মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু ও বিজেপি নেতাদের নিয়ে অশালীন ভিডিয়ো ছড়ানোর অভিযোগ, পুলিশের জালে মূল অভিযুক্ত

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু ও বিজেপি নেতাদের নিয়ে অশালীন ভিডিয়ো ছড়ানোর অভিযোগ, পুলিশের জালে মূল অভিযুক্ত

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার এবং রাজ্যের মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ সহ রাজ্য বিজেপির একাধিক মহিলা নেত্রীকে নিয়ে সমাজমাধ্যমে অত্যন্ত কুরুচিকর ও অশালীন ভিডিও ছড়ানোর অভিযোগে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করল কলকাতা পুলিশের সাইবার অপরাধ শাখা (Cyber Crime Cell)। ধৃতের নাম রাজেশ চক্রবর্তী, যিনি নিউ টাউনের বাসিন্দা। সোমবার তাঁকে আদালতে তোলা হলে বিচারক আগামী ২৭ মে পর্যন্ত তাঁকে পুলিশি হেফাজতে রাখার নির্দেশ দিয়েছেন।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, এই ঘটনার সূত্রপাত ঘটে বিজেপি নেত্রী প্রিয়াঙ্কা টিবরেওয়ালের একটি সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে। গত ২১ মে কলকাতা পুলিশের সাইবার থানায় এই বিষয়ে একটি মামলা রুজু করা হয়। অভিযোগ ছিল, সমাজমাধ্যমে প্রচারিত একটি নির্দিষ্ট ভিডিওতে রাজ্যের শীর্ষ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব এবং মহিলা নেত্রীদের লক্ষ্য করে চরম মানহানিকর ও অশালীন মন্তব্য করা হয়েছে।

তদন্তে উঠে এল আর্থিক লেনদেনের তত্ত্ব

ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পারে, ভিডিওটি প্রথমবার সমাজমাধ্যমে আপলোড করেছিলেন পার্থ নাগ নামে এক ব্যক্তি, যিনি পরবর্তীতে সেটি নিজের ফেসবুক প্রোফাইল থেকে মুছেও দেন। পার্থকে জিজ্ঞাসাবাদ করতেই আসল চক্রান্ত সামনে আসে। জেরায় পার্থ দাবি করেন, ২০২৩ সালে ধৃত রাজেশ চক্রবর্তীর প্ররোচনা ও নির্দেশেই তিনি ওই বিতর্কিত ভিডিওটি তৈরি এবং আপলোড করেছিলেন। শুধু তাই নয়, এই কাজের বিনিময়ে রাজেশ তাঁকে একাধিকবার ২,০০০ টাকা করে আর্থিক সুবিধাও দিয়েছিলেন।

তদন্তে অসহযোগিতা ও চ্যাট ডিলিটের অভিযোগ

পুলিশের দাবি, অভিযোগের ভিত্তিতে রাজেশকে প্রথমে নোটিস পাঠানো হলেও তিনি হাজিরা দেননি। দ্বিতীয় নোটিসে সাইবার থানায় উপস্থিত হলেও তদন্তে বিন্দুমাত্র সহযোগিতা করেননি তিনি। উল্টে, এই ঘটনার সাথে জড়িত নিজের ফোনের গুরুত্বপূর্ণ হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট ও তথ্য তিনি মুছে ফেলেন (Delete)। এছাড়া পার্থ নাগের সাথে আর্থিক লেনদেনের বিষয়েও তিনি কোনো সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে পারেননি। এর পরেই পুলিশ তাঁকে গ্রেফতার করার সিদ্ধান্ত নেয়।

তদন্তকারীদের অনুমান, কয়েক বছর আগে তৈরি এই ভিডিও ছড়ানোর পিছনে কোনো বৃহত্তর রাজনৈতিক চক্রান্ত বা গভীর কোনো উদ্দেশ্য থাকতে পারে। এই ঘটনার পিছনে অর্থের আসল উৎস কী এবং রাজেশের সাথে আর কারা জড়িত ছিলেন, তা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখতেই ধৃতকে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে জেরা শুরু করেছে কলকাতা পুলিশ।

এক ঝলকে

  • মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ও বিজেপি নেতাদের নিয়ে অশালীন ভিডিও ছড়ানোর অভিযোগে নিউ টাউন থেকে গ্রেফতার রাজেশ চক্রবর্তী।
  • বিজেপি নেত্রী প্রিয়াঙ্কা টিবরেওয়ালের অভিযোগের ভিত্তিতে গত ২১ মে সাইবার থানায় মামলা রুজু হয়।
  • ভিডিও নির্মাতা পার্থ নাগের দাবি, ২০২৩ সালে রাজেশের আর্থিক প্রলোভন ও প্ররোচনাতেই তিনি এই কাজ করেছিলেন।
  • তথ্যপ্রমাণ লোপাট ও তদন্তে অসহযোগিতার অভিযোগে গ্রেফতার; আদালত ২৭ মে পর্যন্ত পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *