মিস পুণে তিশা মৃত্যু মামলায় স্বামীর বিস্ফোরক দাবি, নেপথ্যে কি সম্পর্কের তিক্ততা নাকি মানসিক নির্যাতন?

সাবেক ‘মিস পুণে’ তিশা শর্মার রহস্যজনক মৃত্যুতে দেশজুড়ে তোলপাড় চলছে। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই ইতিমধ্যেই এই হাইপ্রোফাইল মামলার তদন্তভার হাতে নিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে এবার মুখ খুললেন মৃতার স্বামী সমর্থ সিং। তাঁর দাবি, গর্ভপাতের পর থেকেই তাঁদের দাম্পত্য সম্পর্কে চরম তিক্ততা তৈরি হয়েছিল। এমনকি তিনি স্ত্রীকে এককালীন ৭ লক্ষ টাকাও দিয়েছিলেন বলে দাবি করেছেন। তবে ঠিক কী কারণে এই বিপুল অঙ্কের অর্থ দেওয়া হয়েছিল, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
পেশায় আইনজীবী সমর্থ এবং তাঁর পরিবারের দাবি, বিয়ের কিছুদিন পর থেকেই তিশার আচরণে অস্বাভাবিকতা লক্ষ্য করা যায়। তিনি মডেলিং জীবন নিয়ে বেশি ভাবতেন এবং সাংসারিক জীবনে বীতশ্রদ্ধ হয়ে পড়েছিলেন। প্রায় ১০ দিন পলাতক থাকার পর সম্প্রতি জবলপুর থেকে গ্রেপ্তার হওয়া সমর্থ জেরায় দাবি করেন, গর্ভধারণের বিষয়টি জানার পর থেকেই তিশার সঙ্গে তাঁর বিবাদ শুরু হয়, যা পরবর্তীতে আরও জটিল রূপ নেয়।
সাফল্যের চূড়া থেকে মৃত্যুর অন্ধকার
শিক্ষাগত ও পেশাগত জীবনে অত্যন্ত সফল ছিলেন তিশা। বিবিএ ও এমবিএ শেষ করে মুম্বই ও দিল্লির প্রথম সারির সংস্থায় চাকরি করার পাশাপাশি গ্ল্যামার জগতেও নিজের স্থান পাকা করেছিলেন তিনি। ‘মিস পুণে’ খেতাব জেতার পাশাপাশি একটি তেলুগু ছবিতেও অভিনয় করেন। ২০২৪ সালে একটি ডেটিং অ্যাপের মাধ্যমে আইনজীবী সমর্থের সঙ্গে আলাপ এবং ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে তাঁদের বিয়ে হয়। কিন্তু বিয়ের মাত্র ৫ মাসের মাথায় ভোপালের শ্বশুরবাড়ি থেকে তাঁর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার করা হয়। ময়নাতদন্তের রিপোর্টে একে আত্মহত্যা বলে উল্লেখ করা হলেও ঘটনার গভীরতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
তদন্তে প্রভাব খাটানোর অভিযোগ ও সুপ্রিম কোর্টের নজরদারি
তিশার পরিবারের অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই তাঁর ওপর চরম মানসিক নির্যাতন চালানো হতো এবং এর পেছনে পণের দাবিও ছিল। মৃত্যুর কিছুদিন আগে মায়ের কাছে পাঠানো একাধিক মেসেজে তিশা নয়ডার নিজের বাড়িতে ফেরার আকুল আর্জি জানিয়েছিলেন এবং ফেরার টিকিটও কেটেছিলেন। তিশার শাশুড়ি একজন প্রাক্তন বিচারক এবং স্বামী আইনজীবী হওয়ায় শুরু থেকেই তদন্ত প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করার অভিযোগ উঠছিল।
এই আবহে সুপ্রিম কোর্ট স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে মামলা রুজু করেছে। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি বিপুল এম পাঞ্চোলির ডিভিশন বেঞ্চে এই মামলার শুনানি চলছে। আইন বিভাগ অভিযুক্তদের আড়াল করছে— সংবাদমাধ্যমের এমন প্রচারের প্রেক্ষিতে শীর্ষ আদালত মিডিয়া ট্রায়াল নিয়ে কড়া সতর্কবার্তা দিয়েছে। সিবিআই তদন্তের হাত ধরে এখন এই রহস্যের প্রকৃত কারণ এবং এর পেছনে থাকা মানসিক ও সামাজিক প্রভাবের আসল সত্য উদঘাটিত হবে বলে মনে করা হচ্ছে।