সময়সূচির আগেই এগোচ্ছে মৌসুমি বায়ু, জুনের শুরুতেই কি বাংলায় বর্ষার আগমন?

নির্দিষ্ট সময়ের চার দিন আগেই দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু আন্দামান ও নিকোবার দ্বীপপুঞ্জে পৌঁছে গিয়েছে। ভারত মহাসাগর ও বঙ্গোপসাগরের দক্ষিণ অংশে ইতিমধ্যেই বর্ষা পুরোপুরি সক্রিয়। আলিপুর আবহাওয়া দফতর এবং আইএমডি (IMD)-র পূর্বাভাস অনুযায়ী, বঙ্গোপসাগরে তৈরি হওয়া একটি নিম্নচাপের কারণেই এ বছর বর্ষার এই দ্রুত অগ্রগতি। স্বাভাবিক নিয়ম অনুযায়ী ২০ মে আন্দামান অঞ্চলে বর্ষা ঢোকার কথা থাকলেও, নিম্নচাপের অনুকূল প্রভাবে তা অনেকটাই এগিয়ে এসেছে। এর ফলে ভারতের মূল ভূখণ্ডেও নির্ধারিত সময়ের আগে বর্ষা প্রবেশের প্রবল সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
কেরলে আগাম এন্ট্রি এবং বাংলার ওপর প্রভাব
সাধারণত ১ জুন কেরলে বর্ষার আগমন ঘটে। তবে বর্তমান আবহাওয়ার যা পরিস্থিতি, তাতে আজকালের মধ্যেই কেরলে বর্ষা ঢুকে পড়তে পারে। অর্থাৎ, স্বাভাবিক সময়ের প্রায় এক সপ্তাহ আগেই কেরলে বর্ষার এন্ট্রি হচ্ছে। আবহাওয়াবিদদের মতে, কেরলে নির্ধারিত সময়ের আগে মৌসুমি বায়ু প্রবেশ করলে তার সরাসরি প্রভাব পড়বে পূর্ব ভারতে। দক্ষিণবঙ্গে সাধারণত জুনের দ্বিতীয় সপ্তাহে বর্ষা পৌঁছায়। তবে বর্তমানের এই অনুকূল পরিস্থিতির জেরে এবার জুন মাসের শুরুতেই বাংলায় বর্ষা ঢুকে পড়তে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
ঘন ঘন ঝড়-বৃষ্টি ও আর্দ্রতার অস্বস্তি
বর্তমানে উত্তরবঙ্গের একাধিক জেলায় ভারী বৃষ্টি এবং বজ্রবিদ্যুৎ-সহ ঝড়ের পূর্বাভাস জারি করা হয়েছে। অন্যদিকে দক্ষিণবঙ্গেও কালবৈশাখীর দাপট বাড়ছে। বাতাসে জলীয় বাষ্পের আধিক্য এবং ঘন ঘন এই ঝড়-বৃষ্টি মৌসুমি বায়ুকে দ্রুত এগিয়ে আসতে সাহায্য করছে। তবে বর্ষার আগমনবার্তা মিললেও কলকাতা ও দক্ষিণবঙ্গের বিস্তীর্ণ এলাকায় এখনই ভ্যাপসা গরম থেকে মুক্তি মিলছে না। বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ অত্যন্ত বেশি থাকায় তাপমাত্রা খুব বেশি না বাড়লেও চরম অস্বস্তি বজায় রয়েছে। আলিপুর আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, আগামী কয়েকদিন দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিতে বিক্ষিপ্ত বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়া চললেও আর্দ্রতাজনিত অস্বস্তি আরও কিছুদিন ভোগাবে।