প্লে লিস্টে থাকা কিছু গানই কি ডেকে আনছে চরম বিপদ, জানুন সুরের জগতের সেই অন্ধকার রহস্য

প্লে লিস্টে থাকা কিছু গানই কি ডেকে আনছে চরম বিপদ, জানুন সুরের জগতের সেই অন্ধকার রহস্য

সঙ্গীতকে সাধারণত মনের খোরাক এবং মানসিক অবসাদ দূর করার মহৌষধ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। কিন্তু বিশ্ব সঙ্গীতের ইতিহাসে এমন কিছু সুর সৃষ্টি হয়েছে, যা শ্রোতা বা স্রষ্টার জন্য বয়ে এনেছে চরম বিপর্যয়, এমনকি মৃত্যুও। বছরের পর বছর ধরে বিশ্বজুড়ে এমন কিছু গানকে ঘিরে তৈরি হয়েছে অলৌকিক ও রহস্যময় আতঙ্ক। ‘অভিশপ্ত’ হিসেবে পরিচিত এই গানগুলির নেপথ্যে থাকা মনস্তাত্ত্বিক, সামাজিক ও ঐতিহাসিক কারণ আজ বিশ্বজুড়ে এক গভীর বিশ্লেষণের বিষয়।

আত্মহত্যা থেকে খুন, সুরের মায়াজালে লুকিয়ে থাকা ঘোর অন্ধকার

বিশ্বের সবচেয়ে কুখ্যাত এবং বিতর্কিত গানগুলির তালিকায় প্রথমেই আসে হাঙ্গেরির পিয়ানোবাদক রেজসো সেরেসে-র ১৯৩৩ সালের সৃষ্টি ‘গ্লুমি সানডে’। এই বিষণ্ণ সুরটি শোনার পর বহু মানুষ আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছিলেন বলে দাবি করা হয়। তবে সমাজবিজ্ঞানীদের মতে, গানটির অভিশাপের চেয়েও তৎকালীন বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক মন্দা বা ‘গ্রেট ডিপ্রেশন’ এবং চরম দারিদ্রই ছিল মানুষের আত্মহননের মূল কারণ। ঠিক একইভাবে ফিলিপিন্সের কারাওকে বারগুলিতে ফ্র্যাঙ্ক সিনাত্রার ‘মাই ওয়ে’ গানটি গাইতে গিয়ে একাধিক গায়ক খুনের শিকার হয়েছেন। গবেষকদের ধারণা, এই গানের কথার মধ্যে থাকা ঔদ্ধত্য অথবা বেসুরো গায়নশৈলী শ্রোতাদের চরম ক্ষিপ্ত করে তোলার কারণেই এমন সহিংস ঘটনা ঘটেছিল।

ভবিষ্যদ্বাণী এবং কাকতালীয় মৃত্যুরহস্য

কিছু গানের ক্ষেত্রে মৃত্যুর ঘটনা এতটাই সুনির্দিষ্ট যে তা সাধারণ কাকতালীয় বিষয়কে ছাড়িয়ে যায়। যেমন ১৯৬৪ সালের ‘ডেড ম্যানস কার্ভ’ গানটিতে গাড়ি দুর্ঘটনায় মৃত্যুর যে বিবরণ ছিল, তার ঠিক দু’বছর পর ব্যান্ডের প্রধান গীতিকার জ্যান বেরি হুবহু একই রকম সড়ক দুর্ঘটনার মুখোমুখি হন। আবার পাকিস্তানি গায়ক আমানত আলি খানের ‘ইনসা জি উঠো’ গজলটি টেলিভিশনে সম্প্রচারের পরপরই তিনি মারা যান এবং এর ঠিক চার বছর পর একই তারিখে গানটির রচয়িতা কবি ইবনে ইনশাও ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

ইতালীয় বেহালাবাদক জিউসেপ্পে তারতিনির ‘দ্য ডেভিল’স ট্রিল সোনাটা’ কিংবা বিটলসের ‘রেভোলিউশন ৯’-এর মতো গানগুলির সুরের জটিল ও বিভ্রান্তিকর লুপ মানুষের অবচেতন মনে এক তীব্র মনস্তাত্ত্বিক নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। এই সুরগুলির অদ্ভুত কাঠামো এবং মানব মনের ওপর তাদের অন্ধকার প্রভাবই মূলত এদেরকে যুগ যুগ ধরে রহস্যের বেড়াজালে ‘অভিশপ্ত’ করে টিকিয়ে রেখেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *