মানিকতলায় কারখানায় ৪ দিনের মাথায় শ্রমিকের রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার, তদন্তের দায়িত্বে লালবাজারের হোমিসাইড শাখা

উত্তর কলকাতার মানিকতলা থানা এলাকার একটি লোহার শিকল তৈরির কারখানার ভিতর থেকে এক শ্রমিকের রক্তাক্ত মৃতদেহ উদ্ধারকে কেন্দ্র করে তীব্র চাঞ্চল্য ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। মৃত শ্রমিকের নাম অরূপ ঘোষ (Arup Ghosh)। অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হলো, মাত্র চারদিন আগেই তিনি এই কারখানায় কাজে যোগ দিয়েছিলেন। ঘটনার ভয়াবহতা এবং প্রাথমিক পারিপার্শ্বিক তথ্যপ্রমাণ খতিয়ে দেখে তদন্তের ভার নিজেদের হাতে নিয়েছে কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের (DD) হোমিসাইড শাখা।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মানিকতলা মেন রোড সংলগ্ন ওই কারখানার ভিতরে সোমবার সকালে অরূপবাবুর রক্তাক্ত দেহ পড়ে থাকতে দেখেন অন্য কর্মীরা। খবর পেয়েই নারকেলডাঙা এবং মানিকতলা থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে দেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়। প্রাথমিকভাবে দেহের আঘাতের চিহ্ন দেখে পুলিশের অনুমান, এটি কোনো স্বাভাবিক মৃত্যু বা দুর্ঘটনা নয়, বরং এর পিছনে সুপরিকল্পিত খুন বা অন্য কোনো অপরাধমূলক কারণ থাকতে পারে।
তদন্তে লালবাজারের গোয়েন্দারা, আটক ২
ঘটনার গুরুত্ব অনুধাবন করে লালবাজারের হোমিসাইড শাখার গোয়েন্দারা ইতিমধ্যেই ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গিয়েছেন। পুরো ঘটনার সত্য উদঘাটনে কারখানার ভিতরের পরিবেশ, শনিবার রাতে কারা সেখানে উপস্থিত ছিলেন এবং কারখানার অন্যান্য কর্মীদের গতিবিধি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তের স্বার্থে কারখানার ও আশেপাশের এলাকার সিসিটিভি (CCTV) ফুটেজ এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান সংগ্রহ করছে পুলিশ। এই ঘটনায় জড়িত থাকার সন্দেহে ইতিমধ্যেই দু’জনকে আটক করে ম্যারাথন জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছেন তদন্তকারীরা। মাত্র চারদিনের মাথায় নবাগত এক শ্রমিকের এমন নৃশংস পরিণতি কেন হলো, তা নিয়ে এখনও ধোঁয়াশা কাটেনি।
এক ঝলকে
- উত্তর কলকাতার মানিকতলা মেন রোড সংলগ্ন লোহার শিকল তৈরির কারখানায় শ্রমিকের রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার।
- মৃত শ্রমিকের নাম অরূপ ঘোষ; মাত্র চারদিন আগে ওই কারখানায় কাজে যোগ দিয়েছিলেন তিনি।
- মৃত্যুর পিছনে গভীর রহস্য থাকায় তদন্তের দায়িত্ব নিল কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের হোমিসাইড শাখা।
- সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান নিয়ে তদন্ত শুরু; জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক ২।