জুনের শুরুতেই উত্তরবঙ্গে নামছে প্রাক-বর্ষার বৃষ্টি, দক্ষিণবঙ্গে কি ফিরবে অস্বস্তিকর গরম

জুনের প্রথম সপ্তাহেই ভারতের পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোতে মৌসুমী বায়ুর আগমন ঘটতে চলেছে। তবে তার আগেই প্রাক-বর্ষার বৃষ্টিতে ভিজতে শুরু করবে উত্তরবঙ্গ। আবহাওয়া দপ্তরের সর্বশেষ পূর্বাভাস অনুযায়ী, চলতি সপ্তাহের মঙ্গলবার থেকেই উত্তরবঙ্গের জেলাগুলোতে ঝড়-বৃষ্টির দাপট তীব্র হবে, যা পরবর্তীতে ভারী বর্ষণে রূপ নিতে পারে। বিপরীত চিত্রে, দক্ষিণবঙ্গে বৃষ্টির দাপট কমে জুনের প্রথম সপ্তাহে গরম ও অস্বস্তিকর আবহাওয়া মাথাচাড়া দিয়ে ওঠার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
আবহাওয়ার জোড়া সিস্টেম ও উত্তরবঙ্গের পরিস্থিতি
আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, বর্তমানে আবহাওয়ার দুটি ভিন্ন পরিস্থিতি সক্রিয় রয়েছে। একদিকে পাকিস্তান থেকে রাজস্থান ও মধ্যপ্রদেশ হয়ে অন্ধ্রপ্রদেশ পর্যন্ত একটি অক্ষরেখা বিস্তৃত রয়েছে। অন্যদিকে, বাংলাদেশের মধ্যাঞ্চলে একটি ঘূর্ণাবর্ত অবস্থান করছে। এই জোড়া সিস্টেমের প্রভাবে উত্তরবঙ্গ এবং উত্তর-পূর্ব ভারতের রাজ্যগুলোতে প্রাক-বর্ষার অনুকূল পরিবেশ তৈরি হয়েছে।
মঙ্গলবার থেকেই দার্জিলিং, কালিম্পং এবং জলপাইগুড়িতে ঝোড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি শুরু হবে। বুধবার থেকে পরিস্থিতি আরও বদলে যাবে এবং উত্তরের ওপরের পাঁচটি জেলাতেই দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার পূর্বাভাস রয়েছে। বিশেষ করে বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার আলিপুরদুয়ার, কোচবিহার ও জলপাইগুড়িতে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সতর্কতা জারি করা হয়েছে। এই সময়ে জেলাগুলোতে ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার বেগে তীব্র ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে।
দক্ষিণবঙ্গের আবহাওয়া ও সম্ভাব্য প্রভাব
উত্তরবঙ্গে যখন বর্ষার আবহ তৈরি হচ্ছে, তখন দক্ষিণবঙ্গে পরিস্থিতি ভিন্ন দিকে মোড় নিচ্ছে। রবিবার পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম ও বর্ধমানের মতো কিছু জেলায় বিক্ষিপ্ত বজ্রবিদ্যুৎসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকলেও, সোমবার থেকে বৃষ্টিপাত ক্রমান্বয়ে কমবে। গত কয়েকদিনের ঝড়-বৃষ্টির কারণে তাপমাত্রা স্বাভাবিকের নিচে থাকলেও, আগামী ৫ই জুন পর্যন্ত দক্ষিণবঙ্গে নতুন করে তাপমাত্রা বৃদ্ধির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। ফলে সপ্তাহের মাঝামাঝি সময় থেকে দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলোতে গরমের পাশাপাশি আর্দ্রতাজনিত অস্বস্তি উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেতে পারে।
উত্তরবঙ্গে এই আগাম ভারী বৃষ্টির ফলে পাহাড়ি অঞ্চলে ধস নামার ঝুঁকি যেমন বাড়ছে, তেমনই চাষাবাদের ক্ষেত্রে এই প্রাক-বর্ষার বৃষ্টি ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে দক্ষিণবঙ্গের বাসিন্দাদের আপাতত গরম ও গুমোট আবহাওয়া সহ্য করেই বর্ষার জন্য আরও কিছুদিন অপেক্ষা করতে হবে।