শুভেন্দুর মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণে উত্তরবঙ্গের জয়জয়কার, আলিপুরদুয়ারে অকাল দীপাবলি

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর প্রথম মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণে এক নজিরবিহীন রাজনৈতিক সমীকরণ দেখল পশ্চিমবঙ্গ। সোমবার রাজভবনে রাজ্যপাল আরএন রবির হাত ধরে নতুন ৩৫ জন মন্ত্রী শপথ গ্রহণ করার পর স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে যে, বর্তমান সরকার উত্তরবঙ্গকে প্রশাসনিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্ব দিচ্ছে। গত ৯ মে ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে মুখ্যমন্ত্রী পদে শুভেন্দু অধিকারীর শপথগ্রহণের পর থেকেই এই মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণ নিয়ে জল্পনা ছিল তুঙ্গে। নতুন এই রদবদলে উত্তরবঙ্গের একঝাঁক হেভিওয়েট ও তরুণ মুখকে ক্ষমতার অলিন্দে নিয়ে আসা হয়েছে।
আলিপুরদুয়ারে উৎসবের আমেজ ও উত্তরবঙ্গের দাপট
এই মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণে সবচেয়ে বড় চমক দেখিয়েছে আলিপুরদুয়ার জেলা। জেলা থেকে একযোগে তিন-তিনজন বিধায়ক— ফালাকাটার দীপক বর্মন, কুমারগ্রামের মনোজ ওরাওঁ এবং কালচিনির বিশাল লামা মন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন। একই জেলা থেকে তিন ভূমিপুত্র মন্ত্রিসভায় ঠাঁই পাওয়ায় আলিপুরদুয়ার জুড়ে কার্যত অকাল দীপাবলির পরিবেশ তৈরি হয়েছে। গভীর রাত থেকেই দলীয় কার্যালয়ের সামনে কর্মী-সমর্থকদের আতশবাজি ও আবির খেলার উল্লাস ডুয়ার্সের চা বলয়ের রাজনৈতিক গুরুত্বকেই পুনর্ব্যক্ত করছে।
আলিপুরদুয়ারের পাশাপাশি শিলিগুড়ির হেভিওয়েট বিধায়ক শংকর ঘোষকে পূর্ণমন্ত্রীর তালিকায় আনা হয়েছে। তুফাঙ্গঞ্জের আদিবাসী নেত্রী মালতি রাভা রায় পেয়েছেন স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রিত্ব। এছাড়াও উত্তরবঙ্গ থেকে প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে জুয়েল মুর্মু, আনন্দময় বর্মন এবং বিশাল লামাকে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা উত্তরবঙ্গের অবহেলা ও বঞ্চনার অভিযোগ দূর করতেই শুভেন্দু সরকার এই অঞ্চল থেকে একঝাঁক প্রতিনিধিকে প্রশাসনে যুক্ত করল, যা আগামী দিনে এই অঞ্চলের চা বলয় ও আদিবাসী অধ্যুষিত এলাকার উন্নয়নে বড় প্রভাব ফেলবে।
কনিষ্ঠতম মন্ত্রী করণদিঘির বিরাজ
সমগ্র শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানের অন্যতম প্রধান আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন উত্তর দিনাজপুরের করণদিঘির ৩২ বছর বয়সী বিধায়ক বিরাজ বিশ্বাস। রাজ্যের কনিষ্ঠতম মন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়ে তিনি নতুন নজির গড়েছেন। রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ ও এবিভিপি-র ছাত্র রাজনীতি থেকে উঠে আসা বিরাজ দাড়িভিট আন্দোলনের অন্যতম লড়াকু মুখ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। আন্দোলনের জেরে তাঁকে জেলও খাটতে হয়েছিল। তাঁর এই লড়াকু মানসিকতা এবং সাংগঠনিক দক্ষতার পুরস্কার হিসেবেই তাঁকে এই গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। লোকভবনে শপথগ্রহণ পর্ব শেষ হতেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে সমস্ত নতুন মন্ত্রীরা নবান্নে জরুরি ক্যাবিনেট বৈঠকের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন, যেখানে নতুন মন্ত্রীদের দফতর বণ্টন চূড়ান্ত করা হবে।