ভ্রমণে ওত পেতে থাকা অদৃশ্য বিপদ রুখবে আপনার হাতের স্মার্টফোন!

আজকাল ছুটি পেলেই পাহাড় কিংবা সমুদ্রের টানে ঘর থেকে বেরিয়ে পড়া অনেকেরই প্রিয় অভ্যাস। কিন্তু এই আনন্দের মাঝেও বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে হোটেলের গোপন ক্যামেরা। উত্তরপ্রদেশের জানপুর থেকে শুরু করে হায়দরাবাদের শামশাবাদ— সম্প্রতি একাধিক হোটেলে পর্যটকদের একান্ত ব্যক্তিগত মুহূর্ত গোপনে ক্যামেরাবন্দি করার মতো চাঞ্চল্যকর ঘটনা সামনে এসেছে। এই ধরনের অনভিপ্রেত পরিস্থিতি এড়াতে এবং ব্যক্তিগত গোপনীয়তা বজায় রাখতে এখন অন্যতম বড় হাতিয়ার হতে পারে পকেটে থাকা স্মার্টফোনটি। শুধু ফোনে কয়েকটি বিশেষ অ্যাপ ডাউনলোড করে নিলেই চেনা যাবে ঘরের লুকিয়ে থাকা স্পাই ক্যামেরা।
প্রযুক্তির ঢাল ও তিন অ্যাপের কার্যকারিতা
হোটেলরুমে ঢুকেই চারপাশটা ভালো করে পরীক্ষা করে নেওয়ার জন্য মূলত তিনটি অ্যাপ অত্যন্ত কার্যকরী ভূমিকা পালন করে। প্রথম অ্যাপটি হলো ‘ফিঙ্গ’ (Fing)। এটি হোটেলের ওয়াই-ফাই নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত সমস্ত ডিভাইসের তালিকা মাত্র কয়েক সেকেন্ডে সামনে এনে দেয়। ফলে ওই নেটওয়ার্কে কোনো অজানা আইপি ক্যামেরা বা সন্দেহজনক ডিভাইস থাকলে তা সহজেই শনাক্ত করা সম্ভব হয়।
দ্বিতীয় অ্যাপ ‘হিডেন ক্যামেরা ডিটেকটর’ (Hidden Camera Detector) কাজ করে ফোনের ম্যাগনেটিক সেন্সরের ওপর ভিত্তি করে। যেকোনো ইলেকট্রনিক ডিভাইসের একটি নির্দিষ্ট চৌম্বকীয় ক্ষেত্র থাকে। ঘরের সন্দেহজনক জায়গা যেমন— দেওয়াল ঘড়ি, ফুলের টব বা আয়নার সামনে ফোনটি ধরলে এই অ্যাপের রেডিয়েশন মিটারটি বেড়ে যায় এবং বিপ শব্দ করে ব্যবহারকারীকে সতর্ক করে দেয়।
তৃতীয় অ্যাপটি হলো ‘গ্লিন্ট ফাইন্ডার’ (Glint Finder), যা ক্যামেরার লেন্সের প্রতিফলনকে ধরে ফেলে। অ্যাপটি চালু করলে ফোনের ফ্ল্যাশলাইটটি একটি বিশেষ ফ্রিকোয়েন্সিতে জ্বলতে-নিভতে শুরু করে। অন্ধকার ঘরে ফোনটি চারদিকে ঘোরালে কোনো লুকোনো লেন্স থাকলে তা থেকে আলো প্রতিফলিত হয়ে ফোনের স্ক্রিনে উজ্জ্বল বিন্দু হিসেবে ভেসে ওঠে। অ্যান্ড্রয়েড এবং আইফোন— উভয় প্ল্যাটফর্মের অ্যাপ স্টোর থেকেই এই জরুরি অ্যাপগুলো বিনামূল্যে ডাউনলোড করা যায়।
নিরাপত্তার সম্ভাব্য প্রভাব
প্রযুক্তির এই সহজলভ্য ব্যবহারের ফলে সাধারণ পর্যটকদের নিরাপত্তা ও সচেতনতা অনেকটাই বৃদ্ধি পাবে। ঘরে প্রবেশ করেই মাত্র কয়েক মিনিটের এই সাধারণ পরীক্ষা অসাধু চক্রের জালিয়াতি রুখে দিতে সক্ষম। এর ফলে যেমন একদিকে পর্যটকদের মানসিক স্বস্তি ফিরবে, ঠিক তেমনই হোটেল কর্তৃপক্ষের নজরদারি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর চাপ বাড়বে, যা পরোক্ষভাবে পর্যটন শিল্পে সুস্থ পরিবেশ বজায় রাখতে সাহায্য করবে।