লাইনের ওপর ড্রোন, সুরক্ষায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা! এবার সম্পূর্ণ ‘টেক-চালিত’ হচ্ছে ভারতীয় রেল
যাত্রীদের নিরাপত্তা আরও জোরদার করতে এবং ট্রেন ও স্টেশন চত্বরে যেকোনো ধরনের অসামাজিক কার্যকলাপ রুখতে এবার কোমর বেঁধে নামছে ভারতীয় রেল। প্রথাগত নজরদারির গণ্ডি পেরিয়ে এবার রেলের গোটা নেটওয়ার্ক জুড়ে চালু হতে চলেছে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি-চালিত নিরাপত্তা ব্যবস্থা। রেললাইনের ওপর ড্রোনের নজরদারি থেকে শুরু করে স্টেশন চত্বরে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (AI)-ভিত্তিক মনিটরিং— ভারতীয় রেলের সুরক্ষাবলয়কে সম্পূর্ণ ঢেলে সাজানোর প্রস্তুতি শুরু হয়ে গিয়েছে।
মঙ্গলবার রেল ভবনে রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণবের নেতৃত্বে আয়োজিত একটি উচ্চ-পর্যায়ের বৈঠকে দেশব্যাপী এই মেগা নিরাপত্তা পরিকল্পনার ব্লুপ্রিন্ট চূড়ান্ত করা হয়েছে।
সুরক্ষায় যুক্ত হচ্ছে এআই (AI) ও ড্রোনের যুগলবন্দী
রেল আধিকারিকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, আধুনিকীকরণের এই প্রকল্পে মূল নজর দেওয়া হচ্ছে রিয়েল-টাইম (Real-time) বা তাৎক্ষণিক নজরদারির ওপর।
- এআই-ভিত্তিক সিসিটিভি: রেল স্টেশন এবং ট্রেনের কামরায় থাকা সিসিটিভি ক্যামেরাগুলিকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে যুক্ত করা হবে। এর ফলে জনাকীর্ণ স্টেশনেও কোনও ব্যক্তির সন্দেহজনক গতিবিধি বা আচরণ থাকলে এআই সিস্টেম তা নিজে থেকেই শনাক্ত করে কন্ট্রোল রুমে অ্যালার্ট পাঠাবে।
- ড্রোনের মাধ্যমে ট্র্যাকিং: স্টেশন চত্বরের পাশাপাশি মাইলের পর মাইল বিস্তৃত রেললাইনের নিরাপত্তায় ব্যবহার করা হবে ড্রোন। লাইনে কোনও নাশকতা বা ফাটল রয়েছে কি না, তা ড্রোনের ক্যামেরার সাহায্যে অনায়াসেই ধরে ফেলা যাবে।
- সাইবার সিকিউরিটি: শুধু মাঠপর্যায়ের নজরদারিই নয়, রেলের অভ্যন্তরীণ সার্ভার ও সিগন্যালিং ব্যবস্থাকে সুরক্ষিত রাখতে সাইবার নিরাপত্তা ব্যবস্থাকেও আরও শক্তিশালী করা হচ্ছে।
নাশকতার ছক রুখতে আঁটসাঁট গোয়েন্দা তৎপরতা
সাম্প্রতিক সময়ে কিছু রেল দুর্ঘটনার তদন্তে অসামাজিক কার্যকলাপের সংযোগ বা নাশকতার ইঙ্গিত মেলায় নড়েচড়ে বসেছে রেল মন্ত্রক। এই নিরাপত্তা পরিকল্পনার মাধ্যমে রেলওয়ে সুরক্ষা বাহিনী (RPF) এবং সরকারি রেলওয়ে পুলিশ (GRP)-এর মধ্যে সমন্বয় আরও বাড়ানো হচ্ছে। বিভিন্ন বিভাগের মধ্যে দ্রুত গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদানের মাধ্যমে যেকোনো হুমকির বিরুদ্ধে যাতে দ্রুত রেসপন্স বা প্রতিক্রিয়া জানানো যায়, তার পরিকাঠামো তৈরি হচ্ছে।
যাত্রীদের জন্য রেলের বিশেষ বার্তা: সন্দেহ হলেই কল করুন ‘১৩৯’ এ
রেল কর্তৃপক্ষ স্পষ্ট জানিয়েছে, এই বিশাল রেল নেটওয়ার্ককে সুরক্ষিত রাখতে যাত্রীদের সজাগ থাকাটাও অত্যন্ত জরুরি। ভ্রমণের সময় সাধারণ মানুষকে কয়েকটি বিষয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে:
- ট্রেনের ভিতরে বা স্টেশনে কোনও মালিকহীন বা পরিত্যক্ত ব্যাগ/বস্তু পড়ে থাকতে দেখলে স্পর্শ করবেন না।
- সহযাত্রী বা অন্য কারও আচরণ অস্বাভাবিক বা সন্দেহজনক মনে হলে এড়িয়ে যাবেন না।
- এই ধরনের যেকোনো পরিস্থিতিতে অবিলম্বে রেলওয়ের অফিশিয়াল হেল্পলাইন নম্বর ১৩৯-এ কল করে রেল পুলিশকে জানান।
পর্যায়ক্রমে দেশজুড়ে এই ‘স্মার্ট মনিটরিং সিস্টেম’ কার্যকর করা হবে, যা ভারতীয় রেলের যাত্রাকে আগামী দিনে আরও নিরাপদ ও ঝুঁকিমুক্ত করে তুলবে বলে আশাবাদী ওয়াকিবহাল মহল।
এক ঝলকে
- রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণবের উচ্চ-পর্যায়ের বৈঠকের পর ভারতীয় রেলে প্রযুক্তি-চালিত নিরাপত্তা ব্যবস্থার রূপরেখা ঘোষণা।
- সন্দেহজনক গতিবিধি ও নাশকতা রুখতে রেললাইন ও স্টেশনে এআই (AI) নজরদারি, ড্রোন এবং উন্নত সিসিটিভি ব্যবহার করা হবে।
- সাম্প্রতিক কিছু দুর্ঘটনার নেপথ্যে অসামাজিক কার্যকলাপের ইঙ্গিত মেলায় প্রতিরোধমূলক গোয়েন্দা ব্যবস্থায় জোর রেলের।
- যেকোনো সন্দেহজনক ঘটনা বা পরিত্যক্ত বস্তু নজরে এলে যাত্রীদের অবিলম্বে ১৩৯ হেল্পলাইন নম্বরে জানাতে অনুরোধ।