২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে উলটপুরাণ সোনারপুরে, ‘সমাজসেবক’ সঞ্জুর বিরুদ্ধে এবার জমি দখলের বিস্ফোরক অভিযোগ!

সোনারপুরে তৃণমূলের নিহত কর্মী সঞ্জু কর্মকারকে আগের দিনই ‘সমাজসেবক’ বলে আখ্যা দিয়েছিলেন দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু রবিবার কাটতে না কাটতেই সামনে এল সেই সঞ্জু কর্মকারের বিরুদ্ধে ওঠা এক গুরুতর দুর্নীতির খতিয়ান। প্রতিবেশী এক পক্ষাঘাতগ্রস্ত বৃদ্ধের জমি জালিয়াতি করে দখল এবং তা একাধিকবার বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগে তোলপাড় শুরু হয়েছে কামরাবাদ এলাকায়।
আদালতের রায়কে বুড়ো আঙুল ও জমি জালিয়াতির ছক
অভিযোগ, কামরাবাদের বাসিন্দা নিখিলচন্দ্র মণ্ডল ১৯৮৯ সালে ৩ কাঠা জমি কিনেছিলেন। ২০২৪ সালে তাঁর মেয়ে নিপা মণ্ডল ও জামাই প্রদীপ সাহা জানতে পারেন, ভুয়ো নথিপত্র তৈরি করে সেই জমি নিজের নামে করে নিয়েছেন সঞ্জু। শুধু তাই নয়, সেই জমি অন্য কাউকে বিক্রিও করে দেওয়া হয়েছে। এই নিয়ে দম্পতি আদালতের দ্বারস্থ হলে আদালত তাঁদের পক্ষেই রায় দেয়। কিন্তু আদালতের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও সঞ্জু কর্মকার এবং জয় সেনগুপ্তসহ কয়েকজন তৃণমূল কর্মী জোরপূর্বক সেই জমি দখল করে রাখেন বলে অভিযোগ।
পুলিশের নিষ্ক্রিয়তা ও হুমকির মুখে অসহায় পরিবার
ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, সমস্যা সমাধানের জন্য সোনারপুর থানার পুলিশের কাছে গেলে উল্টে তাঁদের কাছ থেকে বিপুল অঙ্কের টাকা দাবি করা হয়। গত ২ বছর ধরে আইনের দরজায় ঘুরেও কোনো সুরাহা মেলেনি। উল্টে সঞ্জু ও তাঁর সঙ্গীদের কাছ থেকে লাগাতার ঘরছাড়া করার এবং বর্তমান বাসস্থানটি কেড়ে নেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছে। বাবার অসুস্থতা ও নিরাপত্তার কারণে গত ৬ মাস তাঁরা চুপ থাকতে বাধ্য হয়েছিলেন।
অবশেষে সঞ্জুর মৃত্যু ও পরবর্তী পরিস্থিতির পর রবিবার ওই দম্পতি প্রতিবেশীদের সাথে নিয়ে তাঁদের নিজেদের জমিতে যান এবং জবরদখল হয়ে থাকা গেটের তালা ভেঙে জমির নিয়ন্ত্রণ নেন। এই ঘটনায় স্পষ্ট যে, রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় থাকা এক নেতার দাপটে দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসন ও বিচারব্যবস্থাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে এক সাধারণ পরিবারকে হেনস্তা হতে হয়েছে, যার প্রভাব এখন স্থানীয় রাজনীতিতেও পড়তে শুরু করেছে।