জমি দখল ও তোলাবাজির অভিযোগে গ্রেফতার তৃণমূলের দাপুটে উপপ্রধান

জমি দখল ও তোলাবাজির অভিযোগে গ্রেফতার তৃণমূলের দাপুটে উপপ্রধান

খড়দা ব্লকের রাজনীতিতে তোলপাড় ফেলে শেষ পর্যন্ত পুলিশের জালে বন্দিপুর পঞ্চায়েতের উপপ্রধান তথা স্থানীয় তৃণমূল সভাপতি প্রসেনজিৎ সাহা। দীর্ঘদিনের অভিযোগ ও পুলিশি অনুসন্ধানের পর অবশেষে গ্রেফতার করা হলো এলাকার এই বিতর্কিত নেতাকে। ২৯ এপ্রিল বিধানসভা নির্বাচনের দিন যখন কেন্দ্রীয় বাহিনী তাঁর খোঁজে বাড়ি ঘিরেছিল, তখন থেকেই তিনি ছিলেন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। সেই সময় অধরা থাকলেও এবার পুলিশের হাত থেকে আর পার পেলেন না তিনি।

বিতর্কিত কর্মকাণ্ড ও অভিযোগের পাহাড়

দীর্ঘদিন ধরেই প্রসেনজিৎ সাহার বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর অভিযোগ উঠছিল। এর মধ্যে সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর হলো কল্যাণী এক্সপ্রেসওয়ের ধারে জলাজমি ভরাট করে তা বেআইনিভাবে বিক্রির অভিযোগ। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের দাবি, শুধুমাত্র জমি দখলই নয়, বরং এলাকায় জমি বিক্রির এক শক্তিশালী সিন্ডিকেট চালাতেন তিনি। এছাড়া বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি কাজে তোলাবাজির অভিযোগও তাঁর বিরুদ্ধে দীর্ঘদিনের। স্থানীয় রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে তাঁর প্রভাব এতটাই ছিল যে, এতদিন এসব অভিযোগ সত্ত্বেও তিনি থেকে গিয়েছিলেন ধরাছোঁয়ার বাইরে।

আইনশৃঙ্খলা ও রাজনীতির নতুন মোড়

প্রসেনজিতের এই গ্রেফতারি স্থানীয় রাজনৈতিক সমীকরণে বড় ধরণের প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। বিশেষ করে নির্বাচনের সময় থেকে তাঁর বিরুদ্ধে কেন্দ্রীয় বাহিনীর তৎপরতা এবং পরবর্তী সময়ে পুলিশি নজরদারি ইঙ্গিত দিচ্ছিল যে, আইন এবার কঠোর হতে চলেছে। এই ঘটনা একদিকে যেমন এলাকায় জনমনে স্বস্তি ফিরিয়েছে, তেমনি তৃণমূলের অন্দরেও তৈরি করেছে অস্বস্তি। জলাজমি ভরাট ও বেআইনি সিন্ডিকেটের মতো বিষয়গুলোর বিরুদ্ধে পুলিশের এই কঠোর পদক্ষেপ অদূর ভবিষ্যতে আরও প্রভাবশালী ব্যক্তিদের মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এখন দেখার বিষয়, জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে পুলিশ আর কোন কোন চাঞ্চল্যকর তথ্য উদ্ঘাটন করতে পারে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *