জনরোষের মুখে অভিষেক, দুঃসময়ে পাশে দাঁড়ানোয় রাহুল-অখিলেশদের ধন্যবাদ জানিয়ে বার্তা তৃণমূলের

জনরোষের মুখে অভিষেক, দুঃসময়ে পাশে দাঁড়ানোয় রাহুল-অখিলেশদের ধন্যবাদ জানিয়ে বার্তা তৃণমূলের

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে পরাজয়ের পর থেকেই জাতীয় রাজনীতিতে তৃণমূল কংগ্রেসের সমীকরণ বদলাতে শুরু করেছে। একসময় লোকসভা নির্বাচন বা জাতীয় স্তরের বিভিন্ন ইস্যুতে কংগ্রেসসহ ‘ইন্ডিয়া’ জোটের অন্যান্য শরিকদের দূরত্ব বজায় রেখে চললেও, বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে সেই অবস্থান থেকে অনেকটাই সরে আসছে ঘাসফুল শিবির। সম্প্রতি সোনারপুরে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় আক্রান্ত হওয়ার পর জাতীয় স্তরের বিরোধী নেতাদের সহমর্মিতা প্রকাশ এবং তার জবাবে অভিষেকের পাল্টা সৌজন্যের বার্তা সেই ইঙ্গিতই দিচ্ছে।

সোনারপুরের জনরোষ ও হামলার বিবরণ

শনিবার সোনারপুরের কামরাবাঁধে এক নিহত দলীয় কর্মীর পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে যাওয়ার পথে নজিরবিহীন বিক্ষোভের মুখে পড়েন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। কামালগাজির কাছে প্রথমে তাঁকে কালো পতাকা দেখান স্থানীয় মহিলারা। এরপর সোনারপুরে প্রবেশ করতেই তাঁর গাড়ি লক্ষ্য করে ডিম ছোড়া হয় এবং ‘চোর’ স্লোগান ওঠে। পরিস্থিতি সামাল দিতে অভিষেক গাড়ি থেকে নেমে এক দলীয় কর্মীর বাইকে চড়ে গন্তব্যের দিকে রওনা হলে সেখানেও পুনরায় বিক্ষোভের শিকার হন তিনি। এই ঘটনায় তাঁর পোশাক ও হেলমেটে ডিম এসে পড়ে, যা রাজ্য রাজনীতিতে চরম শোরগোল ফেলে দিয়েছে।

শরিকি সহমর্মিতা ও জাতীয় স্তরে সমীকরণ বদল

অতীতে রাহুল গান্ধীর সাংসদ পদ খারিজ বা সরকারি বাসভবন ছাড়ার মতো সংকটের সময়ে তৃণমূল নেতৃত্বকে সেভাবে সরব হতে দেখা যায়নি। তবে অভিষেকের ওপর এই হামলার পর জাতীয় স্তরের ‘ইন্ডিয়া’ জোটের নেতারা দ্রুত তৃণমূলের পাশে দাঁড়িয়েছেন। কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে, রাহুল গান্ধী, সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব, হেমন্ত সোরেন এবং ডি রাজার মতো শীর্ষ নেতারা সোশাল মিডিয়ায় এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানান।

রবিবার সকালে পাল্টা পোস্টে এই নেতাদের ধন্যবাদ জানান অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। রাহুল গান্ধীকে উদ্দেশ্য করে তিনি লেখেন, দেশের সংবিধান ও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান রক্ষার লড়াইয়ে তাঁরা একসঙ্গে কাজ করবেন। অন্যদিকে অখিলেশ যাদবকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি স্পষ্ট করেন যে, মারধর করে তাঁদের মানসিকভাবে ভেঙে ফেলা যাবে না।

ঘটনার কারণ ও রাজনৈতিক প্রভাব

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিধানসভা নির্বাচনে পরাজয়ের পর রাজ্যে তৃণমূলের একচ্ছত্র আধিপত্যে যে ফাটল ধরেছে, সোনারপুরের জনরোষ তারই বহিঃপ্রকাশ। স্থানীয় স্তরে পুঞ্জীভূত ক্ষোভ এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতিই এই অনভিপ্রেত ঘটনার মূল কারণ। এর প্রভাবে জাতীয় রাজনীতিতে তৃণমূলের কৌশলগত অবস্থান অনেকটাই বদলে যাচ্ছে। একা লড়াই করার নীতি থেকে সরে এসে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ইতিমধ্যেই ‘ইন্ডিয়া’ জোটকে ঐক্যবদ্ধ করার এবং সর্বভারতীয় স্তরে ‘ফ্রি বার্ড’ হয়ে কাজ করার বার্তা দিয়েছেন। অভিষেকের এই আক্রান্ত হওয়ার ঘটনা এবং জোট শরিকদের তাত্ক্ষণিক সমর্থন তৃণমূলকে জাতীয় স্তরে পুনরায় আসন পাকা করতে এবং বিজেপির বিরুদ্ধে সম্মিলিত প্রতিরোধ গড়ে তুলতে সাহায্য করবে বলে মনে করা হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *