবননাশের আশঙ্কা এবং সাম্প্রতিক হামলাকে দায়ী করা হচ্ছে। সূত্রের খবর, সুপ্রিম লিডারের ওপর পুনরায় বড় ধরনের কোনো হামলা হতে পারে— এমন সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতেই ইরান সরকার তাঁর সুরক্ষায় এই সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করেছে। পরিস্থিতি এতটাই সংবেদনশীল যে, ইরানের প্রথম সারির অনেক উচ্চপদস্থ আধিকারিকও জানেন না যে মোজতবা আসলে কোথায় লুকিয়ে আছেন। বাঙ্কারে বসেই তিনি কেবল রাষ্ট্রের প্রধান নীতিগত সিদ্ধান্ত এবং গুরুত্বপূর্ণ বড় নির্দেশগুলো দিচ্ছেন।
অন্যদিকে, তাঁর শারীরিক অবস্থা নিয়ে ছড়ানো নানা জল্পনা উড়িয়ে দিয়েছে ইরানের একটি স্থানীয় সংবাদমাধ্যম। তাদের দাবি, শত্রুপক্ষ সুপ্রিম লিডারকে খুঁজে না পেয়ে ক্রমাগত বিভ্রান্তিকর গুজব ছড়াচ্ছে। বর্তমানে মোজতবা অনেকটাই সুস্থ আছেন এবং তাঁর পুরোনো আঘাতগুলো দ্রুত সেরে উঠছে। শত্রুর নজর থেকে দূরে রাখতেই এই কৌশল নেওয়া হয়েছে এবং সঠিক সময়েই তিনি জনসমক্ষে উপস্থিত হবেন।
বৈশ্বিক কূটনীতিতে বড় প্রভাবের আশঙ্কা
বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতির মধ্যে ইরানের সুপ্রিম লিডারের এভাবে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে যেকোনো সম্ভাব্য শান্তিচুক্তি বা যুদ্ধবিরতির আলোচনা এই মন্থর যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে ভেস্তে যেতে পারে। প্রশাসনের শীর্ষ মহলের সঙ্গে সুপ্রিম লিডারের এই বিশাল দূরত্বের ফলে যেকোনো জরুরি মুহূর্তে তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা ব্যাহত হতে পারে, যা সামগ্রিকভাবে মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিকে আরও বেশি অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দেবে।