তৃণমূলের সই-কাণ্ডে সিআইডি-র বিশেষ দল, ভবানী ভবনে কি হাজিরা দেবেন অভিষেক?

তৃণমূলের সই-কাণ্ডে সিআইডি-র বিশেষ দল, ভবানী ভবনে কি হাজিরা দেবেন অভিষেক?

রাজ্য বিধানসভায় বিধায়কদের স্বাক্ষর সংক্রান্ত বিতর্ক ক্রমশ জটিল আকার ধারণ করছে। এই সই-কাণ্ডের তদন্তে এবার আরও গতি আনতে পাঁচ সদস্যের একটি বিশেষ তদন্তকারী দল বা ‘সিট’ গঠন করেছে সিআইডি। সিআইডি-র ডিআইজি পদমর্যাদার এক শীর্ষ আধিকারিকের নেতৃত্বে এই দল অভ্যন্তরীণ নির্দেশের ভিত্তিতে কাজ শুরু করেছে। তদন্তের গুরুত্ব এবং সংবেদনশীলতা বিবেচনা করেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল। এই তদন্ত প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ভবানী ভবনে তলব করা হয়েছে, যা বর্তমান রাজ্য রাজনীতিতে ব্যাপক আলোড়ন তৈরি করেছে।

তদন্তের গতিপ্রকৃতি ও সিআইডি-র তৎপরতা

গোটা বিতর্কের সূত্রপাত বিধানসভায় জমা পড়া একটি চিঠিকে কেন্দ্র করে। রাজ্যের বিরোধী দলনেতা হিসেবে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের নির্বাচন সংক্রান্ত ওই চিঠিতে কয়েকজন বিধায়কের স্বাক্ষরের সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। স্বাক্ষর নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হওয়ায় বিধানসভার পক্ষ থেকে হেয়ার স্ট্রিট থানায় আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করা হয়। কলকাতা পুলিশের হাত ঘুরে পরবর্তীতে তদন্তভার যায় সিআইডি-র কাছে। সিআইডি ইতিমধ্যেই নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়, কুণাল ঘোষ এবং বাহারুল ইসলামের মতো একাধিক নেতার বক্তব্য নথিবদ্ধ করেছে এবং তাঁদের স্বাক্ষরের নমুনা সংগ্রহ করেছে। কোন পরিস্থিতিতে এবং কী প্রক্রিয়ায় ওই চিঠিতে সই করা হয়েছিল, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।

অভিষেকের হাজিরা নিয়ে রাজনৈতিক জল্পনা

এই মামলার তদন্তে তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভূমিকা এখন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। গত শনিবার সিআইডি-র প্রতিনিধি দল তাঁর দক্ষিণ কলকাতার বাসভবনে গিয়ে সোমবার দুপুর ১২টায় ভবানী ভবনে হাজির হওয়ার নোটিস দিয়ে আসে। তবে নির্ধারিত সময়ে তিনি হাজিরা দেবেন কি না, তা নিয়ে তীব্র রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক জল্পনা তৈরি হয়েছে। কারণ, নোটিস পাওয়ার পরই শনিবার সোনারপুরে রাজনৈতিক কর্মসূচিতে গিয়ে হামলার মুখে পড়েন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই ঘটনায় আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসার পর বর্তমানে তিনি বাড়িতেই চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এই শারীরিক পরিস্থিতির কারণে তদন্তকারীদের মুখোমুখি তিনি আজ হবেন কি না, সেটাই এখন দেখার। এই সই-বিতর্ক এবং অভিষেকের পরবর্তী পদক্ষেপের ওপরই আগামী দিনে রাজ্যের প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক সমীকরণ অনেকাংশে নির্ভর করছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *