গল্ফগ্রিনের বন্ধ ফ্ল্যাটে ছড়াল দুর্গন্ধ, উদ্ধার লিভ-ইন যুগলের পচাগলা দেহ ও মাদক!

দক্ষিণ কলকাতার গল্ফগ্রিন থানা এলাকার অরবিন্দ নগরের একটি ফ্ল্যাট থেকে এক তরুণ ও এক তরুণীর রহস্যজনক পচাগলা দেহ উদ্ধার ঘিরে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। রবিবার দুপুরে একটি বহুতলের চারতলার ফ্ল্যাট থেকে ২৬ বছর বয়সি এম ডি দিলশাদ এবং ২১ বছর বয়সি এক তরুণীর মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, মৃত যুগল গত এপ্রিল মাস থেকে ওই ফ্ল্যাটে লিভ-ইন সম্পর্কে বসবাস করছিলেন। ঘটনাস্থল থেকে বিপুল পরিমাণ মাদক সামগ্রী উদ্ধার হওয়ায় ঘটনার পেছনে মাদকের ওভারডোজ নাকি অন্য কোনো অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র রয়েছে, তা নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে।
ঘটনাস্থলে মাদক ও রহস্যময় আঘাত
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মৃত দিলশাদের বাড়ি তিলজলায় এবং তরুণীর বাড়ি রামগড় এলাকায়। ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিশ ফ্ল্যাটের ভেতর থেকে একাধিক মাদক জাতীয় সামগ্রী উদ্ধার করেছে। তদন্তকারীদের দাবি, উদ্ধার হওয়া দেহ দুটিতে ইতিমধ্যেই পচন ধরতে শুরু করেছিল। আরও উদ্বেগের বিষয় হলো, মৃত তরুণীর মাথায় একটি আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গিয়েছে। এই আঘাত পড়ে গিয়ে লেগেছে নাকি এর পেছনে কোনো ধস্তাধস্তির ইতিহাস রয়েছে, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। মৃত্যুর সঠিক কারণ উদ্ঘাটনে দেহ দুটি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।
বন্ধুদের ভূমিকা ও সম্ভাব্য প্রভাব
স্থানীয় বাসিন্দা ও বাড়ির মালিকের বক্তব্য অনুযায়ী, এই যুগল সাধারণত ফ্ল্যাটেই থাকতেন এবং বাইরে খুব একটা বের হতেন না। তবে ওই ফ্ল্যাটে প্রায়শই বন্ধুদের যাতায়াত ছিল। ঘটনার সময়ও সেখানে দুই যুবক ও এক যুবতী উপস্থিত ছিলেন বলে জানতে পেরেছে পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ওই তিন বন্ধুকে ইতিমধ্যেই আটকে রেখে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। শনিবার রাতেও ওই ফ্ল্যাটে বহিরাগতদের উপস্থিতি টের পেয়েছিলেন প্রতিবেশীরা।
প্রাথমিক অনুমান, মাদকের অতিরিক্ত সেবনের ফলে এই মর্মান্তিক পরিণতি ঘটে থাকতে পারে, অথবা মাদকের আসরে বচসার জেরে কোনো খুনের ঘটনা ঘটে থাকা আসাম্ভব নয়। এই ঘটনার জেরে অভিজাত আবাসন এলাকায় তরুণ প্রজন্মের একাংশের অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন এবং মাদকাসক্তি নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার খবর পেয়ে মৃতদের পরিবারের সদস্যরা থানায় পৌঁছেছেন। আপাতত একটি রহস্যমৃত্যুর মামলা রুজু করে সমস্ত দিক খতিয়ে দেখছে গল্ফগ্রিন থানার পুলিশ।