লক্ষ্মীর ভাণ্ডার অতীত, মাসে ৩ হাজার টাকার অন্নপূর্ণা যোজনার ফর্ম প্রকাশ করলেন মুখ্যমন্ত্রী!

রাজ্যের মহিলাদের অর্থনৈতিক স্বাবলম্বনের লক্ষ্যে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করল রাজ্য সরকার। নবান্নে আয়োজিত এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করলেন ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’-র বিস্তারিত আবেদনপত্র। মোট ১২ পাতার এই বিশদ ফর্মটি আপাতত অনলাইনে উপলব্ধ করা হয়েছে। এই নতুন প্রকল্পের হাত ধরে রাজ্যের মহিলারা প্রতি মাসে সরাসরি নিজেদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ৩ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা পাবেন।
সরকারি নির্দেশিকা অনুযায়ী, রাজ্যের যে সমস্ত মহিলারা বর্তমানে ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্পের সুবিধা পাচ্ছেন, তাঁদেরও আগামী ৯০ দিনের মধ্যে এই নতুন অন্নপূর্ণা যোজনার ফর্ম পূরণ করতে হবে। নবান্ন সূত্রের খবর, এই যোজনার মূল উদ্দেশ্য হলো গ্রামীণ ও নগর জীবনের প্রান্তিক নারীদের আর্থিক নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করা এবং তাঁদের জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন ঘটানো। তবে এই বিপুল পরিমাণ আর্থিক সহায়তার অপব্যবহার রুখতে এবং প্রকৃত উপভোক্তাদের চিহ্নিত করতে এবার আবেদনের নিয়মে আনা হয়েছে কঠোর নজরদারি।
আবেদনের যোগ্যতা ও প্রয়োজনীয় নথির কড়াকড়ি
১২ পাতার এই দীর্ঘ আবেদনপত্রে উপভোক্তা এবং তাঁর পরিবারের যাবতীয় খুঁটিনাটি তথ্য চাওয়া হয়েছে। পরিবারের সদস্য সংখ্যা, প্রত্যেকের শিক্ষাগত যোগ্যতা এবং পেশার বিবরণ দেওয়া বাধ্যতামূলক। বিশেষ বিষয় হলো, পরিবারের কোনো সদস্য যদি আয়কর প্রদান করেন, তবে সেই পরিবারের মহিলারা এই যোজনার সুবিধা পাবেন না।
আবেদনপত্রের সঙ্গে পরিবারের প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক সদস্যের ভোটার কার্ড, প্যান কার্ড, রেশন কার্ড এবং ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের বিবরণ জমা দিতে হবে। এছাড়া পাঁচ বছরের ঊর্ধ্বের সমস্ত সদস্যদের [Aadhaar Redacted] সংক্রান্ত তথ্য দেওয়া আবশ্যিক করা হয়েছে। পরিবারের কারও নামে কোনো যানবাহন কিংবা স্বাস্থ্যবিমা রয়েছে কিনা, তাও ফর্মে স্পষ্ট উল্লেখ করতে হবে। শিশুদের টিকাকরণ এবং তারা সরকারি নাকি বেসরকারি স্কুলে পড়াশোনা করছে, সেই তথ্যও যাচাই করবে প্রশাসন।
আর্থিক পরিধি ও সম্ভাব্য প্রভাব
প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তের ফলে রাজ্যের অর্থনীতিতে এক বড়সড় পরিবর্তন আসতে চলেছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। প্রতি মাসে ৩ হাজার টাকার এই প্রত্যক্ষ আর্থিক সুবিধা একদিকে যেমন সাধারণ পরিবারের ক্রয়ক্ষমতা বৃদ্ধি করবে, অন্যদিকে রাজ্যের কোষাগারের ওপর এর একটি সুদূরপ্রসারী আর্থিক চাপ তৈরি হবে। এই ফর্মের মাধ্যমে পারিবারিক বার্ষিক আয় এবং অন্যান্য সরকারি ক্রেডিট কার্ড (যেমন কিষাণ, শিল্পী বা শিক্ষার্থী ক্রেডিট কার্ড) সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করে একটি সামগ্রিক ডেটাবেস তৈরি করতে চাইছে নবান্ন।
একই সঙ্গে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে যে, সিএএ আবেদনকারীরাও এই অন্নপূর্ণা যোজনার আওতাভুক্ত হবেন এবং তাঁদের জন্যও ফর্মে নির্দিষ্ট কলাম রাখা হয়েছে। সমস্ত তথ্য পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখার পরেই উপভোক্তাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে সরাসরি টাকা পাঠানো শুরু হবে। আগ্রহী আবেদনকারীরা সরকারি পোর্টাল (https://socialsecurity.wb.gov.in/login) থেকে এই ফর্মটি ডাউনলোড করতে পারবেন।