নারীদের জন্য আজ থেকেই বিনামূল্যে সরকারি বাস, ‘জিরো’ টিকিটের সুবিধা পেতে লাগবে যে নথিগুলো!

আজ ১ জুন থেকে পশ্চিমবঙ্গের সরকারি বাসে নারীদের জন্য সম্পূর্ণ বিনামূল্যে যাতায়াত পরিষেবা চালু হয়েছে। নতুন সরকারের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী এই জনকল্যাণমূলক উদ্যোগের সূচনা ঘটল। এর ফলে রাজ্যের যেকোনো প্রান্তের স্থায়ী বাসিন্দা নারীরা সরকারি বাসে ভ্রমণের জন্য আর কোনো ভাড়া দেওয়ার প্রয়োজন বোধ করবেন না। দৈনন্দিন যাতায়াত থেকে শুরু করে দূরপাল্লার সফর, সব ক্ষেত্রেই এই বিশেষ সুবিধা মিলবে।
পশ্চিমবঙ্গ পরিবহন নিগমের (ডব্লিউবিটিসি, এনবিএসটিসি, এসবিএসটিসি) অধীনস্থ সব ক্যাটাগরির বাসে এই নিয়ম কার্যকর হয়েছে। শহরের ভেতরের ছোট রুট এবং দূরপাল্লার সমস্ত বড় রুটের বাসেও নারীরা বিনামূল্যে যাতায়াত করতে পারছেন। এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো নারীদের আর্থিক সাশ্রয় ঘটানো এবং তাদের যাতায়াত ব্যবস্থা আরও সহজ করে তোলা। কর্মজীবী নারী, ছাত্রী, গৃহবধূ থেকে শুরু করে প্রবীণ নাগরিক—সব স্তরের নারীরাই এই প্রকল্পের আওতায় আসছেন।
পরিচয়পত্র ও ‘জিরো’ টিকিট সংগ্রহ
এই সুবিধা পাওয়ার জন্য রাজ্য সরকারের নির্দেশিকা অনুযায়ী নারীদের একটি বিশেষ পরিচয়পত্র ব্যবহার করতে হবে। তবে কার্ডটি নির্দিষ্টভাবে হাতে না পাওয়া পর্যন্ত সাময়িকভাবে মিলবে ‘জিরো ভ্যালু টিকিট’। বাসের কন্ডাকটরের কাছে প্রয়োজনীয় নথি দেখালেই তিনি এই বিশেষ টিকিটটি যাত্রীকে বুঝিয়ে দেবেন, যেখানে যাত্রী ওঠার ও নামার স্থান উল্লেখ থাকবে কিন্তু কোনো ভাড়া নেওয়া হবে না। এই নতুন ব্যবস্থা সুচারুভাবে পরিচালনার জন্য রাজ্যের বাস কন্ডাকটর ও চালকদের বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে এবং সরকারি বাসগুলোর বাইরে প্রয়োজনীয় নথির তালিকাও ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে।
যেসব নথি প্রদর্শন করতে হবে
বিনামূল্যে এই যাতায়াত সুবিধা কিংবা কার্ড পাওয়ার জন্য ভোটার কার্ড, গ্রামীণ কর্মসংস্থান জব কার্ড, আয়ুষ্মান ভারত হেলথ কার্ড, ড্রাইভিং লাইসেন্স, প্যান কার্ড, পাসপোর্ট, ছবিসহ পেনশনের নথি, স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিশিয়াল পরিচয়পত্র কিংবা [Aadhaar Redacted] এর মতো যেকোনো একটি সরকারি পরিচয়পত্র প্রদর্শন করতে হবে। এর সাথে প্রয়োজন হবে একটি সাম্প্রতিক রঙিন পাসপোর্ট সাইজ ছবি।
অর্থনৈতিক ও সামাজিক প্রভাব
পরিবহন দপ্তরের কর্মকর্তাদের মতে, এই প্রকল্প চালুর ফলে সরকারি গণপরিবহন ব্যবস্থার প্রতি নারীদের আগ্রহ ও স্বাচ্ছন্দ্য অনেক বাড়বে। নিত্যদিনের যাতায়াত খরচ বাঁচলে সংসারের অন্যান্য প্রয়োজনীয় খাতে সেই টাকা ব্যয় করা সম্ভব হবে বলে সাধারণ নারীরা এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন। শিক্ষা, কর্মসংস্থান এবং বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডে নারীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ বাড়াতে এই সিদ্ধান্ত অত্যন্ত ইতিবাচক এবং সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।