তিন বিঘা করিডরে কাঁটাতারের কাজে বাধা, বাংলাদেশের বিজিবি-কে কড়া হুঁশিয়ারি দিলেন মিঠুন

পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতার পালাবদলের পরপরই বাংলাদেশ সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া লাগানোর কাজ গতি পেয়েছে। তবে কোচবিহারের মেখলিগঞ্জের তিন বিঘা করিডর সংলগ্ন কলসিগ্রামে সীমান্ত সুরক্ষা বাহিনী (বিএসএফ) এই কাজ শুরু করতেই বাধা সৃষ্টি করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। সীমান্ত এলাকার এই উদ্ভূত পরিস্থিতিতে এবার ওপার বাংলার সীমান্তরক্ষী বাহিনীকে সরাসরি সতর্কবার্তা দিলেন প্রবীণ বিজেপি নেতা তথা অভিনেতা মিঠুন চক্রবর্তী। কোচবিহারের একটি ক্যানসার সেন্টার পরিদর্শনে গিয়ে এই বিষয়ে তীব্র ক্ষোভ উগরে দেন তিনি।
অনুপ্রবেশ রুখতে মরিয়া প্রশাসন
বিজেপি নেতৃত্বের দীর্ঘদিনের অভিযোগ ছিল, রাজ্যের পূর্বতন তৃণমূল সরকারের অসহযোগিতা এবং জমি না দেওয়ার কারণেই বাংলাদেশ সীমান্তে কাঁটাতার লাগানোর কাজ থমকে ছিল। ফলে লাগাতার বাড়ছিল অনুপ্রবেশের সমস্যা। তবে সম্প্রতি রাজ্যে নতুন সরকার গঠনের পর প্রথম ক্যাবিনেট বৈঠকেই সীমান্ত এলাকায় কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার জন্য জমি হস্তান্তরের সিদ্ধান্ত নেন নবনির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। প্রশাসনের এই দ্রুত পদক্ষেপের কারণে সীমান্তে অনুপ্রবেশ বন্ধের প্রক্রিয়া গতি পেলেও তিন বিঘা করিডর এলাকায় বিজিবি-র আপত্তিতে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মিঠুন চক্রবর্তী এই প্রসঙ্গে জানান, ভোটের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতি মেনেই সরকার কাজ করছে এবং যেকোনো মূল্যে অনুপ্রবেশ রোখাটাই এখন প্রধান লক্ষ্য।
কূটনৈতিক স্তরে সমাধানের চেষ্টা
বিজিবি-র তরফ থেকে কাঁটাতারের সমীক্ষার কাজে বাধা দেওয়ার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ইতিমধ্যে বিএসএফ এবং বিজিবি-র মধ্যে ফ্ল্যাগ মিটিং বা পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। মেখলিগঞ্জের স্থানীয় বিজেপি বিধায়ক দধিরাম রায়ও এই বিষয়ে বিএসএফ আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেছেন। এই টানাপোড়েনের মাঝেই মিঠুন চক্রবর্তী বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীকে হুঁশিয়ারি দিয়ে স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, ভারত তার সীমান্তে সুরক্ষাবলয় খাড়া করতে বদ্ধপরিকর। কূটনৈতিক ও প্রশাসনিক স্তরে এই বিরোধের জল কতদূর গড়ায় এবং সীমান্ত সুরক্ষার এই মেগা প্রজেক্টের ভবিষ্যৎ কী হয়, এখন সেটাই দেখার।